ছয় বছর বয়সী সুবর্ণকে স্বীকৃতি দিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-05-27 17:14:20 BdST | Updated: 2018-08-16 18:28:42 BdST

মাত্র ছয় বছর বয়সে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেল সুবর্ণ আইজ্যাক। চলতি মাসের শুরুতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড: ডিল গিলপিন ফাউস্টের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায় সুবর্ণ। এবারই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয় ছয় বছরের একটি ছেলেকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মাত্র দেড় বছর বয়সেই তাক লাগিয়ে দেয় সুবর্ণ। ওই বয়সেই রসায়নের পর্যায় সারণি তথা কেমিস্ট্রি পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেলে। তার বয়স যখন তিন, তখন লেবুর সাহায্যে ব্যাটারি এক্সপেরিমেন্ট করে। আর সাড়ে তিন বছর বয়সে বিখ্যাত একটি কলেজের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পেয়েও যায় সে।

এখানেই শেষ নয়, ২০১৫ সালে পিএইচডি স্তরের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছিল সুবর্ণ। এর আগে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের সিটি কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. লিসা কোইকো সুবর্ণকে ‘আমাদের সময়ের আইনস্টাইন’ নামে অভিহিত করেন।

এইটুকুন বয়সে এতসব কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়েই চলতি বছরের ২ মে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড: ডিল গিলপিন ফাউস্টের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে সুবর্ণ। ইতোমধ্যে ভয়েস অব আমেরিকাসহ বিশ্বের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোকে সাক্ষাৎকার দিয়েছে সুবর্ণ।

সুবর্ণর বাবা রাশীদুল বারীর নিবাস চট্টগ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য নিউ ইয়র্কে ব্রংকসের লিমন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বারুক কলেজে অংকের অ্যাডজাংকট অধ্যাপক। একই সঙ্গে নিউভিশন চার্টার হাই স্কুল ফর অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্সে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। তার স্ত্রী রেমন বারী ব্রংকস কমিউনিটি কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। ২০১২ সালের নয় এপ্রিল এই দম্পতির কোল আলো করে পৃথিবীতে আসে সুবর্ণ।

মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই সুবর্ণ জানান দিতে থাকে তার অনন্য মেধার। বাবা রাশীদুলের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে সুবর্ণ। সে সময় তার বয়স দেড় বছর। জ্বর বেশি হওয়ায় নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ সময় বাবা রাশীদুল ছেলেকে সান্তনা দেওয়ার জন্যই বলছিলেন, ‘আই লাভ ইউ মোর দ্যান এনিথিং ইন দ্য ইউনিভার্স।’ সুবর্ণ তার বাবাকে পাল্টা প্রশ্ন করে, ‘ইউনিভার্স অর মাল্টিভার্স?’ ছেলের মুখে পাল্টা প্রশ্ন শুনে চমকে যান বাবা রাশীদুল।

তখনো তিনি জানতেন না সুবর্ণ তিন বছর বয়সে অংক, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে দক্ষতা দেখিয়ে সারা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেবে। আরও একটি ঘটনা জানা যায় বাবা রাশেদুলের কাছ থেকে। মা রেমন একদিন সুবর্ণকে অংক শেখাচ্ছিলেন। হঠাৎ সুবর্ণ প্রশ্ন করে, ‘ইফ ওয়ান প্লাস ওয়ান ইকুয়াল টু টু, দ্যান টু প্লাস টু ইকুয়াল টু ফোর এবং এন+এন ইকুয়াল টু টুএন, তাই না?’ বাবা রাশীদুল তখন পাশের রুমে তার ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন।

ছেলের এমন প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে অ্যাডভান্সড ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স শেখাতে শুরু করেন বাবা। আর এভাবেই মাত্র দুই বছর বয়সে সে রসায়নের পিরিয়ডিক টেবিল মুখস্থ করে ফেলে। এ অবিশ্বাস্য কথাটি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্ময়কর প্রতিভার কথা জানতে পারেন মেডগার এভার্স কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড পোজম্যান। তিনি সুবর্ণর মেধা যাচাই করতে চান।

সুবর্ণ পর্যায় সারণির সব এলিমেন্ট বলে পোজম্যানকে অবাক করে দেয়। এরপর সুবর্ণর ডাক পড়ে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ থেকে। সেখানে সাবরিনা চোধুরী ডোনা তার ইন্টারভিউ নেন এবং বছরের সেরা কনিষ্ঠ ইন্টারভিউ হিসেবে তারা এটা বাছাই করে। বর্তমানে সুবর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হইচই ফেলে দিয়েছে।

রাশেদুল বারী জানান, সুবর্ণ এখন মিলটন ফিল স্কুলে প্রিকেতে পড়ে। কিন্তু তার বয়স কম হলেও সে বড়দের অংক কষে। তার বাবার অংক ভুল ধরে। ভাই ব্রুকলিন টেকে পড়ে তারও ভুল ধরে। এ ছাড়াও সে ইউটিউবসহ অন্যান্য অংকেও ভুল ধরে। নিজের পঞ্চম জন্মদিনে সুবর্ণ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছ থেকে উপহার পেয়েছে। এমনকি আজ, জাতিসংঘের সাবেক সভাপতি কফি আনানের কাছে থেকে একটি চিঠি পেয়েছে, যাকে বাবা ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছে।

বর্তমানে সুবর্ণ বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করছে। এগুলো হলো - নজরুল তৈরি করছে, একটি হুমায়ূন যুক্ত রোবট তৈরি করছে, এবং দ্য প্রেমের শিরোনাম একটি বই লিখেছে। বাবা রাশেদুল বারী জানান, তার ছেলের এই সাফ্যলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ভীষণ খুশী। সুবর্ণর একমাত্র বড় ভাই রিফাত আলবার্ট বারীর বয়স ১২ বছর। সেও অসাধারণ মেধার অধিকারী। সপ্তম গ্রেডে পড়ছে এবং সাতটি ভাষায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।