দাবি না মানায় আবারও অনশনে শিক্ষকরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2019-10-21 22:07:45 BdST | Updated: 2019-11-21 10:00:37 BdST

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের আমরণ অনশনে বসেছেন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা অনশনে বসেন।

এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী নীতিমালা সংশোধন করতে সম্মত হলেও বর্তমান নীতিমালায় ইতিমধ্যে এমপিও চূড়ান্ত করায় তা বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানান মন্ত্রী। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আবারও অনশনের ঘোষণা দেন তারা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক’শ শিক্ষক খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তারা বলেন, সর্বশেষ ২০১৮ সালে যে এমপিও নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে তা বাস্তবতার আলোকে করা হয়নি। নীতিমালায় প্রচুর ভুল এবং অসংগতি রয়েছে। আর এ কারণে আমাদের দাবি এই নীতিমালাটি সংশোধন করে নতুন নীতিমালার আলোকে এমপিওভুক্ত করা হোক। অন্যথায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রেখে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এদিকে শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহামুন্নবী ডলার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১৮ অক্টোবর (শুক্রবার) আমরা অনশনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। পরে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের মোবাইল ফোনে বৈঠকে বসে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। আমরা তার আশ্বাস পেয়ে অনশন স্থগিত করি। এরপর রবিবার সন্ধ্যায় আমাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে মন্ত্রী যা বলেছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এ কারণে আজ থেকে আবারও অনশনে বসেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও দেয়া হবে। বিদ্যমান এমপিও নীতিমালা সংশোধন করা হবে। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিবছর এমপিও দেয়া হবে। তবে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এ বছরের এমপিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নাই। এর ব্যত্যয় করা হলে আদালতে মামলা হবে। ফলে যোগ্য বিবেচিত হওয়া সকল এমপিও বন্ধ হয়ে যাবে। সে জন্য শিক্ষকদের আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

কিন্তু মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আবারও অনশনে বসেছেন শিক্ষকরা। একযোগে এমপিওভুক্তির দাবিতে ১৪ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা।

জানা গেছে, এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও সায় দেওয়া হয়েছে। এখন যেকোনো সময় এমপিওভুক্তির ঘোষণা হতে পারে। এমপিওভুক্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় পাঁচ লাখ। স্বীকৃতি পেলেও এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। আর স্বীকৃতি না পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আরও কয়েক হাজার। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন চলছে।

টিআই/ ২১ অক্টোবর ২০১৯