দ. কোরিয়ায় ফাঁকা স্কুলে ক্লাস, অনলাইনে হাজিরা


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-04-11 19:23:25 BdST | Updated: 2020-05-31 13:41:12 BdST

নির্দিষ্ট সময়েই বেজে উঠল স্কুলের ঘণ্টা। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল ক্লাস। মিস হা তার নির্ধারিত ইংরেজি ক্লাস নিতে ক্লাসরুমে গেলেন; কিন্তু ক্লাসে একজন ছাত্রছাত্রীও নেই। কিন্তু তাতে কী। শিক্ষার্থীশূন্য ক্লাসরুমেই পড়াতে শুরু করলেন তিনি।

সামনে টেবিলের ওপর একটি ল্যাপটপ। চালু করেই একে একে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর নাম ধরে ডাকতে থাকলেন তিনি। প্রথমেই ডাকলেন, সুবিন, উপস্থিত আছ?

সঙ্গে সঙ্গেই জবাব আসল সুবিনের কাছ থেকে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ছুটি কাটাচ্ছি। বলেই হাসল সুবিন।

হাইস্কুলে এটাই তাদের প্রথম দিন। শিক্ষকের সঙ্গে প্রথম দর্শনে সত্যি কথাটাই বলল সুবিন।

বিবিসি জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা মোকাবেলায় দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলেও চলছে বিকল্প পদ্ধতিতে ক্লাস।

অনলাইনে হাজিরা, অনলাইনেই পাঠদান। স্কুলে শিক্ষকের সামনে ইন্টারনেটযুক্ত একটি ল্যাপটপ। বাড়ি বাড়ি কম্পিউটার ব্যবহার করেই পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা। হানকুক একাডেমির ফরেন স্টাডিজের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রধান মিস হা।

ক্লাসের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে কখনও ভালোমতো ক্লাস নেয়া যায় না, তা ঠিক; কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এটি একটি ভালো সমাধান। কোরিয়ায় স্কুল এরই মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ পিছিয়েছে। সেটা আর পেছানো যাবে না।

তাই অনলাইনে পাঠদানই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে এরই মধ্যে বাহবা পেয়েছে দেশটি। সেসব সত্ত্বেও আবার ক্লাসরুম খুলে দিলে ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সাউথ কোরিয়ায়ও ভার্চুয়াল ক্লাস একটি চ্যালেঞ্জ। সরকার এরই মধ্যে নিুআয়ের পরিবারগুলোকে ইন্টারনেট বিল দিয়ে সাহায্য করেছে।

কিন্তু তাদের স্মার্ট ডিভাইস আছে কি না, সেটাই তো ভাবার বিষয়। রোল কল থেকে জানা যায় ২২ হাজার ৩০০ মানুষের অনলাইন স্কুল করার মতো কোনো প্রযুক্তি নেই।

অনেক দাতা ট্যাবলেট, পোর্টেবল ইন্টারনেট ডিভাইস প্রদান করেছে তাদের। অনেকে খাবারও পার্সেল করে পাঠাচ্ছে যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মন দিতে পারে।

এদিকে করোনা মহামারীর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্বাচন শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল দেশটিতে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও বুথগুলোয় জনসমাগম কমাতে শুক্রবার থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।

ভোট দিচ্ছেন করোনার রোগীরাও। আক্রান্ত রোগী ও নার্সদের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে আটটি ভোটকেন্দ্র তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন হাজারের বেশি করোনা রোগী ও প্রায় ৯০০ নার্স এসব কেন্দ্রে ভোট দেবেন।