নুরকে ক্ষমা চাইতে বললো এডিটরস গিল্ড


Dhaka
Published: 2020-10-15 09:14:17 BdST | Updated: 2020-10-22 02:40:44 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের একাত্তর টেলিভিশন ও কিছু গণমাধ্যম বয়কটের ডাকে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে এডিটরস গিল্ড।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ-এর সভাপতি মোজাম্মেল বাবু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে গিল্ড সদস্যরা বলেন, ‘একাত্তর টেলিভিশনের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের বিষয়ে টকশোতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা বিশ্বাস করি সেই অধিকার তার রয়েছে। কিন্তু সেই টেলিভিশনসহ আরও কিছু মিডিয়াকে বর্জন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুর যে তৎপরতা চালিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘একাত্তর টিভির যে সাংবাদিক তাকে টকশোতে আমন্ত্রণ জানাতে যোগাযোগ করেছিলেন তার ফোন নম্বর ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নুর গর্হিত অপরাধ করেছেন। প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদীচক্র এখন সেই নম্বরে ক্রমাগত কল করে অশ্লীল বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নুরের এই তৎপরতা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি কি ভুলে গেছেন আজ তার পরিচিতির পেছনে গণমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নুরকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নেয়া এই অবস্থানের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো তিনি যেমন কিছু গণমাধ্যম বর্জনের ডাক দিয়েছেন তেমনি গণমাধ্যমও তাকে বর্জন করতে পারে।’

এর আগে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। সংগঠনটির সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

তারা বলেন, কোনো টেলিভিশনের টকশো’র আমন্ত্রণ তিনি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। কিন্তু সেই টেলিভিশনকে বয়কট করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুর যেভাবে নোংরা তৎপরতা চালিয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একাত্তর টিভির ফোন নম্বর ফেসবুকে শেয়ার করে তিনি গর্হিত অপরাধ করেছেন। সেই নম্বরে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদীচক্র ক্রমাগতভাবে অশ্লীল বক্তব্য ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নুর এ ঘটনায় স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন।

ডিইউজে নেতারা বলেন, একাত্তর টেলিভিশনের বিরুদ্ধে নুরুল হক নুরের আহ্বান থেকে সরে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে তাকে গণমাধ্যমের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।