টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ফোনালাপ ফাঁস ষড়যন্ত্র : জাবি প্রক্টর


টাইমস ডেস্ক
Published: 2019-09-17 11:16:46 BdST | Updated: 2019-10-22 09:38:41 BdST

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে ছাত্রলীগের ফোনালাপ ফাঁসকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল হাসান।

সোমবার দুপুরে (১৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রক্টর। এ সময় ফোনালাপটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জাবির শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা।

ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁসের কয়েক ঘণ্টা পরই ফাঁস হয় জাবির প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতার অন্তরের ফোনালাপের অডিও। একের পর এক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও অডিও তাদের নিজস্ব কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ফোনালাপে ছাত্রলীগের পদত্যাগে করা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের বলে খবর প্রকাশিত হয়।

এরইমধ্যে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পড়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ঘটনার সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নামে টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গোপনভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ খুবই গুরুতর, তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে গত (শনিবার ১৪ সেপ্টেম্বর) জাবির কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পদ ছাড়তে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিশন কেলেঙ্কারির ঘটনায় জাবি উপাচার্য দায় এড়াতে পারেন না। একজন উপাচার্যের কাছে ছাত্রনেতারা কীভাবে কমিশন দাবি করার সাহস পান, ছাত্রলীগের সঙ্গে উপাচার্য কীভাবে বৈঠক করেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

গত শনিবার জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও আচার্যকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে। শনিবার বেলা ১২টার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিকে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম। তদন্তে আমার কোনো সমস্যা নেই।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের এ অভিযোগ তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ক্যাম্পাসে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য। গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি। আলোচনায় আন্দোলনকারীদের দুই দফা দাবি মেনে নিলেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে বুধবার পর্যন্ত সময় নেন।

জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর প্রকল্পটি নিয়ে চলছে আলোচনা ঝড়। ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকে পাস করা হয় ওই উন্নয়ন প্রকল্পটি। যাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪৪৫ কোটি টাকা। বলা হয়, অনুমোদনের পর পরবর্তী সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়ন করা হবে এ প্রকল্পটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উন্নত ‘মডেল’ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই এমন প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানানো হয়।

এমএন/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯