একাদশে ভর্তির সময় আবার বাড়ল


Dhaka
Published: 2020-09-19 16:57:21 BdST | Updated: 2020-10-22 18:34:09 BdST

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি তথ্য নিশ্চিত করার সময় (নিশ্চায়ন) বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি নিশ্চায়ন করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যার যার কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সময় বাড়ল।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, কলেজে ভর্তির নিশ্চায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে। আসলে এটি কলেজে ভর্তির সময় বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে প্রথম দফায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি জন্য ১৩, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরে সেই সময় বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। এবার ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তি হতে পারবে।

এদিকে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একাদশে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের আপাতত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা প্রশংসাপত্র জমা দিতে হবে না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুবিধামতো সময়ে এসব কাগজ কলেজে জমা দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। কোভিড-১৯ মহামারির উন্নতি হলে সুবিধামতো সময়ে সত্যায়িত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রশংসাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নিতে বলা হয়েছে। তবে কোটা পাওয়া শিক্ষার্থীদের অবশ্যই কোটাপ্রাপ্তির উপযুক্ত প্রমাণ সনদ দাখিল করে ভর্তি হতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

করোনার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হয় গত ৯ আগস্ট সকালে। ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে ভর্তি কার্যক্রম।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহায়তায় এবারও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কলেজ ও মাদ্রাসার ভর্তির কাজটি হচ্ছে। আর টেলিটক সিমের মাধ্যমে এসএমএস করে আবেদন করা গেছে। পছন্দক্রম দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে পেরেছিলেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে এবার ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার কোটা ছাড়া অন্য কোটা থাকবে না। তবে প্রতিবন্ধী, বিকেএসপির শিক্ষার্থী, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে অসামান্য সাফল্যের অধিকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য তাদের সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

গত ৩১ মে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়। এতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী, যারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছে।

ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ভর্তির জন্য আসন আছে ২২ থেকে ২৩ লাখ। তাই উচ্চমাধ্যমিকে আসন নিয়ে সমস্যা হবে না। কারণ, আসন খালি থাকবে। তবে সংকট হলো, ভালো কলেজগুলোয় আসন কম। সেখানেই হবে তীব্র প্রতিযোগিতা।

চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল ৯৫ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আলাদাভাবে এইচএসসি ভোকেশনাল, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করছে।

সে হিসাবে এসএসসি ও দাখিল পাস করেছে ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৮ জন, যাদের মধ্যে ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৩ জন প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছিল। ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৩১ জন শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে এইচএসসি বা আলিমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেনি।