সেইসব উপাচার্য


Dhaka
Published: 2019-09-24 17:53:08 BdST | Updated: 2019-10-24 10:37:13 BdST

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বিশ্বের বিদ্যার আলয়, অর্থাৎ বাড়ি। স্কুল-কলেজে যেমন একজন প্রধান শিক্ষক কিংবা একজন অধ্যক্ষ থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়েও একজন উপাচার্য থাকেন। ব্রিটেন বা তার পূর্ববর্তী উপনিবেশগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানকে সাধারণত উপাচার্য বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য অনেক দেশে এই পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাকে প্রেসিডেন্ট বলা হয়। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি—যিনি এই পদে থাকেন তার দুটি গুণাবলি থাকাটা আবশ্যকীয়। প্রথমটি তার অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা থাকা চাই। আর অন্যটা হচ্ছে তিনি একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক হবেন, যিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়কে সব সময় নতুন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। দূরদৃষ্টি ছাড়া কোনও ব্যক্তির এসব পদে না যাওয়াই ভালো। এই পদগুলো সার্বক্ষণিক, অর্থাৎ একজন উপাচার্য বা প্রেসিডেন্টের কোনও কর্মঘণ্টা থাকে না, কারণ তিনি একজন সাধারণ কেরানি নন। বিভিন্ন দেশে এই পদে নিয়োগের নানা পদ্ধতি আছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অনেক দেশে এই পদটি পূরণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই করে তাদের একটি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে হাজির হতে হয়। এই উপমহাদেশে উপাচার্য নিয়োগ সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করে। ভারতে দু’ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্য সরকারের অধীনে। তার বাইরে আছে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশ্ববিদ্যালয়। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী, হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, (মোট ৪৯টি) প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীনে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কে উপাচার্য হবেন তা কেন্দ্র সরকার নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশে যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের আইন দ্বারা পরিচালিত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার কথা সিনেট কর্তৃক নির্বাচিত তিনজনের একটি প্যানেল হতে। কে নির্বাচিত হবেন তা নির্ভর করে আচার্য তথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ওপর। তবে এখানে প্রধানমন্ত্রীর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। কিন্তু এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু বছর ধরে এই পদ্ধতিতে উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে না। দেশের অন্য সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরকার সরাসরি নিয়োগ দেয়। ২০০১ সালে যখন খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন, তিনি রাতারাতি দেশের ১১ জন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে সরিয়ে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের এসব পদে নিয়োগ দেন, যাদের মধ্যে একাধিকজন ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) সিনেট কর্তৃক নির্বাচিত প্যানেল হতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। একজন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য তো রাতের অন্ধকারে উপাচার্যের দফতরের তালা ভেঙে নতুন পদে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দিন, যিনি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাকে ছাত্রশিবিরের দাবি অনুযায়ী সরিয়ে খালেদা জিয়া নিজের বশংবদ একজনকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিলেন।

উপমহাদেশে প্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৭ সালে, কলকাতা, বম্বে ও মাদ্রাজে। তবে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা ও তক্কশিলা এই উপমহাদেশেই অবস্থিত ছিল। নালন্দার বয়স কমপক্ষে দেড় হাজার বছর। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংস করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজি নামক এক ডাকাত (আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষ মনে করে বখতিয়ার খিলজি নাকি এই দেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন)। খালেদা জিয়ার আমলে একবার তার তাঁবেদার বুদ্ধিজীবীরা ‘বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয় দিবস’ পালন করেছিলেন।

১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এর অধীনে যেসব কলেজ অধিভুক্ত ছিল, তার বিস্তৃতি ছিল কাশ্মির হতে সিংহল দ্বীপ, বাংলা আর পূর্বে ব্রহ্মদেশ। এটি ছিল মূলত একটি এফিলিয়েটিং বিশ্ববিদ্যালয় (Affiliating University)।

ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের (যাকে ইংরেজরা সিপাহি বিপ্লব বলতে পছন্দ করে) পরই এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়ে আসেন ইংল্যান্ড থেকে ইংরেজ সাহেবরা এবং এই রেওয়াজ বহুদিন ধরে বলবৎ ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল স্যার জেমস উইলিয়াম কোলবিলকে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন আমলা, যিনি পরবর্তী সময়ে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান উপাচার্য শ্রীমতি সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জিসহ (প্রথম মহিলা উপাচার্য) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে সাতাশজন ছিলেন ভারতীয়, যার প্রথমজন ছিলেন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (দু’বার) এবং আমার দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এই যাবৎকালে এই উপমহাদেশে যতজন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপাচার্য। তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন প্রখ্যাত ব্যক্তি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে বিচারপতি রাধা গোবিন্দ পাল, বিধান চন্দ্র রায়, স্যার আজিজুল হক, যদুনাথ সরকার, হাসান সোহরাওয়ার্দী অন্যতম।

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে প্রতিভাবান তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারতেন। তিনি বিজ্ঞান কলেজের জন্য সি ভি রামানের মতো পদার্থবিজ্ঞানীদের কলেজে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। সিভি রামান ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। বিজ্ঞান কলেজে যোগ দেওয়ার আগে রামান সরকারের অর্থ দফতরে মোটা বেতনের চাকরি করতেন। তিনি বিজ্ঞান কলেজে যোগ দিয়েছিলেন অনেক কম বেতনে। স্যার আশুতোষ নিজেও বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।

নেতাজি সুভাষ বসু প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় একজন ইংরেজ অধ্যাপককে ভারতীয়দের গালাগাল করার জন্য শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন। উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ওপর চাপ আসে সুভাষ বসুকে বহিষ্কার করার জন্য। আশুতোষ মুখার্জি বললেন ওই ইংরেজ অধ্যাপক ভারতীয়দের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে ভালো করেননি, আর আমি সুভাষ বসুর মতো এমন একজন প্রতিভাবান ছাত্রের জীবন শুরুতেই শেষ করে দিতে পারি না। তিনি সুভাষ বসুকে স্কটিশ চার্চ মিশন কলেজে ট্রান্সফার করার ব্যবস্থা করে দিলেন। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় একজন আপাদমস্তক পণ্ডিত ব্যক্তি, মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন অসাধারণ প্রশাসক ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য পি জে হার্টগও একজন সাহেব ছিলেন। হার্টগ একজন রসায়নবিদ ছিলেন, তবে পেশা হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেছে নিয়েছিলেন। প্রথমে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ও পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক রেজিস্ট্রার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যে স্যাডলার কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তিনি সেই কমিশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং এই পদে তিনি ১৯২৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন আর একজন ইংরেজ জি এইচ ল্যাংগলি। ল্যাংগলি একজন ইংরেজ হলেও তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে দর্শনের শিক্ষক ছিলেন। একজন পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহম্মদ ফজলুর রহমান। শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বেশ কয়েকবছর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে লিখেছিলেন, আহম্মদ ফজলুর রহমানের উপাচার্য হওয়ার একমাত্র যোগ্যতা ছিল তিনি মুসলমান ছিলেন। তার পাণ্ডিত্যের কথা তেমন একটা শোনা যায় না। ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক আহম্মদ ফজলুর রহমান (পরবর্তী সময়ে স্যার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ড. মাহমুদ হোসেন (জন্ম পেশাওয়ার, ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ড. জাকির হোসেনের ভাই), প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আরসি মজুমদার, বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী (পরে রাষ্ট্রপতি), ড. মোজাফ্ফর আহম্মদ চৌধুরী, ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর মতো পণ্ডিত ব্যক্তিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে শেষের তিনজনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন। ড. মাহমুদ হোসেন পরবর্তী সময়ে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন বড় সমর্থক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সৃষ্টি করলে তিনি ড. মোজাফ্ফর আহম্মদ চৌধুরীকে কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলে ড. মোজাফফর আহম্মদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর লাশ ধানমন্ডির সিঁড়িতে রেখে খোন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তিনি জীবনের মোহের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরী কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন ড. ওসমান গনি। প্রথমবারের মতো তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য বানানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আইয়ুব খানের বশংবদ পূর্ব বাংলার গভর্নর মোনায়েম খানের পেটোয়া বাহিনী এনএসএফকে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার তিনি লাইসেন্স দিয়েছিলেন। তারা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবু মাহমুদের মাথা ফাটিয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে ১৯৫৩ সালে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন অধ্যাপক ইতরাত হোসেন জুবেরি। অধ্যাপক জুবেরি এক সময় কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। কলকাতায় তিনি বঙ্গবন্ধুরও শিক্ষক ছিলেন। তিনি শুধু একজন সজ্জন ব্যক্তিই ছিলেন না, একজন দক্ষ প্রশাসকও ছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক খান সারওয়ার মোর্শেদ ও প্রফেসর মাজহারুল ইসলামের মতো পণ্ডিতজনেরা উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. এআর মল্লিককে। পরবর্তী সময়ে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু তাকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষাসচিব, পরবর্তী সময়ে ভারতে বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু তাকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। সম্ভবত শুধু তার আমলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় একজন শিক্ষাবিদের হাতে ন্যস্ত ছিল। বঙ্গবন্ধুর অনেক অসাধারণ গুণের মধ্যে একটি ছিল তিনি কাকে দিয়ে কী কাজ হবে, সেটি ঠিকই বুঝতে পারতেন।

শেষ করি এই বলে—উপাচার্যের দায়িত্বটা একজন কেরানির দায়িত্ব হতে ভিন্ন। তার শুধু পাণ্ডিত্যই থাকলে হবে না, সঙ্গে থাকতে হবে প্রশাসনিক দক্ষতা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ পর্ষদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। জীবনে কখনও বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেননি, তাকে যদি উপাচার্যের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা হতেই পারে। পূর্বের তুলনায় বর্তমান সময়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন অনেক চ্যালেঞ্জিং, তবে তা সুষ্ঠুভাবে পালন করা অসম্ভব নয়। একটু সৎসাহস থাকতে হবে। একজন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় না পাওয়া যেতে পারে, একজন আবদুল মতিন চৌধুরী তো পাওয়া যাবে।

লেখক: আব্দুল মান্নান, বিশ্লেষক ও গবেষক