২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগের সুপারিশ


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-04-30 15:59:10 BdST | Updated: 2020-05-25 22:59:52 BdST

করোনা সংকট মোকাবিলায় ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমিশনের বিশেষ সভায় এই সুপারিশ অনুমোদন করে এই সুপারিশ জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পিএসসির উপ-সচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিস্তারিত ফলাফল পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সেবা দেয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ৩৯ তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিছু পদ স্বল্পতার কারণে ইতোপূর্বে (৩০ এপ্রিল ২০১৯) ক্যাডার পদে সুপারিশ প্রাপ্ত নন এমন ৮ হাজার ১০৭ জন প্রার্থী হতে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে ২ হাজার জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সাময়িক সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়াও হাসপাতাল সমূহে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এবং কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ৫ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সাময়িক সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে অতি সম্প্রতি বিজ্ঞাপিত কিছু আবেদনকৃত প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি, এমন সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদসমূহ সংরক্ষিত রেখে এই ৫ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে সাময়িক সুপারিশ করা হয়েছে। বিস্তারিত ফলাফল কমিশনের ওয়েবসাইট http://www.bpsc.gov.bd/ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইট http://bpsc.teletalk.com.bd/ এ পাওয়া যাবে।

২০১৮ সালে ১০ এপ্রিল চিকিৎসকদের জন্য ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩ আগস্ট প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৭ হাজার ৫৮৩ জন অংশ নেন। পরীক্ষায় পাশ করেন ১৩ হাজার ৭৫০ জন চিকিৎসক। চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার পর ৮ হাজার ৩৬০ জন উত্তীর্ণ হন। সেখান থেকে চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। গত নভেম্বর মাসে তাদের মধ্যে থেকে ৪ হাজার ৪৪৩ জনকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাকিরা অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। ওই তালিকা থেকে এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই ৫৩৫ জন চিকিৎসককে মেডিকেল অফিসার হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ অধিদপ্তরে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। এছাড়া আরও ২৯ জনকে অন্যান্য দপ্তরে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সরকার নতুন করে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি নন-ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত ৫৬৪ জনের নিয়োগ বাতিল করে দেয়।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের অধীন সেবা পরি দপ্তরের আওতায় ১০ম গ্রেডের দ্বিতীয় শ্রেণীর চার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৬০০ মিডওয়াইফ নিয়োগের জন্য ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ টাইপের ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ১৬ হাজার ৯০০ চাকরি প্রত্যাশী অংশ নেন। চূড়ান্ত ফলে ১০ হাজারের মতো প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে পাঁচ হাজার ১০০ জনকে নিয়োগের জন্য বাছাই করে পিএসসি। যারা তখন নিয়োগ পাননি তাদের এখন নিয়োগ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে পিএসসি। তবে সরকার ছয় হাজার নার্স চাইলেও পিএসসির হাতে ৫ হাজার ৫৪ জন অপেক্ষমাণ প্রার্থীর জন্য নিয়োগের সুপারিশ করেছে।