এদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


Dhaka
Published: 2020-02-18 04:31:50 BdST | Updated: 2020-04-07 23:18:20 BdST

এদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, তারা জঙ্গিদের যেমন আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না তেমনি তাদের কাজকে বিশ্বাস করে না বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা যখন হচ্ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে বললেন। দেশের জনগণকে ডাক দিলেন। অভূতপূর্ব সাড়া আমরা দেখলাম। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না আর এদের কাজকে বিশ্বাসও করে না।’

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু আয়োজিত ‘জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ মিলনায়তনে বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত হয়।

স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হলি আর্টিজান, আশুলিয়া, শোলাকিয়া মাঠসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়েছিল। এরপর তারা শুরু করল টার্গেট কিলিং। যেখানে তারা টার্গেট করেছিল ধর্মীয় নেতাদেরকে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়া এবং একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করা। যেভাবে তারা বিভিন্ন মুসলিম দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়নি বলেই আমাদের সুবিধা হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্যে আজকের এই জায়গায় আসার।’

এর আগে অনুষ্ঠানে ‘ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম ফান্ডিং ইন সাউথ এশিয়া: এ কম্পারেটিভ স্টাডি অফ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’ শীর্ষক গবেষণা অভিসন্দর্ভ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিয়ান রেজা সারবিয়েত।

অভিসন্দর্ভে তিনি দক্ষিণ এশিয়াতে জঙ্গিবাদের অর্থায়নে মূল উৎসগুলো কী, এই দেশগুলো উৎসগুলোকে চিহ্নিত করতে এবং তা প্রতিরোধ করতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা তুলে ধরেন। প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে বক্তা তার গবেষণায় বাংলাদেশের দুটি (আনসার-আল ইসলাম ও জামাতুল মুজাহিদীন), ভারতের দুটি (জাইশ ই মুহাম্মদ ও লস্কর ই তাইয়্যিবা) এবং পাকিস্তানের দুটি (তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান ও হরকত উল জিহাদ আল ইসলাম) জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়নের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন। এছাড়াও তিন দেশের উল্লেখযোগ্য জঙ্গি হামলা এবং এর আগে ও পরে জঙ্গি অর্থায়নে এই দেশগুলোর সরকারের তৎপরতা আলোচনা করেন। বক্তা তার গবেষণার মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারগুলোর কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডাকসু ল অ্যান্ড পলিটিক্স রিভিউয়ের এডিটর ইন চিফ মো. আজহার উদ্দীন ভূঁইয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রুহুল আমিন, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্স ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামাল হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।