ঢাবি ছাত্র-ছাত্রীর সফল প্রেমের গল্প


Dhaka
Published: 2020-02-14 14:32:54 BdST | Updated: 2020-07-07 04:33:48 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ তৌসিফ ও আফসানা মিমির সফল প্রেম ও পরিণয় এর গল্প। মিমির ভাষ্যতেই গল্পটি জেনে নেয়া যাক..

২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর 

তৌসিফ প্রথমে আমাকে এসএমএস লিখে 11.37 AM এ

সরি আপনার কি কিছু টাইম হবে কিছু কথা ছিল

আমি তখন রিপ্লাই দেই 6.32 PM এ

কি কথা আমার তো ইনকোর্স আছে কালকে কি বলবেন বলেন পরে রিড আউট করবোনি।

এরমধ্যে আমি ওর আইডি ঘাটাঘাটি করি। এবাউট পড়ি।

তারপর আবার লিখি

নিজের সম্পর্কে এত লিখেছেন ভালো লাগলো। আর আমার আইডি পেলেন কি করে জানাবেন। ফ্রেন্ডলিস্টে তো এড নাই তাই আপনার এসএমএস শো করে নি। সরি! আমি আপনার অপরিচিত। আমার সাথে কি কথা থাকতে পারে এটা নিয়ে চিন্তিত। আমি বেশি কথা বলি তাই এত রিপ্লাই দিসি

এর কিছুক্ষণ পর আমি আরো ঘাটাঘাটি করে বের করলাম সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি আড্ডা নামের একটা পেইজের এডমিন সেখানে একটা পোস্টে আমার কমেন্ট করার পর আমাকে এসএমএস করেছে ।

তখনো সে রিপ্লাই দেয়নি আর আমি দিয়েই যাচ্ছিলাম টেনশনে। তো এভাবেই কথা শুরু এসএমএস এ সব সময় সবকিছু শেয়ার করা।
দেখা হয়নি তখনো। ফেসবুকে ছবিও ছিলনা।
এসএমএস এই একদিন বললো তার শখ আরজে হওয়ার। প্র্যাকটিস ও করে। তখন আমি শুনতে চাইলাম কেমন ভয়েস। কিভাবে প্র্যাকটিস করে।

বিকালে একদিন তার ছবি দিল সাথে ভয়েস। ঠিক রেডিও তে যেরকম বলে সেইম সেইম।

ভালো লাগলো খুব ইন্সপায়ার করতাম। এভাবেই বন্ধুত্ব দুইজনের।
চারমাস পর ফেব্রুয়ারি ২৫ তারিখ প্রথম দেখা করবো বন্ধুর সাথে।

আমি কামিজ পরা ছিলাম ক্লাস ছিলো। খুব আইসক্রিম খেয়ে ঠান্ডা লাগায় গলা বসে গেছে। কথার সাউন্ড বের হয়না। শীত ও ছিল।

প্রথম সে ফোন দিলো কিন্তু আমি কথাই বলতে পারতাছিনা যাই হোক কোন মতে বুঝাইলাম আমি টিএসসিতে যাবো। কারণ কার্জনে ক্লাস আর ওর ক্লাস কলাতে মাঝামাঝি জায়গাটা ভালো :p

এরপর দেখা হলো বই মেলায় ঘুরলাম।

প্রথম যেদিন দেখা সেদিন ও ভাবছিল আমি হয়তো অনেক কিছু খেতে চাইবো তাই ও ৫০০ টাকা নিয়ে আসছিলো এটা আমি পরে জানতে পারছি। কিন্তু আমার পছন্দ ছিল ক্যাম্পাসের ফুচকা। ওই প্রথম ই নাকি তৌসিফ ফুচকা খাওয়া শিখে।

এইতো দেখা কথা ফ্রেন্ড থেকে একবছরে বেস্ট ফ্রেন্ড।

ক্লাসের বন্ধুরা হিংসা করতো। একসাথে দেখলেই ভাবতো প্রেম করতেছি ।

কিন্তু আমরা ছিলাম খুব নরমাল। এই দেখা হওয়া কথা বলা দুপুরে যেখানেই থাকিনা কেন টিএসসি ডাকসু ডীন অফিসে খেতাম। সারাদিন আমার ক্লাস থাকতো ল্যাব থাকতো কে কি করলো দিন শেষে বন্ধু কেই এসে বলতাম।

ওর ক্লাস খুব কম থাকতো শেষ ও হয়ে যেত তাড়াতাড়ি। ও তখন এসে দুপুরে নামায পড়ে আমার ডিপার্টমেন্টের সামনের মসজিদে নামাজ পড়ে অপেক্ষা করতো। আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে নেমে ওকে কল দিতাম।

আমাদের একটা কমন জায়গা ছিল ফিজিক্সের শেষ মাথায় ফিসারিজ ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় আমাদের নাম আমরা দেয়ালে লিখে রাখছিলাম ওখানে তৌসিফ আসতো।

কখনো দুপুরে আমার ক্লাসে দেরি হলে ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার না পেলে ভেলপুরি খেয়েই কাটিয়ে দিতাম

সম্প্রতি তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।