ইসলামের শিক্ষাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-07-12 02:46:11 BdST | Updated: 2018-10-15 19:05:17 BdST

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের শিক্ষাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ধর্মের শিক্ষা মানুষের কাছে যেন উচ্চ আসনে থাকে সেটা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু কিছু লোক নিজস্ব স্বার্থে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের জন্য, সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

বুধবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় আশকোনা হজক্যাম্পে হজ কার্যক্রম ২০১৮ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন পবিত্র হজব্রত পালনে মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ যখন ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ড করে এবং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তখন বিশ্বে মুসলমানদের হেয় হতে হয়।

‘পবিত্র ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এই ধর্মেই আছে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজ নিজ ধর্র্ম পালন করবে। আমাদের নবী করিম (সা.) ও সে কথা বারবার বলে গেছেন। কিন্তু, তারপরেও কিছু কিছু মানুষের অপকর্মের জন্য ইসলামকে অবমাননা করা হয়। যে অধিকার কারোরই নাই’ -বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা এ সময় জাতির পিতার ভাষণের একটি উদ্বৃতি দিয়ে ইনসাফের ইসলাম কায়েমের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক বেতার ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করিমের (সা.) ইসলাম, যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতি বছর আমি অপেক্ষা করে থাকি যারা হজে যাবেন তাদের সঙ্গে একটু সাক্ষাৎ হবে এবং আপনাদের কোনো অসুবিধা থাকলে শুনে নেব এবং সেই সাথে আপনাদের দোয়াও চাইব।

তিনি বলেন, আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে আপনারা যাবেন নবী করিম (সা.) পবিত্র রওজা পাক জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন সেটাই আমাদের আকাঙ্খা।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ’৭৫ -এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক অধ্যায়ের উল্লেখ করে সেদিনের শাহাদত বরণকারীদের জন্য হজযাত্রীদের কাছে দোয়া কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা তাদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসীব করেন।’ ‘জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয় নাই এবং ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন’ -বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি- আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই, এই দেশের মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে- সেটাই আমার লক্ষ্য। এবং গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কি পরিমান উন্নয়ন হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ইসলামের প্রচারে জাতির পিতার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী প্রেরণ করেন। যদিও সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার দূরদর্শীতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।

জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ করেন। ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কোরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর সালেহ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মওলানা মিজানুর রহমান দেশ, জাতি এব মুসলিম উন্মহির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগগ্রতি এবং ’৭৫-র ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারি জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসাসরিক কর্মকর্তা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হজে গমনেচ্ছুরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এসএম/ ১২ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।