সাশ্রয়ী মূল্যের ভেন্টিলেটর তৈরি করল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী


Dhaka
Published: 2020-04-19 12:16:51 BdST | Updated: 2020-07-03 05:28:28 BdST

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার রোগীর চিকিৎসায় দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের সংকট রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে আনা ভেন্টিলেটরের দাম অনেক। এ অবস্থায় ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ঢাকা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্য সানি জোবায়ের তৈরি করেছেন স্বল্পমূল্যর ভেন্টিলেটর ।

নিজের উদ্ভাবিত এই সাশ্রয়ী ভেন্টিলেটর সম্পর্কে সানি জুবায়ের বলেন, ভেন্টিলেটর বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

শুধু যে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ তেমন না অনেক ক্যাটাগরি থাকে। বর্তমানে করোনা চিকিৎসার জন্য যেটা প্রয়োজন তা হলো ভেন্টিলেটরের সাহায্যে ফুসফুসে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করা।

তার তৈরি ভেন্টিলেটর পুরোপুরি এই কাজ করতে সক্ষম বলে দাবি করে বলেন, ভেন্টিলেটরের নলটা যখন শ্বাসযন্ত্রে ঢোকানো হবে তখন নির্দিষ্ট সময়ে বাতাসের প্রেশার, শ্বাস-প্রশ্বাসের রেট সিলেক্ট করে দেওয়া যাবে।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের শুধুমাত্র শ্বাসক্রিয়া চালানোর কাজে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমার এই ভেন্টিলেটরটি শুধু এই কাজটাই করতে সক্ষম তাই এটি ব্যবহার করলে অনেক করোনা রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভেন্টিলেটরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য এটিতে আইপিএস ব্যবহার করা যাবে।

তিনি জানান, একটি ভেন্টিলেটর মাত্র সাত হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এর আরও উন্নয়ন করা যাবে। সরকারের সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করলে খরচ আরও কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জোবায়ের জানান, ভেন্টিলেটর তৈরির সময় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে চাহিদা অনুযায়ী এই ভেন্টিলেটর তৈরি করা হয়েছে।

কিভাবে ভেন্টিলেটরটি কাজ করছে তার একটা ভিডিও আমি ওই চিকিৎসককে পাঠিয়েছি। তারা বলেছে ঠিক আছে, এভাবেই ভেন্টিলেটর কাজ করে।

শিক্ষার্থীর এমন উদ্ভাবনে সকল ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে এমন আবিষ্কার সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ঢাকা কলেজের জন্যও গর্বের ব্যাপার। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা এবং শুভকামনা থাকবে।

প্রসঙ্গত, সানি জোবায়ের ‘টিম অ্যাটলাস’ এর প্রতিষ্ঠাতা। টিম লিডার হয়ে সে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান, মেক্সেলারেশন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আয়োজিত টেকনিভ্যাল ২০১৮-তে চ্যাম্পিয়ন এবং ন্যাশনাল রোবটিক ফেস্টিভ্যাল ২০১৭-তে চ্যাম্পিয়ন হয়।

ন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াড ২০১৯ এ স্বর্ণ জয়, ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াড ২০১৯ এ ব্রোঞ্জ জয় করেন। এ ছাড়া তারই নেতৃত্বে ২০১৯ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থান করে।