জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অবান্তর: নওফেল


Dhaka
Published: 2019-11-09 21:21:48 BdST | Updated: 2019-11-18 20:47:32 BdST

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য যেখানে অর্থ ছাড় হয়নি সেখানে দুর্নীতি হবে কিভাবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এসময় জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অবান্তর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উপমন্ত্রী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এখনও অর্থ ছাড় হয়নি, তাই উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অবান্তর। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে এখনও পর্যন্ত সরকারের একটি টাকাও খরচ হয় নাই, সেখানে কিভাবে আমরা বলতে পারি যে উপাচার্য অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন?’

মিথ্যা অভিযোগ অপরাধ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে মিথ্যা অভিযোগ করলে দণ্ড পেতে হবে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে মিথ্যা অভিযোগ করলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সাজাও হতে পারে।’

নওফেল অভিযোগ করে বলেন, ‘নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে। আন্দোলনের নামে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার সম্পর্কে আমরা সজাগ আছি। একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে নিজেদের রাজনীতি করছে। ওনারা অভিযোগ করেছেন আমরা সে অভিযোগ পেয়েছি। ন্যায়বিচার করতে হলে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে। অভিযোগ করেই তারা ভিসির অপসারণ চাচ্ছেন। এখন ভিসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে যারা অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের নামে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না উল্লেখ করে নওফেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে স্বাভাবিকভাবে চলছে সেখানে নতুন করে সেশনজট শুরু হলে এটি শিক্ষার্থীদের জন্যই খারাপ হবে। যারা আন্দোলন করছে তারা শিক্ষার্থীদের ভালো চায় না।’

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে উপমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়ার পরও তারা কেন ক্যাম্পাস ছাড়েনি? কেন তারা একজন সম্মানিত শিক্ষকের বাসভবনের সামনে সারারাত কনসার্ট করেছে? তার পুরো পরিবারকে জিম্মি করে রেখে একটি অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একজন নারীকে বারবার অবমাননা করা হচ্ছে। যারা এমনটা করছে তাদের ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আন্দোলনের পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে সেটি সরকার জানে। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে কোন কিছু এখন আর অজানা নয়। কারা কারা কথা বলে এই আন্দোলনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে, সেটি আমরা জানি। তাদের অবশ্যই ধরা হবে।’

উল্লেখ্য, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবি নিয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।