ক্যাম্পাসে প্রথম দেখায় প্রেমের গল্প


Dhaka
Published: 2020-09-25 13:53:22 BdST | Updated: 2020-10-20 06:49:44 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনই ভালোবাসার জন্ম। আমিনুল ইসলাম তুহিন ও আবিদা আফরিন সুমনার ভালোবাসা ও দাম্পত্য জীবনের গল্প।

আমিনুল ইসলাম তুহিনের জন্ম খুলনা শহরের দৌলতপুর এলাকায়। তারা মোট ১০ ভাই-বোন। সবার ছোট, সবচেয়ে আদরের। গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, খুলনা থেকে ১৯৯৬ সালে এসএসসি, বছর দুই পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের জিয়া সারকারখানা (আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড) স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা থেকে এইচএসসি। ছোটবেলা থেকে তুমুল মেধাবী। সে মেধা, পরিশ্রম ও বন্ধুবাৎসল্যের ছাপ রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও। ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র হলেন। শিক্ষায় অনার্স ও মাস্টার্স (বিএড অনার্স, মাস্টার্স)। তার স্ত্রীও তাই। ক্যাম্পাসেই পরিচয় ও ভালোবাসা আবিদা আফরিন সুমনার সঙ্গে। মিষ্টি, মিশুক ও সরল মেয়েটির গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তিনিও খুব আদরের। তিন ভাই-বোনের সবার ছোট। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খুব মেধাবী ছাত্রীটি ১৯৯৭ সালে এসএসসি, ১৯৯৯ সালে এইচএসসি। তারা ব্যাচমেট, একই ইনস্টিটিউটে একসঙ্গে পড়েছেন। সুমনা তুহিনের চেয়ে ছাত্রী ভালো, মনোযোগী।

পরিচয়ের গল্প দুজনের চোখে ভাসে। হাসতে, হাসতে সুমনা বললেন, ‌‌‘‌‘১৯৯৯ সাল, জুলাই। ভাইভা বা মৌখিকের জন্য অপেক্ষা করছি। তার আগে ভর্তি পরীক্ষায় লিখিততে উত্তীর্ণ হয়েছি প্রচণ্ড পরিশ্রমে। শিক্ষকদের রুমের বাইরে অপেক্ষা কে কোন হলে, কোন বিভাগে ভর্তি হবেন নির্দিষ্ট করতে। আমার সামনের ছেলেটির কাছে গেলাম। বসলাম মুখোমুখি। হঠাৎ শিক্ষাজীবনের সার্টিফিকেটগুলোর ফাইলটি তার হাত থেকে পড়ে গেল। ফাইল ওঠাতে গিয়ে ওর পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বেখেয়ালে পড়ে গেল। একটু আগেই মাইকে বলা হয়েছে, ধূমপায়ীরা এই ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে পারবে না। তাই তার ভর্তি বাঁচাতে আমার ফাইলটি ওর প্যাকেটের ওপর রাখলাম। যাতে অধ্যাপকরা না দেখেন। তার মুখে রা নেই–চমকে গিয়েছে। একটু পর বলল, ‘কী নাম আপনার?’ ‘সুমনা’।” দুজনেই ঢাকার বাইরের। হলে থাকতে হবে। সেদিনই তাদের হলের নাম দেওয়া হলো শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র হলেন তুহিন। হলে গিয়ে ফরম পূরণ করতে গিয়ে দেখলেন, পাশে সেই বালিকা ধরনের মেয়েটি। ‘কী ব্যাপার? ছেলেদের হলে কেন?’ বোকা মেয়ের সরল উত্তর, ‘আমাকে এই হলের সিট দেওয়া হয়েছে।’ ছোটবেলা থেকে নেতাগোছের বলে সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে গেলেন। ডিপার্টমেন্টে গেলেন, শিক্ষকদের ভুল শুধরানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করলেন ভর্তির ব্যস্ততায়। তারা আরও ব্যস্ত হয়ে শামসুন্নাহার হলে সিট দিলেন। ততক্ষণে মেয়েটি বিপদের পরম সহায়তায় ছেলেটিতে মুগ্ধ, বিগলিত ও কৃতজ্ঞ। যার, যার হলের কাজ সারলেন। মোবাইল ফোন মাত্র এসেছে। নীলক্ষেতের ফোন ফ্যাক্সের দোকানে একসঙ্গে গিয়ে বাড়িতে টেলিফোন করে জানালেন, ঠিকানা জুটেছে। শুকনো মুখের, ঢাকায় নতুন আসা টেনশনের মেয়েটিকে দুপুরের খাবার খাওয়ার অনুরোধ করতে ভুললেন না তুহিন। এমন সুযোগ কে মিস করে? প্রথম দিনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, সুমনার মতো ভালো মেয়েকে খাওয়ানোর মাধ্যমে আরও পরিচয়, ভালো লাগা বোঝাতে পকেটের সম্বল সবার মতো বাজি ধরলেন। ১৩ টাকা করে প্লেটপ্রতি তেহারি খেয়ে নিলেন। এখন ৬০ টাকা করে। হাসতে হাসতে সুমনা, তুহিন জানালেন, পুরো দোকানের সব খাবার কিনে ফেলার সামর্থ্য থাকলেও সেদিন খেয়ে যে মজা পেয়েছি, ভোলা দায়। কোক খাওয়ালেন সুমনা। এগিয়ে থাকলেন বিলে ৪ টাকা। খরচ গেল ৩০। গণরুমে তাকে পৌঁছে নিজের ঠিকানার খোঁজে গেলেন তুহিন। মনে পড়ে সুমনার–‘প্রথম ক্লাস হয়েছে আমাদের ২৫ জুলাই, ১৯৯৯।’ দিন-তারিখে পাকা। চিরকাল তুহিন বাউণ্ডুলে, আড্ডাবাজ। আপদ-বিপদের সঙ্গী। সেদিন ওর জন্মদিন বহু কষ্টে, ভয়ে ভয়ে অনেক সাহস সঞ্চয় করে জেনেছিলেন। সম্বল প্রায় শেষ। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, কতই বা পেয়েছিলেন মা-বাবার কাছে। নিজেকে চালানোর পয়সাও চা, সিগারেট, হল, বিভাগের নতুন বন্ধুদের পেছনে খরচ করেছেন। টাকা ধার চাইলেন ‘খুব জরুরি’ বলে। দিতে বাধল না, চিন্তাও করলেন না সুমনা। ১শ টাকা তখন অনেক। পুরো মাসের অনেকটা চলে যায়। ফুল কিনতে বিভাগের বন্ধুকে নিয়ে তুহিন শাহবাগে ছুটলেন ক্লাসের পরে। তাও রিকশায়, রাজার হালে! শৌখিন হিসেবে খ্যাতিমান। ফুল কিনলেন, দুজনের আড্ডা হলো। সুমনাকে নিয়ে তার টাকায় আড্ডা দিয়ে, দুপুরের খাবার খেয়ে কয়েকজনে হলে গেলেন। বন্ধুরা তাদের জন্য খুব করেছেন। মহুয়া, রূপা, জিন্নাহ, শাহরিয়ার, মোহন, রফিক, নোমান, সোহাগ’র কথা বারবার বলেছেন শুরুর দিন থেকে আজ পাশে থাকার জন্য দুজনে। ভালো বন্ধুত্ব গড়ে দিয়েছেন, কাছে আসার, পাশে থাকার সুযোগ করেছেন। ঝগড়া, মান-অভিমানের সহায়। ফলে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে। অবশ্য সুমনার বদান্যতায়! সারা দিন ক্লাস, ক্যান্টিন, আড্ডায় বেলা ৩টা পার করে হলে ফেরেন একসঙ্গে। সুমনাকে দিয়ে তুহিন হলে ফেরেন। ধীরে ধীরে সুমনার জীবনে ছাপ ফেললেন। তুহিন আগেই মজেছেন। স্মরণীয় প্রথম দিন–২০০১ সাল, সেদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছিল। সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসার চিরস্থায়ী বাঁধনে গড়াল। শিক্ষা সফরে ষষ্ঠ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা তিন দিনের ট্যুরে গেলেন সেন্টমার্টিন। আগে থেকে অনেকের অবদান আছে নতুন দুই ভালোবাসার মানুষকে একত্রে বাঁধাতে; তারা তাদের আলাদা করে দিলেন। খোঁজ রাখলেন। পাশে থাকলেন। বঙ্গোপসাগরের অনিন্দ্য সুন্দর প্রবাল দ্বীপের সাদা ঝকঝকে পানির পাশে বেড়ালেন। মাছ দেখলেন, প্রবাল দেখা হলো। রাতের আকাশকে সাক্ষী রেখে ভালোবাসার কথা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনা হলো। সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে জুটিতে বন্ধুরা ঘুরছেন। কেউ আর একা নেই। ‘ফলে সুযোগটি মিস করিনি’–বলে ফেললেন তুহিন। ‘ও বলেছিল, আমি তোকে ভালোবাসি সুমনা’ –মনে পড়ল সুমনার। শুনে লজ্জা পেলেন, অবাক হলেন না। উত্তর করতে পারেননি। তবে জানিয়েছেন, তারও তাই। ছেলেটি অন্যরকম, খুব মানবিক, শিক্ষিত, মেধাবী; স্বপ্নবাদী, আন্তরিক।

২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকল মাস দুই। খুলনায় বাড়ি ফিরলেন তুহিন। সুমনা ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাড়িতে। আগে থেকে পাত্র দেখা হচ্ছে, এবার তোড়জোড়। এক বন্ধুর মাধ্যমে তুহিনকে জানালেন, ‘আমার মহাবিপদ’। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় ফেরার জন্য ছুটলেন। মামাতো ভাইকে নিয়ে এদিক-সেদিক করে অল্প ভাড়া; বাস ভাড়া জোগাড় করে চড়ে বসলেন। ফিরলেন। তবে বুদ্ধিমতী মেয়েটি বিয়ে ঠেকিয়েছেন। বহুবার এভাবে তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আগের জীবনে ফিরলেন তারা। মুখরোচক, বন্ধুদের ভাবনার বিষয় হলেন, তাদের ভবিষ্যৎও। অধ্যাপকরা টের পেলেন। দেখেও দেখেন না, কোনো কোনো সময় বলেন, ‘ভালোভাবে থাকবে, সম্মান করবে পরস্পরকে।’ পরের বছর আবার সেই কাণ্ড। এত স্মার্ট, সফল মেয়েটিকে দেখে কী এখন বলবেন– তার জীবনে কত ঝড় গিয়েছে! কীভাবে যে সামলেছেন! এবার আরও বিপদে পড়লেন। তুহিন চার নম্বর ভাই, খুব ভালো সম্পর্ক বলে জানিয়ে দিলেন কেঁদে। তিনি বাসায় মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে এগুলেন। পোশাক আশাক, বই-খাতার সামান্য সম্বল নিয়ে তুহিনের হলে হাজির সুমনা। বাউণ্ডুলের আর উপায় থাকল না। বন্ধুদের নিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক হলো। পরে ভাইয়ের বাসায় গিয়ে পুরো ব্যাপার বললেন। তিনি সবার বড়। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। সব শুনে বোনকে বললেন, ‘কেন ছেলেটিকে ভালোবাসিস আমাকে পয়েন্ট আকারে কাগজে লিখে দে।’ পড়ে ডেকে পাঠালেন। নিজেকে আসামি মনে করে তার অফিসে গেলেন তুহিন। সঙ্গে বন্ধু, বড় ভাইদের কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোন। একটি তার পকেটে। অন্যটি এক বন্ধুর কাছে। তিনিসহ কয়েকজন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ফোন হাতে চায়ের দোকানে। বিপদ হলে কল আসবে, তিনি ও তারা ব্যবস্থা নেবেন। কী নেবেন আল্লাহ-ই জানেন। ভেতরে গিয়ে ভীষণ সাহসীর বুক কেঁপে গেল। নড়তে পারেন না। ডাক এলো। ছোট বোনের প্রিয়জনকে সম্মান করতে ভুললেন না ভাই। বসতে বললেন। ইংরেজিতে ভীষণ রাগে একে একে প্রশ্ন করতে লাগলেন। অনেকগুলো মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। জানলেও উত্তর দিতে পারলেন না। ভয়ে চুপ। কী করলে কী হবে জানেন না বলে মুখে কথা নেই। মিনিট ১৫ জেরায় থেকে একটি কথা তার, ‘ভাইয়া, পানি খাব।’ অধ্যস্তন কর্মকর্তাকে পানি আনার অর্ডার দিলেন। দেখে তুহিন সোজা, ভালোতম ছেলে।

বন্ধুরা টেনশনে কাত। চা, বিড়িতে যুদ্ধ চলছে। আলাপ, তর্ক, যোগাযোগের স্রোত বইছে। কথা শেষ। এবার আর্মি অর্ডার, ‘এক্ষুনি তোমাকে আমার বোনকে বিয়ে করতে হবে। তোমার মা-বাবাকে আমার টেলিফোন থেকে ফোন করে জানাও।’ তার আগেই ছেলের মেধা, লেখাপড়া, পরিবারের কথা সবই তার জানা হয়েছে, সন্তুষ্ট। তবে বলে সাহস বাড়িয়ে দিলেন না। আমেরিকা থেকে বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসা প্রিয় চতুর্থ ভাই তখন ভাইয়ের বিপদে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে আস্তানা গেড়েছেন। তাকেও সুমনা বুদ্ধি করে আনিয়ে রেখেছেন। তিনি ও একজন দুলাভাই তাদের বন্ধুদের রিসিপশনে, সেনা কর্মকর্তাদের বদান্যতায় ভেতরে প্রবেশ করলেন। আলাপ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো। ২০০২ সালের ১২ এপ্রিল বিয়ে হলো ক্যাপ্টেন ভাইয়ের বাসায়। ছাত্র, ছাত্রী দুজনেই। অনার্স পাসও করেননি। হল জীবন আগের মতোই। বিবাহিত বলে খাতির, সহযোগিতা খুব পান। সেই ভালোবাসা কোনোদিন ভোলেন না দম্পতি। বন্ধুদের জন্য খুব করেন। বাড়িতে অবারিত দ্বার, দাওয়াত সবসময় দিয়ে রেখেছেন। বিভাগের বিবাহিত দম্পতি বলে প্রায় সব ব্যাচের ভীষণ আপন। বিয়ের পর এক বছর ভাইয়ের বাসা, হল–এভাবে থেকেছেন সুমনা। তুহিন তো জহুরুল হক হলের অন্যতম জনপ্রিয় ছাত্র। ঘর বাঁধার স্বপ্ন ও প্রয়োজন সামনে এলো। সবাই তাদের সাহায্য করলেন। ফলে আড়াই হাজার টাকার ছোট কিন্তু ভালো মানের দুই রুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেন। ভালো ছাত্র বলে বেশ টাকা পেলেও তুহিনকে সপ্তাহে তিনটি, সুমনাকে দুটি টিউশনি করে বাসা ভাড়া, লেখাপড়ার খরচ, সংসার চালাতে হলো। সামান্য শখও তারা পূরণ করতে পারেন না টাকার অভাবে। অথচ বাড়িতে রাজার হালে চলেন। দিতে চাইলেও কোনো পরিবারের কাছ থেকে সামান্য সাহায্য নেননি এই দম্পতি। সে অবশ্য সুমনারই অবদান। পরীক্ষার ফি সেমিস্টারের ভর্তির টাকা মা-বাবাদের কাছ থেকে না নিয়ে উপায় থাকত না। চাইলেও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না। মোবাইলে কথা হয়। সকাল ৮টায় ছুটতে ছুটতে ক্লাসে যান, দুপুরে ক্যাম্পাসে খেয়ে আড়াইটায় তুহিন ছোটেন টিউশনিতে। তারও আগে বাসায় এসে রাতের রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া, বাসা পরিচ্ছন্ন করা ইত্যাদি যা পারেন করে ৩টায় টিউশনিতে বেরিয়ে যান সুমনা। রাতে ফিরে রান্না করে খেয়ে পড়ালেখা, দিনের কাজ, বাজার করেন তারা। রান্নায়ও পাকা হয়েছেন তার স্বামী। পাস করলেন মাস্টার্স। জুন মাসে দুজনেরই চাকরি হলো একটি সরকারি শিক্ষা প্রকল্পে। ভালো চললেন। তার আগে কত টেনশন। মেধা আছে বলে এগিয়েছেন। ২০০৭ সালে তাদের সন্তান হলো। একমাত্র মেয়ে। এখন খুলনার বিখ্যাত করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পড়েন ষষ্ঠ শ্রেণিতে, নাম ‘অরিন মেহজাবিন’। কত যুদ্ধ করতে হয়েছে। তুহিন ও তার পরিবারের; নিজের ফ্যামিলির সহযোগিতার কথা কোনোদিন ভুলবেন না সুমনা। তুহিনও তাই। ২০১১ সালে সুমনা সমাজসেবা অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেন সরকারি চাকরিতে, ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর কৃষি ব্যাংকে অফিসার হিসেবে যোগ দিলেন তুহিন। তাদের জীবন নিশ্চিত হলো। এখন স্বামী সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, স্ত্রী সোশ্যাল সার্ভিস অফিসার। ২০১৯ সালে তিনি ‌‘শ্রেষ্ঠ অফিসার’ হয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খুলনার। দায়িত্ববান এই স্ত্রীর ছায়াতে আছেন বহুকাল ধরে তুহিন। অফিস করেন, বাড়ির কাজ করেন। মেয়েকে লেখাপড়া শেখান। সন্তানকে নিয়ে খুব ভালো আছেন তারা। তুহিন স্ত্রীকে নিয়ে বলেন, ‘যেকোনো বিষয়ে সুমনা সহনশীল। ছাড় দেয়। আমার বন্ধু আছে, আড্ডাও চলে। অরিনের মা মেয়েকে নিয়েই আছেন। তাকে আমরা উচ্চশিক্ষিত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত করব। মেয়েকে ছাড়া থাকতে পারি না কেউ। ওর বিয়ের পর জামাই বাড়িই নিশ্চিতভাবে আমার ঠিকানা হবে।’ শেষ কথায় কৌতুকপ্রবণ, রসিক তুহিন বেরিয়ে এলেন। সুমনা বললেন, ‘তুহিন আমাদের সেরা বন্ধু।  ১৪ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে ভালোবাসা দিবস কাটাই কক্সবাজারে বেড়িয়ে। তাকে ছাড়া আমাদের চলে না। আড্ডাবাজ, বন্ধুপরায়ণ, রসিক বাবাকে মেয়েও খুব ভালোবাসে। সে না থাকলে কাঁদে।’