'২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ সেবা অনলাইনে দেওয়া হবে'


Dhaka
Published: 2020-05-31 23:57:27 BdST | Updated: 2020-07-12 04:49:04 BdST

সামনের দিনগুলোতে নতুন টেকনোলজি হিসেবে ব্লকচেইনের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সম্প্রতি “জাতীয় ব্লকচেইন স্ট্র্যাটেজি ২০২০” প্রকাশ করেছে। এই ব্লকচেইন পরিকল্পনায় বিভিন্ন খাতে কিভাবে এই টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় এবং কিভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে এবং কিভাবে এই নীতিকে ভবিষ্যতে আরো ভালো করে তৈরি করা যেতে পারে তা নিয়েই ডাকসু ল এন্ড পলিটিক্স রিভিউ এর উদ্যোগে ৩১ মে ২০২০ একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নি এবং ডাকসু ল অ্যান্ড পলিটিক্স রিভিউ এর প্রধান সম্পাদক মোঃ আজহার উদ্দিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় রবিবার (৩১ মে) রাতে ডাক্সু ল এন্ড পলিটিক্স রিভিউ কর্তৃক আয়োজিত “ব্লকচেইন ইন বাংলাদেশঃ পলিসি রোডমেপ ফর ইনোভেশন এণ্ড এডাপ্টেশন” শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় আইনের শিক্ষক ব্যারিস্টার মোরশেদ মান্নান এবং আইসিটি ডিভিশনের নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সামি আহমেদ। এ আয়োজনে ডাকসুর নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন এবং ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৯০ পার্সেন্ট সার্ভিসকে অনলাইন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সেইসাথে ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরি সহ দেশের প্রায় ৯০ পার্সেন্ট মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনার জন্যও কাজ করছে এ সরকার”।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের ৬৪ টি জেলায় ইতিমধ্যে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এবং ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ট্রেনিং সেন্টারে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স করার মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পথে এগিয়ে যেতে পারবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির স্তম্ভ হিসেবে স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ, সেন্টার অব এক্সিলেন্স অন ইমার্জিং টেকনলজিস সহ আরও বিভিন্ন উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।“

সামি আহমেদ জানান, ব্লকচেইন বা ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনলজির বলতে ডিজিটাল তথ্যের বিতরণ খতিয়ান বোঝায় যেখানে ডিজিটাল তথ্যগুলো বিভিন্ন কম্পিউটার “ব্লক” বা “স্টোরে” সংরক্ষণ করে রাখা হয় এবং ব্লকগুলো একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। ডিজিটাল তথ্যের স্থায়ী এবং সহজে অপরিবর্তনীয় রেকর্ড রাখার জন্য ব্লকচেইন বা ডিস্ট্রিবিউটেড লেজার টেকনলজির (ডিএলটি) ব্যবহার করা সম্ভব। পরবর্তিতে বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এ সংরক্ষিত তথ্যগুলো ব্যবহার করা হবে। ব্যারিস্টার মোরশেদ মান্নান বলেন ব্লকচেইনের আইনী বিভিন্ন জটিলতা ও এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ সরকার নতুন নতুন ডিজিটাল টেকনলজির প্রয়োগের প্রতি জোর দিচ্ছে। এই ধারায় গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে “ন্যাশনাল ব্লকচেইন স্ট্রেটেজি ২০২০” গ্রহণ করা হয়।