ধূমপানই হার্ট ব্লক ও উচ্চরক্তচাপের মূল কারণ


ঢাকা
Published: 2019-07-07 19:07:40 BdST | Updated: 2019-07-21 05:52:37 BdST

"তাদেরই মানায় জীবনে যারা বহুদূর যায়" ছোট বেলায় দেখতাম গাছে গাছে, রাস্তার মোড়ে লাগানো ক্যপস্টান সিগারেটের এই বিজ্ঞাপন। দেখে উদ্বুদ্ধ হতাম। নেশা জাগতো বহুদূর যাওয়ার দীক্ষা নিতে।

বন্ধুদের অনেকেই সিগারেট ধরে ফেলেছিল ইতিমধ্যেই। তারা দু'চোখ বন্ধ করে সুখটান দিত। কখনো মুখ গোল করে নানান কসরত করে ধুয়ার রিং উড়াতো। আনন্দে কোরাস গাইতো, হাওয়া মে উড়তা যায়ে, মেরা লাল দোপাট্টা মলমল, কেয়া হুজি...

নাহ্। দীক্ষা নেয়া আবুল ফজল বহুদূর যেতে পারেনি। আমার চেম্বারে এসেছে বুকে ব্যথা নিয়ে। ধরা পড়লো ফুসফুসে ক্যন্সার। ক্যন্সারের মরন কামড়ে ইতিমধ্যেই কঙ্কালসার। ধূমপান হার্ট ব্লক ও উচ্চরক্তচাপের মূল কারণ।

ধূমপান যেভাবে হার্টের ক্ষতি করে:

১. ধূমপানের কারনে রক্তনালী গাত্রে ক্ষত হয়। এই ক্ষতস্থানে চর্বি জমে জমে রক্তনালীতে ব্লক তৈরী করে। কখনো হঠাৎ একদিন হার্ট এটাক হয়ে যায়। ধূমপানের কারনে হৃদরোগের রিস্ক বৃদ্ধি পায় দ্বিগুণ।

২. তামাকের নিকোটিন এড্রেনালিন নিঃসরণ বাড়ায়। এড্রেনালিন হৃদরোগ তৈরী করে।

৩. ধূমপানের কারনে রক্তে কার্বন মনোক্সাইড বৃদ্ধি পায় তাই সেলে অক্সিজেন পৌছানোর জন্য হার্টকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

৪. ধূমপান করলে রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, রক্ত জমাট বাধার টেনডেনসি বৃদ্ধি পায়। তাই হার্ট এটাক ও ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

তাইতো সিগারেটের প্যকেটের গায়ে আগে লিখা থাকতো ধূমপানে বিষপান। পরবর্তীতে আরো ভয়ংকর চিত্র আঁকা হলো প্যকেটের গায়ে, বিভৎস ক্যন্সারের ছবি, সাথে লিখা ধূমপানে ক্যন্সার হয়।

বিশ্ব তামাকমূক্ত দিবস ঘোষনা করা হলো। সারা বছরই সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হলো। কিন্তু কে শুনে কার কথা! দিনকে দিন বাড়ছেই ধূমপায়ীর সংখ্যা।

সচেতনতার অভাব? নাহ্। তারাও বুঝে। বুঝে শোনে যুক্তি দাড় করায়, যারা খায়না তাদেরওতো হয়। আমি অবাক হয়ে যাই, যখন দেখি সিসিইউ কনসালট্যান্ট দের রুম থেকে সিগারেটের উৎকট গন্ধ বের হচ্ছে!!!

আপনি যখন বিষ্ময় প্রকাশ করেন মানুষ কিভাবে তাদের নিজেদের খাবারে বিষ মিশায়!! তাই আপনি আম খাননা, মাছ খেতে ভয় পান, ফার্মের মুরগী নিয়ে বিবৃতি দেন। আমিও বিস্মিত হই যখন দেখি আপনি নিজেই নিজের টাকায় বিষ কিনে খাচ্ছেন!!!

নেশা!! এই মরন নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া সত্যিই কঠিন। কারো কারো সকালবেলায় টয়লেটে বসে একটা সিগারেট না খেলে বাওয়েলই মুভ করেনা।

এই নেশার ঘোরেই তারা রাতকে রাত কাটিয়ে দেয় সিগারেট খেতে খেতে। তারা শিশু ও পরিবারের অন্যদের সামনে ধূমপান করতে দ্বিধাবোধ করেনা। তারা জানেনা পেসিভ স্মোকারদের ক্ষতিটা কোন অংশেই কম নয়। বরং পেসিভ স্মোকাররা সিগারেটের মাথার ধূয়াটা ফিল্টার বিহীন টানে, ধূমপায়ীর মুখ থেকে ছাড়া ধূয়াটাও টানে।

নেশা দূর করতে চান?? আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট। তারপরও নেশা জাগলে ব্যবহার করতে পারেন-

১. নিকোটিন প্যচ।

২. নিকোটিন চুইংগাম (নিকোটেক্স).

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, ধূমপান করলে ৪০ দিন রহমতের ফেরেশতা আসে না। এই দুর্গন্ধযুক্ত মুখ নিয়ে আল্লাহর কালাম পড়া, আল্লাহর পবিত্র নাম নেয়াটা বেমানান। সুতরাং, ভালোভাবে মিসওয়াক করে, অজু করে পাঁচবার নামাজ পরুন। পারলে অজু রাখুন যতক্ষণ সম্ভব। নেশা কেটে যাবে, যেমনি করে রমজান মাসে আপনি নেশা থেকে মূক্ত হয়ে যান।

"সুতরাং বাঁচতে হলে ছাড়তে হবে" একথা আমি বলি না। আমি বলি মরতে হলে ছাড়তে হবে। কারন আপনাকে যখন কবরে শুইয়ে মুখের কাপড়টা খুলে দিবে তখন আবদ্ধ কবরটাতে হাতের, মুখের, শরীরের এই উৎকট দুর্গন্ধটা ছড়িয়ে পরুক এটা নিশ্চয়ই আপনি চান না।

ডা. তাইফুর রহমান
কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট

নারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।