‘অজানা আশঙ্কায়’ কোটা নিয়ে দ্রুত সমাধান চান নাসিম


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-07-17 09:03:16 BdST | Updated: 2018-10-22 00:34:35 BdST

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে অজনা আশঙ্কা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘এখানে কোনো কিছু হলেই, কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে যাবে। আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।’

সোমবার (১৬ জুলাই) বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেখ হাসিনার কারা অন্তরীণ দিবসের আলোচনা ও ২১ জুলাই গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় কোটা সংস্কার/পর্যালোচনা/বাতিলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নাসিম বলেন, তা নাহলে মদ্যপরা সুযোগ নিতে পারে।

চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করে সরকার। ওই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরই মধ্যে কমিটির সদস্যরা এক দফা বৈঠকও করেছেন।

‘অজানা আশঙ্কায়’ কোটা নিয়ে দ্রুত সমাধান চান নাসিম

 

কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও এ নিয়ে আন্দোলনে থাকার কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছেন না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আন্দোলনরতদের ধৈর্য ধরতে হবে। কোটা সংস্কারের জন্য যে চক্রান্ত হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই, তরুণদের উস্কানি দিতে ফেসবুক নামক একটি যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষকে উদ্বেলিত করা হচ্ছে।’

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা জড়িত আছেন তাদেরকে বলবো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন কোটা থাকবে না। সংবিধানকে তো উপেক্ষা করতে পারবেন না। সংবিধানে আছে কোটার ব্যবস্থা, সারা দুনিয়াতে আছে। তারপরও নেত্রী বলেছেন, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে কমিটি করে দিয়েছেন পর্যন্ত। অধৈর্য হওয়ার কি আছে? ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কাজ করছেন। চাইলেই তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। যারা এ কথাগুলো বলেন তারা মদ্যপ। সংবিধানে থাকা অবস্থায় আমাদেরকে এটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারটি বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে অধৈর্য হওয়ার কি আছে? মিছিল মিটিং করার কি আছে?’

কোটা সংস্কার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে নাসিম বলেন, ‘তারপরও কেউ যেন এটার কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে বলবো আর দয়া করে মাঠ ছেড়ে যাবেন না। বিশ্বকাপে খেলা হলো না? কাল শেষ হয়ে গেলো। আমি খেলা দেখা বাদ দিছিলাম। ব্রাজিল নেই, আর্জেন্টিনা নেই- এই খেলা দেখে লাভ কি বলেন?

‘আমি একটা কথা বলি মেসি কিন্তু পেনাল্টি মিস করেছে, নেইমারও ঠিকমতো গোল দিতে পারে নাই। সামনে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। একেবারে ফাইনাল খেলা হবে। কিন্তু সেদিন শেখ হাসিনা কিন্তু পেনাল্টি মিস করবে না। সে জানে গোলটা কিভাবে ঠিক মতো দিতে হয়। তাই বিএনপিকে বলবো মাঠে আসেন। খালি মাঠে খেলতে আর ভালো লাগে না। খালি মাঠে খেলতে আর চাই না। মাঠে আসেন, দেখবো কে জেতে? আর কে হারে?’

নির্বাচন কমিশনের হাতে নির্বাচনের সময় নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে বলে কমিশনকে রেফারির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেফারি হবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের কথায় পুলিশ টুলিশ কেউ চলবে না। ওই তিন মাস সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে নির্বাচন কমিশন। তো ভয়পান কেন? রেফারি বিশ্বকাপে হলুদ কার্ড দেখায়, লাল কার্ডও দেখায়। ওই রেফারির বাইরে কারও কিছু করার নেই।’

‘তাই আমি খালেদা জিয়াকে বলবো ফাউল আর করবেন না। ফাউল করলে বাংলাদেশের জনগণ এবার লাল কার্ড দেখায় দেবে ইনশাল্লাহ্। লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। এক বিশ্বকাপ শেষ হলো সামনে ডিসেম্বরে আরেক বিশ্বকাপ শুরু হবে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জনগণ এবার আমাদের পক্ষে থাকবে।’

এসময় তিনি আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে সংগঠিত থাকার আহ্বন জানান। সেই সঙ্গে আসছে ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনায় লাখে লাখে মানুষ জমায়েত হবে বলে আাশাবাদ প্রকাশ করেন।

এসএম/ ১৭ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।