নানা উত্থান-পতনে পূর্ণ হলো সরকারের ৪ বছর


সময় টিভি
Published: 2018-01-12 11:37:55 BdST | Updated: 2018-01-21 12:36:58 BdST

নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলা হলেও জাতীয় ও রাজনৈতিক নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে সরকারের বয়স এখন চার বছর। দেশে বিদেশে নিজেদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ সরকার দাড়িয়েছে শক্তিশালী একটি ভিতের উপর। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সুসংহত একটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, খুন, গুম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানবাধিকার, জঙ্গি তৎপরতা ও সুশাসনের বিষয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির প্রশ্নে আছে বেশ ফাঁরাক।

বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বর্জন আর সহিংসতার মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সামাল দেয়ার পাশাপাশি সরকারকে দেশে বিদেশে মোকাবেলা করতে হয় হলি আর্টিজানের মতো বড় জঙ্গি হামলা। অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির ক্ষত এখনো নিত্যপণ্যের বাজারে। অস্বস্তি বেড়েছে বিচার বিভাগের সঙ্গে। জনমনে স্বস্তি কিংবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের গতিশীলতা থাকলেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সেটা কিছুটা ম্লান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্রমে উন্নত হয়েছে। অন্তত সংসদ সংক্রান্ত দুইটি আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশে থেকে দু'জন ব্যক্তি শীর্ষ হয়েছেন। এতে বলা যায়, সারা বিশ্ব বাংলাদেশের এই সংসদকে বৈধতা দিয়েছেন।’


সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকার যে তিনটি সমস্যা লাভ করেছেন এই গুলোতে কোনো উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এই তিন মধ্যের একটি হলো বাংলাদেশের সংঘাতের রাজনীতি বিরাজ করছে। আর দুই নাম্বার হলো- বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো বিরাজ করছেন। এছাড়াও গত চার বছরে সুশাসনের সমস্যার জন্য দেশে কোনো উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের প্রতি শীতল সম্পর্ক দেখালেও উন্নয়নমুখী নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার সবার কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তোলে। গেলো বছর থেকে সবচে বড়ো কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে। সুরাহায় এখনো বহুপথ বাকী, তবে বাংলাদেশের তৎপরতাকে আপাত সঠিক বলছেন কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হুমায়ূন কবির বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে এই পর্যন্ত সরকারের স্বাভাবিক কূটনীতি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কার এটা সরকারকে সাধুবাদ দিতে হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের পাশে কারা ছিলো; তার একটি নমুনা দেখা গেছে।

এছাড়া সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মর্যাদার সঙ্গে সুস্পর্ক তৈরি, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে সরকার। তবে সক্রিয় বিরোধী দলের অভাবে সংসদীয় গনতন্ত্রকে কার্যকর করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

টিআই/ ১২ জানুয়ারি ২০১৮

Loading...

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।