সেশনজটে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-07-02 12:52:07 BdST | Updated: 2018-07-17 15:54:24 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ে পিছিয়ে পড়ছেন। তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষার্থীরা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে চাকরি নিলেও শিক্ষাজীবনই শেষ করতে পারছেন না। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়ছে তাদের জীবন।

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নানা ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হলেও সেশনজটের খপ্পরে পিছিয়ে পড়ছেন অধিভুক্ত এসব শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, অনার্স এবং মাস্টার্স করতে প্রায় ১০ বছর লেগে গেছে। তাদের চাকরিতে আবেদনের বয়স প্রায় শেষ। সেশনজটের কারণে হারানো বয়স ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হোক।

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া না হওয়া নিয়ে আলোচিত ছিল। অনেক বেশি আন্দোলন হয়েছে অধিভুক্ত হওয়ার পরে ওই কলেজগুলোর পরীক্ষা সময়মতো নেওয়ার দাবিতে। অব্যাহত আছে এ দাবি। এ আন্দোলন করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এ সাত কলেজ অধিভুক্তির শুরুতে ক্লাস, পরীক্ষা, ফল নিয়ে সংকট তৈরি হলেও এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী যথারীতি সব অনুষ্ঠিত হবে এমন আশ্বস্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সেশনজট শূন্যতে নামিয়ে আনা, মাস্টার্সে এক বিষয়ে যারা ফেল করেছে তাদের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাসের নিয়ম অনুসরণ, বিভিন্ন স্তরের সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া এবং ফল প্রকাশ এবং লাইব্রেরি ও পরিবহনে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এসব দাবি নিয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী বিজিত শিকদার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার। যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরীক্ষার নিয়মকানুনেও বৈষম্য। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ না করে মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এক বিষয়ে ফেল করার পরও যদি মোট সিজিপিএ ২.৫ বা তার বেশি পায়, তা হলে পাস হিসেবে গণ্য করা হয় ঢাবির শিক্ষার্থীদের। কিন্তু অধিভুক্ত সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করা হয়নি।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা ২৭ জুন হওয়ার কথা থাকলেও এটা পেছানো হয়েছে। এখনো পরীক্ষার পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তিথি জানান, ২০১৪-১৫ সেশনের অনার্সের ৩য় বর্ষের পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

সরকারি কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী তাসমিয়া জানান, ২০১৬-১৭ সেশনের ডিগ্রি ১ম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কবে হবে? তাও জানেন না। এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি ২০১৩-১৪ সেশনের ডিগ্রির ৩য় বর্ষের পরীক্ষা।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের পরীক্ষা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফল প্রকাশ হচ্ছে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হওয়ার পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় লাগছে প্রতিটি বর্ষ শেষ করতে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শুরুতে পরীক্ষা নেওয়া ফল প্রকাশ নিয়ে যে সমস্যা ছিল, তা সমাধান হয়েছে। এখন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে। তবে আন্দোলন যারা করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এই সরকারি কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

এর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। এ জন্য দুটি অন্যতম কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক. নতুন অধিভুক্ত কলেজগুলোর কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য প্রশাসনিক জটিলতা, দুই. ওইসব কলেজের শিক্ষার্থীদের নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় প্রদান।

বিভেদ নিরসনে সাত কলেজের ক্ষেত্রে ঢাবির নির্দেশনা হচ্ছে- অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নিজ নিজ কলেজের/ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্ব স্ব কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচালিত হবে। এসব শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরিচয়পত্র দেওয়া হবে না। তারা আগের মতো নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পাঠাগার প্রভৃতির কোনোটিই ব্যবহার করার সুযোগ নেই। তারা আগের মতো নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা গ্রহণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ব্যবহারিক পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রভৃতি নিজ নিজ কলেজ ক্যাম্পাসে/সুবিধাজনক স্থানে হবে। তাদের শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমও নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে।

টিআই/ ০২ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।