প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-09-17 11:35:09 BdST | Updated: 2018-10-15 19:47:39 BdST

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড) কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ করেছে কোটা পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।

সচিবালয়ে সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিফিংয়ে কমিটির প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোনো কোটা না রাখার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ওই গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম কেবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই সুপারিশে অনুমোদন দিলে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।’

তবে ১৪ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত চাকরিতে কোটা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বলে এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। যেহেতু এটি সরকারের পলিসিগত ব্যাপার। সে কারণে এটিতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।’

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘তাদের বেলায় কোটা না হলেও সমস্যা হবে না। সরকার চাইলে তাদেরকে কোটা দিতে পারবে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার চেয়ে নিয়মিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে শাহবাগে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দিনভর অবস্থানে শাহবাগ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

ওইদিন রাতে ঢাবি ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। রাতে আন্দোলনের সময় ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনেও হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত।

পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে বসেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানান। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় তারা ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

এর মধ্যে ৭ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে জানান, কোটা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

তার এই বক্তব্যের জের ধরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ৯ মে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন।

১০ মে’র মধ্যে কোটা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ১৩ মে থেকে সারাদেশের সব স্কুল-কলেজে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন তারা। তবে ওই দিনই (৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক তিন দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।

এরপর কোটা সংস্কার-পর্যালোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এ কমিটির প্রধান ছিলেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।