ইভ্যালির স্বপ্নযাত্রার গল্প


Dhaka
Published: 2020-01-15 04:24:07 BdST | Updated: 2020-04-06 17:35:16 BdST

সাভারের অদূরে তার বাড়ি, লেখাপড়া রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এইচএসসি শেষ করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর। তারপর ২০১১ সালে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি। মাঝখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ। ব্যাংকে কাটিয়েছেন ৬ বছর! এরপর ছেড়েছেন চাকরি। এর মধ্যে ডায়াপার ব্যবসা থেকে যাত্রা করে বড় স্বপ্ন পূরণের পথে হেঁটে চলা মোহাম্মদ রাসেলের বিগ অনলাইন শপিং মল ইভ্যালির জন্ম। 

গল্পের শুরু

আমি ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়ীক মনন নিয়ে গড়ে উঠেছি! আমার প্রথম বিজনেসটা শুরু হয় ডায়াপার বিজনেস দিয়ে। তখন আমি ব্যাংকে চাকরি করছিলাম। এরপর থেকে আস্তে আস্তে এগিয়ে চলা। ২০১৬ থেকে মূলত আমার ব্যবসাটা শুরু হয়। ২০১৭ সালে এই ব্যবসা করতে গিয়ে মাথায় আসে বড় একটি প্ল্যাটফর্মের কথা। সেখান থেকে ইভ্যালির যাত্রা।

উদ্যোক্তা হওয়ার পথে

আমি সাইফুরসে ক্লাস করাতাম ২০০৯-১১ সালে। এরপর ব্যাংক জীবন। মনে হচ্ছিল, আমার জন্য সেরা জায়গা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসজীবন থেকেই আমি উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করেই সে সাহস পাচ্ছিলাম না। এজন্য আমার দরকার ছিল বিজনেস প্ল্যান, বিজনেস সাপোর্ট, ট্রেডিং, ইমপোর্ট, এক্সপোর্ট, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে অভিজ্ঞতা। সে কারণে একটি ব্যাংকে ৬ বছর চাকরিতে ছিলাম। ব্যাংক থেকেই আমি সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। মূলত উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে কয়েক বছর চাকরি করেছি। সেখানে আমার স্থায়ী হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তাই চাকরি ছেড়ে দিই।

ইভ্যালির নামকরণ

আমার স্ত্রী আর আমি দুজন মিলেই নামটা দিয়েছি। খুব ব্যতিক্রম মনে হয়েছে নামটা। আমরা দুই ভাই, এক বোন। আমার পরিবারটাই এখন ইভ্যালি, আমার স্ত্রী শামীমা নাসরিন ইভ্যালির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর আমার ছেলে রেহান জাফির। ওর বয়স সাড়ে সাত বছর।

ইভ্যালি যে কারণে ব্যতিক্রম

আমাদের ব্যবসাটা মূলত রিটেইলার ভিত্তিক আবার কাস্টমার ভিত্তিক। রিটেইলাররা এই প্ল্যাটফর্মে তাদের অনলাইন স্টোর খুলে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। গ্রাহকেরা সাধারণত যে সাইট থেকে পণ্য কিনে থাকেন, সেই সাইটের সঙ্গেই যোগাযোগ করে থাকেন। আমাদের প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকেরা চাইলে সেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই পণ্য কিনতে পারবেন। অর্থাত্ তারা এখানে দোকানগুলোর খোঁজও পাবেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য পরামর্শ

আমার কাছে ‘হার্ডওয়ার্কার’ এই গুণটাকেই সবগুলোর মূল মনে হয়। প্রতিযোগিতার এই বাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মের হার্ড ওয়ার্কার হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ইভ্যালির স্বপ্ন হলো সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে যাওয়া। আমাদের লক্ষ্য ৬৪ জেলায় তরুণদের নিয়ে টিম হবে।

আমরা কেউ উদ্যোক্তা হয়ে জন্মাই না। আমাদের সাহস আমাদের আগামী গড়ার প্রত্যাশা দেখায়। ভালো কাজ করুন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করুন।

ইভ্যালিকে নিয়ে ভবিষ্যত্ ভাবনা

আমি চাই, ইভ্যালি একদিন এমন পর্যায়ে যাবে, যেখানে গিয়ে ইভ্যালি একদিন বন্ধ থাকলে মানুষ আন্দোলন করবে। অর্থ্যাত্, এই দেশের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে চায় ইভ্যালি। মাত্র একবছর হতে যাওয়া একটা কোম্পানি হিসেবে গ্রোথ দেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্সগুলোর মতো বা তারচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের অ্যামাজন হবে ইভ্যালি। বিশ্বাস করি, ইভ্যালির বিজয় নিশ্চিত। আমি মনে করি, সেটা সম্ভব। আমাদের কোম্পানি একসময় বিশ্বের শীর্ষ ১০ ই-কমার্স কোম্পানির মধ্যে থাকবে।