জারুল গাছের পরিচিতি ও উপকারিতা


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-03-23 05:12:13 BdST | Updated: 2019-04-20 14:45:24 BdST

"আর কিছু ঋণ হবো জারুল গাছে।" কী সেই গাছ? পরিচিতিই বা কী? ঢাবি ক্যাম্পাসে কোথায় বেশি পাওয়া যায় সেই গাছ?

জারুল গাছ। গ্রামবাংলায় জারুল গাছ একটি অতি পরিচিত নাম। প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখতে জারুল ফুলের কোনো জুড়ি নেই। জারুল সাধারণত জমির আইলে পরিত্যক্ত অবস্থায় এমনিতেই জন্মায়। পাপড়ির নমনীয় কোমলতায় দৃষ্টিনন্দন বর্ণচ্ছটা নিয়ে প্রকৃতিকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে জারুল ফুল। পাতাঝরা বড় আকারের বৃক্ষ। বাকল মসৃণ ও রং ধূসর বা পিতাভ ধূসর। ফুল বেগুনি। কাঠ শক্ত মসৃণ ও টেকসই। সহজে কাজ করা যায়। পানির নিচেও ব্যবহার করা যায়। গাছের উচ্চতা ৮০ থেকে ১০০ ফুট বা তদূর্ধ্ব।

জারুলকে বলা হয় বাংলার চেরি। কি অপূর্ব হয়ে ফুটে। চোখ ভরে যায় তার রুপে। ঢাবি ক্যাম্পাসে যখন ফুটতে থাকে, তখন ঢাবির মল চত্বর থেকে চোখ ফেরানো দায়। বেগুনি রঙের আগুন কি হয়? হওয়া উচিত। জারুল যেন বেগুনি আগুন। আমাদের কেন জারুল উৎসব হয়না, চেরি উৎসবের মত! একপাশে জারুল আরেক পাশে কৃষ্ণ চুড়া, একটু না হয় সোনালু। উফ কি অপূর্ব।

গ্রীষ্মের দিনে ঢাবির কলা ভবনের লোহার বাউন্ডারি দেয়াল ঘেঁষে একটানা চলে গেছে জারুল গাছের সারি। গ্রীষ্মের আগুন তাপে চোখ ধাঁধানো বেগুনী।

জারুল ফুল আর ফলের বিপুল সমাহার গ্রীষ্মে প্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য মনোরম মর্যাদা। পাশাপাশি রসালো আম, জাম, কাঁঠাল ও ফলফলাদির সঙ্গে ফুলের মাধ্যমে প্রতি বছর নয়নাভিরাম অস্তিত্বের জানান দেয়। জারুল ফুল এ মৌসুমেরই অন্যতম দৃষ্টিনন্দন। গরমের মাত্রা যতই বাড়ছে জারুল ফোটার তীব্রতা ততই বাড়ে। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে জারুলের মুগ্ধতা কমতে থাকে।

আর নয়নাভিরাম দৃশ্য গাঁওগ্রামের পাশপাশে আলপথ মেঠোপথে ঘুরে-ঘুরে বুকে ধারণ করে প্রকৃতিপ্রেমিকরা। জারুল সবুজ ও বাকল হালকা ময়লা বাদামি বর্ণের। আর ছয়টি মুক্ত পাপড়িতে গঠিত এই ফুল। জারুল গাছে ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন মাসে। ফল পরিপক্ব হয় অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে। জারুল দৃষ্টিনন্দন শোভায় সবাইকে মোহিত করে। জারুল ফুলের আকৃতি ভিন্ন হলেও ফুলের রং সাধারণত কচুরি ফুলের মতো বেগুনি হয়ে থাকে। এক সময় জারুল বেশ দেখা যেত, এখন কোথাও কোথাও দেখা মিললেও তেমন একটা দেখা মিলে না। প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বাড়ি-ঘর বানানোর কাজে, লাঙ্গল, পুল, নৌকা, ট্রাক, বাসের বডি তৈরিতে জারুল কাঠ ব্যবহার করা হয়। এই কাঠ অতি উন্নতমানের। জারুল গাছের পাতা ও বাকলে ট্যানিন আছে। বেগুনি রঙের ফুলের জন্য ঘন পল্লবের জন্য সড়কের ধারে এবং জলাশয়ের পাড়ে ও পলিমাটিতে এ গাছ ব্যাপক হারে লাগান যায়। উন্নতমানের খুঁটি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

জারুল একটি ঔষধি গাছ বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতা মানব কল্যাণে জারুল উপকার সাধন করে। এক দিকে সৌন্দর্য আরেক দিকে ঔষধি গুণ বৈজ্ঞানিক নাম : লেজারোস্ট্রোমিয়া (Lagerstroemia Fles-reginac). লাইথ্রেসি (Lythraceae), ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়া এবং মাটির আনুকূল্যে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানত চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলের নিন্ম এলাকায় এবং সোনারগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহা-সড়কে ধারে জারুল গাছ ব্যাপক পাওয়া যায়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।