নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল


Delhi, India
Published: 2019-12-14 04:34:02 BdST | Updated: 2020-09-20 20:55:26 BdST

নাগরিক সংশোধনী বিল নিয়ে ইন্ডিয়ার প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে পড়েছে। রাজ্যে রাজ্যে দেখা গিয়েছে বিদ্রোহ।

ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিক সংশোধনী বিল বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে।

জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় , যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় , আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখা গিয়েছে।

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মামলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

গতকাল পুলিশের গুলিতে আসামে নিহত হয়েছে পাঁচজন।

রাজ্যে রাজ্যে ছাত্র জনতার সাথে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। আহত হয়েছে বেশ সংখ্যক ছাত্র জনতা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ফলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

সংসদে পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল৷ আর তার পর থেকে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়েছে উত্তর পূর্ব ভারতে৷ অসম, ত্রিপুরায় টহল দিচ্ছে সেনা৷ কিন্তু তাতেও আন্দোলনের মাত্রা কমছে না৷
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল উত্তর পূর্ব ভারত৷ বুধবার রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয়ে যাওয়ার পরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে৷ রাজধানী গুয়াহাটিতে সেনা বাহিনী রুট মার্চ শুরু করেছে৷ একই পরিস্থিতি ত্রিপুরাতেও৷ বুধবার রাতে সেখানেও সেনা এবং আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে৷

গত সোমবার লোকসভায় পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল৷ তার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে অসম, ত্রিপুরা এবং মণিপুরে৷ অসমের প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্ররা মশাল হাতে নেমে পড়ে রাস্তায়৷ তাদের বক্তব্য, কোনও ভাবেই এই আইন তারা মেনে নেবে না৷ তাদের আশঙ্কা, এই আইন চালু হলে উত্তর পূর্ব ভারতের জাতি এবং উপজাতিগুলি সংকটে পড়বে৷ এনআরসি-র পরে সেই সমস্যা বাড়বে বলে তারা মনে করেছে৷

যদিও বৃহস্পতিবার টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কোনও ভাবেই উত্তর পূর্বের জাতি উপজাতিগুলির অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে না৷'

কিন্তু সে কথা মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা৷ প্রতিদিন বিশাল বিশাল মিছিল বের হচ্ছে৷ বিভিন্ন সরকারি দফতরে হামলা চালানো হচ্ছে, লাগানো হচ্ছে আগুন৷ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত বহু৷ কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা কমার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না৷ ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয়েছে সেনা৷ জায়গায় জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে৷ কিন্তু তাতেও দমছে না আন্দোলনকারীরা৷ কারফিউ ভেঙেও মিছিল হচ্ছে৷