স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রধান বিচারপতির


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-09-02 08:03:26 BdST | Updated: 2019-08-26 14:59:33 BdST

দেশে আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।’

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে ‘খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ স্বর্ণপদক ২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও স্বনামধন্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে ‘খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা স্বর্ণপদক ২০১৭’ দেওয়া হয়।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি মনে করি আইন ও বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষে একটি স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকসহ এদেশের জ্ঞানতাপস ও আইনজ্ঞের কাছে নিবেদন করব তাঁরা যেন আমাদের প্রতিবেশী দেশের আদলে অন্তত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা আইন শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। তাদের এ কর্মের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা আইনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে-তাদের কাছে তাঁরা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

এ ছাড়াও রফিক-উল হকের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভৃমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতকে তিনি মতামত দিয়েছেন ৷তাঁর দেওয়া মতামত বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। জাতীয় বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে ব্যারিস্টার রফিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাঁর জীবনে উপার্জিত অর্থের অধিকাংশ ব্যয় করেছেন সমাজসেবায়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, এতিমখানা ও মসজিদ।’

ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে স্বর্ণ পদক দেওয়ায় আহছানিয়া মিশনকেও এ সময় ধন্যবাদ জানান প্রধান বিচারপতি।

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো কথা বলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ।

এ সময় রফিক-উল হকের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী শরিফুল আলম। সম্মাননাপত্র পাঠ করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম খলিলুর রহমান। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. এহ্ছানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে রফিক-উল হককে ক্রেস্ট, দুই লাখ টাকার চেক ও বই দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম।

অনুষ্ঠান আয়োজকেরা জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে খান বাহাদুর আহ্ছান উল্লাহ স্বর্ণপদক দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৬ জনকে ওই পদক দেওয়া হয়েছে। কর্মময় জীবনে দেশের আইন অঙ্গনে ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে মূল্যবান অবদানের জন্য ২০১৭ সালের স্বর্ণপদক দেওয়া হয় রফিক-উল হককে।

এসএম/ ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।