গবেষণা নয়, বিসিএসের গাইড বইয়ে মগ্ন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-05-14 14:24:21 BdST | Updated: 2018-08-16 18:26:30 BdST

বিজ্ঞান গবেষণায় আগ্রহ কমছে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনকারী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের। প্রচলিত চাকরির বাজারে চার-পাঁচ বছরের বিজ্ঞান পাঠের লক্ষ্যই যেন চাকরির যোগ্যতা। উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হতে না হতেই তুলে নিচ্ছেন চাকরির বই, ফলে ভাসা ভাসা থেকে যাচ্ছে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানটুকুও।

ফলে একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন মারাত্মকভাবে হোচট খাওয়ার আশঙ্কা শিক্ষাবিদদের। এর জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক চাকরির বাজার সৃষ্টি, উচ্চতর গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের আবাসিক ভবন শহীদুল্লাহ হলের পাঠ কক্ষ এটি। বইয়ের পাতায় গভীর মনোযোগী শিক্ষার্থীরা সবাই বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ছাত্র। যাদের অধিকাংশেরই পড়া-লেখা শেষ পর্যায়ে। যে সময় তাদের থাকার কথা গবেষণাগার কিংবা প্রশিক্ষণ মাঠে, তখন বইয়ের পাতায় মুখ গুজে কি পড়ছেন তারা?


বিজ্ঞান বিভাগের এই পাঠ কক্ষে পওয়া গেলনা একটিও বিজ্ঞানের বই। যেদিকেই চোখ যায় থরে থরে সাজানো প্রচলিত চাকরি সম্পর্কিত নানা রকম বই।

ছাত্রদের কয়েকজন বলেন, বিসিএস এবং ব্যাংকের জন্য চাকরির পড়াশোনা করছি। পাঁচ বছরে যে লেখাপড়া করেছি তার কোন কিছুই কাজে লাগছে না আর আমার। বিসিএসই আমার মেইন টার্গেট।

এমন বাস্তবতায় প্রথম বর্ষ থেকেই পড়ার টেবিলে একাডেমিক বইয়ের পরিবর্তে উঠছে চাকরির বই, যেন চাকরিতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনই উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য অনেকের কাছে।

চাকরির পড়ার সাথে বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা-পড়ার সমন্বয় না থাকার কারনে বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশুনার উদ্দেশ্য সম্পূর্নরূপে ব্যহত হচ্ছে বলে মনে করেন এই গবেষক। তার মতে, উচ্চতর গবেষনায় বরাদ্দ কম ও বিজ্ঞান ভিত্তিক চাকরির বাজার না থাকায় কাজে লাগছেনা অর্জিত জ্ঞান।

ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল (ডীন, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, তাদের পাঠ্যপুস্তকের সাথে চাকরির কোন মিল না থাকার কারণে বিজ্ঞানের ছাত্ররা বিজ্ঞানের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। কর্মের নতুন সংস্থান করতে হবে, শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সম্ভাবনাময়ী এই শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষনায় আগ্রহী করতে না পারলে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই যুগে প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ এমন আশঙ্কা প্রবীণ এই শিক্ষাবিদের। সূত্র: সময় সংবাদ।

এইচএম/ ১৪ মে ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।