'ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি আরো যুগোপযোগী ও মানসম্মত করা সম্ভব'


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-09-30 17:18:22 BdST | Updated: 2019-10-21 07:26:13 BdST

এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথমবার এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘ ইউনিটের পুনঃপরীক্ষা নেয়ার আন্দোলনের সময় এই দাবি আমরা জানিয়েছিলাম।

লিখিত পরীক্ষার নম্বর ক্রমান্বয়ে আরো বাড়িয়ে সার্বিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা এবং ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরো কমিয়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো যুগোপযোগী ও মানসম্মত করা সম্ভব।

এ আহ্বান আমাদের থাকবে। পূর্বের বছরগুলোতে ডিজিটাল জালিয়াতি ও অনিয়মের অনেক ঘটনা দৃষ্টিগোচর হত। আমরা এবার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলাম এবং প্রশাসনকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলাম। শতভাগ মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে একজন শিক্ষার্থীও যাতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভর্তি না হতে পারে- এটি আমাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল। আমরা আরো চেয়েছি ভর্তিচ্ছু বন্ধুরা যেন সব ধরনের আনুষঙ্গিক সুবিধা পেয়ে, বন্ধুবৎসল পরিবেশে সময় অতিবাহিত করে, সুন্দর একটি মানসিক অবস্থা নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারে।

একই সাথে চেয়েছি, দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকেরা আসেন, তারা যেন ভালোবাসা আর নিশ্চয়তার একটা অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বাড়িতে ফিরতে পারেন, তারা যেন এ অনুভূতি নিয়ে এখান থেকে যান যে তাদের সন্তানেরা সঠিক পথেই আছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি, নানাধরনের সীমাবদ্ধতার জন্য হয়তো প্রত্যাশার পুরোটা আঙ্গিকের রুপায়ন আমরা ঘটাতে পারিনি। তারপরও প্রচেষ্টা ছিল। তারুণ্যের উৎসবে মুখরিত এ ক্যাম্পাসকে সত্য-সুন্দর-ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার সুমহান ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা।

বিশেষ করে, অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, জেলা সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যমের বন্ধুসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ। ছাত্রলীগের সর্বস্তরের কর্মীরা এই কয়েকটা দিন নিজেদের সবটুকু সময়, আত্বনিবেদন, প্রয়াস উৎসর্গ করে দিয়েছিল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বন্ধুদের জন্য। সাংগঠনিকভাবে সব কিছুর আর্থিক দায়ভার আমরা গ্রহণ করতে পারিনি, শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারিনি; কিন্তু তারপরও সবকিছুই তারা সুসম্পন্ন করেছে। আমাদের এই বোধ শক্তিশালী হয়েছে যে, আদর্শের লড়াইয়ে তোমরা কখনোই পরাজিত হবে না। আর নাম না জানা, পরিচয় না জানা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের সাথে আর দেখা হোক বা না হোক যে অচ্ছেদ্য বন্ধনে তোমরা আমাদের বেঁধেছ, ছাত্রলীগ সবসময় তা গভীরভাবে অনুভব করবে।

তোমাদের উৎসুক চাহনি, হঠাৎ অপ্রস্তুত হাসি, পরীক্ষা নিয়ে অযুত চিন্তায় ভরা মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনে রাখবে। তোমাদের পথচলায় আমাদের কথা মনে থাকুক বা না থাকুক, আমাদের শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির মিছিলে তোমাদের স্বপ্নের কথাই আমরা বলে যাব। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: সাদ্দাম হোসেন_ডাকসুর এজিএস এবং ঢাবি ছাত্রলীগের জিএস