জবি: আমাদের রঙিন গল্প  


এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
Published: 2018-01-13 23:43:28 BdST | Updated: 2018-06-23 04:58:48 BdST

হাজারো কর্মব্যস্ততার মাঝে ও এই আড্ডার মাধ্যমে বন্ধুদের খুনসুঁটিতে তৈরি হয় কিছু স্মৃতি। স্মৃতির মিনারে জমা হয় ভালো লাগার এক টুকরো ফানুস। এই ভিড়ের মাঝে সুপ্ত থাকে হাজারো রঙিন গল্প। বেঁচে থাকে তারুণ্য। রয়ে যায় ভালোবাসা। এভাবেই তো পথচলা। 

মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ আড্ডা। আর সে আড্ডা যদি হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাহলে তো কথাই নেই। অধিকাংশ আড্ডা হলো বোহেমিয়ানের মতো। থাকে না কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়। ক্যারিয়ার, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, প্রেম-ভালোবাসাসহ প্রায় সবকিছুই উঠে আসে আড্ডায়। আড্ডা, বন্ধুত্ব, গান, ভালোবাসা, পড়াশোনা এই নিয়েই মেতে আছে ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক পাঠশালা থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া দেশের একমাত্র সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সম্পূর্ণ অনাবাসিক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে। অবস্থান করে নিয়েছে দেশের ২য় সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। তাহলে কি এ বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার নিয়েই পড়ে থাকে? না, এতটা বেরসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থীরা নন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে আড্ডা। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী রাতের বেলা খেলাধুলা আর আড্ডায় মাতিয়ে রাখে পুরান ঢাকার এ ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাসটি যেন বন্ধুত্ব আড্ডা, শিল্প-সাহিত্য ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় ঘেরা। কখনো গানে গানে ছড়িয়ে পড়ে তারুণ্যের উন্মাদনা, কখনো ছোটখাটো খেলায় মেতে ওঠে তারুণ্য ভরা সবুজ প্রাণ।

ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা পড়ন্ত বিকালে ক্যাম্পাসে ফুটে ওঠে এক দারুণ প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিন নিয়মিত জম্পেস আড্ডার হাট বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর, ভাস্কর্য চত্বর, শান্ত চত্বর, এমসিজে চত্বর, অসহায় চত্বর, কাঁঠালতলা, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি ও প্রধান ফটকের চায়ের দোকানগুলোতে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাফসান, মৌলি, জাকারিয়া, ডলি, ইসরাত জাহান, এমি, নদী ও রাকিবেরা বলছিলেন তাদের ভালোলাগার কথা, আড্ডার কথা। এই ক্যাম্পাসে প্রথম এসে বুঝতেই পারিনি যে এই ছোট্ট ক্যাম্পাস ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। যার প্রতিটি কোনায় জড়িয়ে আছে অনেক মায়া।

যতই দিন যাচ্ছে ততই এই ক্যাম্পাসকে ভালো লাগছে। ক্যাম্পাসের জুনিয়র-সিনিয়র সম্পর্কটা অসাধারণ। সবাই অনেক হেল্পফুল। যেন একটি পরিবার। একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম, পলক, শোভন, আঁখি ও অলিউল্লাহ তাদের আড্ডার কথা বলছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের আড্ডার মাধ্যমে আমরা নিজেদের জ্ঞান ভাণ্ডারকে সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল করতে পারি। আড্ডায় পারস্পরিক কথাবার্তায় আমরা ভবিষ্যতের ছবি আঁকি। নতুন নতুন আইডিয়া শেয়ার করি। হয়ত এ নতুন কোনো আইডিয়া মানব কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এনা ও মৌমিতা বলেন, যখনই অবসর পাই তখন আমরা আড্ডা দিতে বসি। আড্ডায় বসলে মেজাজ থাকে ফুরফুরে, মন থাকে উড়ো উড়ো। হয়ত তখন মনের অজান্তেই গেয়ে উঠি ‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে/যেখানে নদী এসে থেমে গেছে।’

হাজারো কর্মব্যস্ততার মাঝে ও এই আড্ডার মাধ্যমে বন্ধুদের খুনসুঁটিতে তৈরি হয় কিছু স্মৃতি। স্মৃতির মিনারে জমা হয় ভালো লাগার এক টুকরো ফানুস। এই ভিড়ের মাঝে সুপ্ত থাকে হাজারো রঙিন গল্প। বেঁচে থাকে তারুণ্য। রয়ে যায় ভালোবাসা। এভাবেই তো পথচলা।---- ইত্তেফাক

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।