বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যে ৫টি দক্ষতা অর্জন করা চাই


Dhaka
Published: 2019-12-15 21:33:06 BdST | Updated: 2020-02-17 15:17:07 BdST

যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন খেয়াল করলাম কিছু দক্ষতা এখানে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। আবার কোনো কোনো দক্ষতা রয়েছে যা আরও দশজন থেকে এগিয়ে রাখে এই পর্যায়ে। আমার এসব পর্যবেক্ষণের সাথে পাঠকের মতামত না-ও মিলতে পারে!

১. ইংরেজি শেখা: ইংরেজি একটা হাতিয়ার যা ব্যবহার করে নিজের চিন্তাভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ইংরেজি বই পড়তে পারলে পড়াশোনার দুনিয়াটাও খুলে যায় অনেকাংশে। সেটা যে শুধু একাডেমিক পড়াশোনা, তা না। ইংরেজি নন-একাডেমিক বই পড়াও কিন্তু বেশ মজাদার একটা ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়েই বই পড়তে হয় বা পরীক্ষায় লিখতে হয় ইংরেজিতে। তাই ইংরেজিটা শিখে নেওয়া বাকি পড়াশোনা সহজ করে দেয়। আমি এখন মোটামুটি যতটুকু যা পড়তে বা লিখতে পারি এই ভাষাটি, তাও পারতাম না বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকে। পড়াশোনার বিষয়ব্স্তু আমার কাছে মূল ঝামেলা ছিল না; মূল সমস্যা ছিল ইংরেজি না পারা।

২. কম্পিউটার বিষয়ক দক্ষতা: বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময়ই প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। সেক্ষেত্রে পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড প্রস্তুত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এ জন্য দরকার হয় মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট বা গুগল স্লাইডের মতো অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা। অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে জানতে হয় ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার, যেমন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা লিব্রে অফিস। হিসাব-নিকাশের জন্য এক্সেল বা স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম কাজে দেয়। ডেটা অ্যানালাইসিসের জন্য প্রোগ্রামিং জানা থাকলে ভালো। বাংলা এবং ইংরেজিতে টাইপ করতে জানলে সেটাও প্রচুর সময় বাঁচায়। আমি নিজেও এখন ডেটা অ্যানালাইসিসের জন্য এক্সেল আর পাইথন ভাষা শিখছি।

৩. মঞ্চভীতি কাটানো: আমি যে জিনিসটি জানি সেটি আরও দশজন মানুষের সামনে উপস্থাপনের উপায় হলো মঞ্চে কথা বলা বা উপস্থাপন দক্ষতা। এমন একটা সময় ছিল, মঞ্চে কথা বলতে হবে দেখে মাথা নিচু করে থাকতাম। আর সেই আমিই এই বছর দুটি উপস্থিত বক্তৃতা বিষয়ক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছি। মঞ্চভীতি কাটানো খুব কঠিন ব্যাপার না। প্রথমেই মনে করে নিতে হয় আমার সামনে যারা আছে তারা আমার মতোই মানুষ, আমার মতোই খায়দায়, বাথরুম করে, ঘুমায়। আর তারপর কয়েকবার মঞ্চে কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই এই মঞ্চভীতি কেটে যাবে—এই আশা তুমি করতেই পারো।

৪. লেখালেখি দক্ষতা: লেখালেখি শুধু যারা লেখক হবে, তাদের জন্যই না, যে পেশাতেই তুমি যাও না কেন, লেখালেখি দক্ষতা কাজে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় এসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতায় ভালো করতে হলে লিখতে জানা চাই; অন্তত সহজ ভাষায় কঠিন কথাগুলো প্রকাশ করতে জানাটা দরকার। লেখালেখি বিষয়ক নানান প্রতিযোগিতার খবর তো তুমি পাবেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন জুড়ে, সেসবেও অংশ নিতে পারো। আর নিজের ভাষার পাশাপাশি জানা চাই ইংরেজিও, আর সেটি কেন দরকার, তা ১ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ করেছি।

৫. এক্সপ্লোর করা: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তোমার পড়াশোনার ডিসিপ্লিনের বাইরের নানান পড়াশোনা আর কাজের ক্ষেত্র বাজিয়ে দেখা যেতেই পারে। এমনও হতে পারে তুমি যে বিষয়টাতে পড়ছ তার চাইতেও ওই ক্ষেত্রটি তোমাকে বেশি টানছে। কিংবা তোমার ডিসিপ্লিনের সাথে অন্য ডিসিপ্লিনের মিশ্রণে নতুন কিছু করতে পারো তুমি। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে একটু নানান দিকে হাত দিয়ে দেখা যেতেই পারে। আমি নিজেও প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে যা যা করেছি তার একটা তালিকা দিচ্ছি (সবক্ষেত্রে যে সফল হয়েছি তা কিন্তু না!)—

• ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা
• পত্রিকায় লেখালেখি
• বইমেলায় প্রকাশিত গল্প সংকলনে লেখা
• গবেষণা সম্পর্কিত নানান কাজ করা
• টেলিভিশনে নাটক করা
• বিদেশি কনফারেন্সে অংশ নেওয়া
• রেডিও জকি হওয়ার জন্য অডিশন দেওয়া
• টেলিভিশন উপস্থাপক হওয়ার জন্য আবেদন করা
• ইউটিউবে রবি টেন মিনিট স্কুলে পড়ানো ইত্যাদি।

তাহমিদ উল ইসলাম
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইনস্ট্রাক্টর
রবি টেন মিনিট স্কুল

ইমেইল: [email protected]