এখনো নিরক্ষর সোয়া ২ কোটি মানুষ


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2020-09-08 10:53:39 BdST | Updated: 2020-10-21 21:29:38 BdST

সরকারি হিসাবে প্রতিবছরই সাক্ষরতার হার বাড়লেও দেশের প্রায় সোয়া দুই কোটি মানুষ পুরোপুরি নিরক্ষর। যাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি। বিরাট এই জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান দিয়ে কবে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না। উল্টো করোনা সংক্রমণের কারণে এ বছর সাক্ষরজ্ঞান দেওয়ার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাধারণত সাক্ষরজ্ঞান বলতে বোঝায়, যারা মাতৃভাষায় পড়তে ও লিখতে পারে। মনের ভাব লেখায় প্রকাশ করতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজের হিসাব-নিকাশ করতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। সর্বশেষ গত সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত ১০ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করে তুলতে দেশে এখন একটি প্রকল্প চলছে। এর আওতায় ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ মানুষকে সাক্ষরজ্ঞান দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, নিক্ষরতার দূরীকরণে নানা উদ্যোগ নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। স্থানীয় প্রশাসনকেও এসব কাজে যুক্ত করা হয়েছে।

সাক্ষরতার এমন পরিস্থিতির পাশাপাশি করোনার কারণে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান গত এপ্রিল-মে মাসে শিক্ষাসংকটের ওপর একটি জরিপ করেছিল। তাতে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা ১১৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ১১টি শিক্ষক সংগঠন অংশ নেয়। জরিপের তথ্য বলছে, করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এক গবেষণা বলছে, করোনার পর সারা বিশ্বের প্রায় এক কোটি শিশু স্কুলে ফিরবে না।

সার্বিক বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ হলেও এখনো প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজন নিরক্ষর। ফলে এই হার নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। আর প্রকল্পের ভিত্তিতে নয় স্থায়ী ও টেকসই কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে নিরক্ষরতা দূরীকরণের কাজটি করতে হবে। সূত্র: প্রথম আলো