বাগেরহাটে ছাত্রলীগ কর্মীকে ছুরি মেরে হত্যা


Bdnews24.com
Published: 2019-10-19 00:57:02 BdST | Updated: 2019-11-20 15:42:47 BdST

বাগেরহাট সদর উপজেলায় ‘পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের’ ছুরিকাঘাতে এক ছাত্রলীগকর্মী খুন হয়েছেন।

সদর থানার ওসি মো. মাহাতাব উদ্দীন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় খান জাহান আলী মাজার মোড়ে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তালিম মল্লিক (১৯) সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সিংড়াই গ্রামের ইয়াছিন মল্লিকের ছেলে। দুই বছর আগে স্থানীয় খানজাহান আলী মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে বর্তমানে মোটর ড্রাইভিং শিখছিলেন।

তালিমের বন্ধু আমিনুল ইসলাম নিজেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেন, “সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রতিদিনের মত আমি আর তালিম মাজার মোড়ে চা খেতে যাই। এর কিছুক্ষণ পরে তালিম তার মোবাইল ফোনে ফ্লেক্সিলোড করার কথা বলে উঠে যায়। পথে মাজার গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা নামে এক তরুণ তার বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

“আমি সেখানে দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. রাফিউল হাসান বলেন, “তালিমকে হাসপাতালে আনার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার বুকের বাম দিকে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে।”

নিহত তালিমের সঙ্গে কথিত রাজার দুই দিন আগে বিরোধ হয় বলে জানিয়েছেন তালিমের চাচা ইলিয়াস মল্লিক।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তবে সেই বিরোধটা কী তা জানতে পারিনি। সেই বিরোধের জেরে আমার ভাতিজাকে রাজা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।”

তারা রাজার ঠিকানা বা ফোন নম্বর বলতে পারেননি। এ কারণে কথিত ওই রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিয়ান আল সুলতান ওশান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তালিম ছাত্রলীগের সব ধরনের কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতেন। তালিম ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

পুলিশ খুনি ধরতে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. মাহাতাব উদ্দীন।

তিনি বলেন, “তালিম তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। নিহতের পরিবার রাজা নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে এই হত্যার অভিযোগ করেছে। কী কারণে ওই তরুণ তালিমকে ছুকিাঘাত করল তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান, জেলা যুবলীগের আহ্বাবায়ক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।