বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রীর চুল ধরে টান, ক্যাম্পাসে তাণ্ডব বিজেপিপন্থী শিক্ষার্থীদের


Dhaka
Published: 2019-09-21 07:10:47 BdST | Updated: 2019-10-22 09:09:45 BdST

লোকসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে অমিত শাহ'র রোড শো'কে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর কলেজ। বিদ্যাসাগরের মূর্তি পর্যন্ত ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। আবার যেন শিক্ষাঙ্গনে সেই সন্ত্রাসই চালাল তাঁরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে সন্ধ্যার পর থেকে এবিভিপি ও দুর্গা বাহিনী দাপিয়ে বেড়াল গোটা ক্যাম্পাস।

প্রতিবাদে পরের দিন উত্তাল ছিল গোটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল বামপন্থী সকল শিক্ষার্থীরা।

শুধু কি দাপিয়ে বেড়ানো! ভাঙচুর চালানো হল গোটা ক্যাম্পাসে। মাথায় হেলমেট পড়ে, হাতে লাঠি নিয়ে ভাঙচুর চালানো হল ইউনিয়ন রুম থেকে শুরু করে অন্যান্য দফতরেও। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হল সাইকেল, কম্পিউটার-সহ একাধিক জিনিসে। আটকে দেওয়া হল দমকলের গাড়ি।

গেরুয়া পরিহিত এই বহিরাগতরা কারা? মুখে না বললেও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই এবিভিপি ও দুর্গাবাহিনীর সদস্য এবং অবশ্যই বহিরাগত। এমনকী গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে যখন সন্ত্রাস চালাচ্ছে তাঁরা, তখন পুলিশের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়ায়।

.

আর এরপরই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আটকে রাখা, আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিবাদের ধরণ নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। কিন্তু সেই কাজের পালটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর, আগুন লাগানো যায় কি? এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ঘিরে যারা বিক্ষোভ দেখাল, তারা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, তা স্পষ্ট। কিন্তু যারা গেরুয়া গায়ে, হেলমেট মাথায় ভাঙচুর চালালো-আগুন জ্বালাল, তারা যে বহিরাগত, সে বিষয়েও দ্বিমত নেই কোনও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোনও রকম বিক্ষোভের মুখে বাবুল সুপ্রিয়কে পড়তে হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ করা হবে, সেটা কি পরিকল্পিত? সন্দিহান অনেকেই।

এদিন ইউনিয়ন রুমে শুধু ভাঙচুর চালানোই নয়, চে গেভারা'র ছবিতে কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়। ছবি, মূর্তিকে বিকৃত করার রেওয়াজ গেরুয়াপন্থীদের বরাবরের অভ্যেস বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। এদিন তারই পুনরাবৃত্তি হল আবার। আর গেরুয়া হাত ধরে কলঙ্গিত হল সেই শিক্ষাঙ্গনই।