ছাত্রাবস্থায় অবাঞ্চিত হয়ে ঢাবিতে ঢুকতে পারেননি রুবানা হক!


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-04-05 12:54:55 BdST | Updated: 2020-06-07 16:14:45 BdST

আসলে বাংলাদেশের উন্নয়নে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি যতটা কান্ট্রিবিউট করেছে বাংলাদেশের ক্ষতির পেছনে ঠিক ততটাই অবদান রেখেছে। এই সেক্টর থেকে আসলে জিডিপির মাত্র ৬% থেকে ৭% আমাদের অর্থনীতিতে অবদান। । কিন্তু সরকার এদের যেইভাবে তোয়াজ করে যেন এরা জিডিপির ৯৩% থেকে ৯৪% অবদান রাখছে। এরা বিমানে বিজনেস ক্লাসে চড়ে। দেশের বিমানবন্দরে নামলে vip টার্মিনাল দিয়ে যায়। এরা দেশ থেকে প্রতিবছর হাজার লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে। এরা ঋণের নামে আমাদের ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে। এরা এই কাজগুলো করে এক পা এখানে রেখে। এদের অন্য পা ও সারা শরীর থাকে অন্য দেশে। দেখুন না? সরকার হাই কোর্ট সুপ্রিমকোর্ট সবাই হাতিঝিলে অবৈধ জমির উপর গড়ে উঠা ভবনটি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কিন্তু তারা এত ক্ষমতাবান যে কারো কথা শুনবেন না। এখানে ডাবল ক্রাইম। ১. অবৈধ জমির উপর ভবন বানানো ২. ভবন ভাঙার নির্দেশ অমান্য করা।

অন্যদিকে বাংলাদেশের উন্নয়নে রেমিটেন্সের অবদান জিডিপির ৭% থেকে ১০%! এরাই আসল নায়ক। কিন্তু এরাই সবচেয়ে অবহেলিত। এরা যখন বিদেশ থেকে দেশে আসে এদের বিমানবন্দরে নাজেহাল করা হয়। গ্রীন চ্যানেল দিয়ে যেতে চাইলে কাস্টমস কর্মকর্তারা নাজেহাল করে। এরা কিন্তু কোন টাকা পাচার করে না।

গার্মেন্টস মালিকরা করোনার এই সময়ে যা করল সেই ক্ষতি কতটা অপূরণীয় সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে আজকে গার্মেন্টস মালিক সমিতির নেতা রুবানা হককে নিয়ে দুটো কথা বলতেই চাই। এই রুবানা হক আমার সমবয়সী। বড়জোর এক বছরের বড় হবে কিংবা এক বছরের ছোট হবে। আমরা একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। যতটুকু মনে পরে এই রুবানা আমার ক্লাসের তখনকার সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র সোহেল খানের বান্ধবী ছিল। মনে হয় তখন সে প্রায় প্রতিদিনই কার্জণ হলে আসতো তবে বেশিক্ষন থাকতো না। তবে রুবানা হককে চিনতে হলে আমাদেরকে ১৯৮৩ সালে ফিরে যেতে হবে।

.

১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এরশাদ প্রস্তাবিত গণস্বার্থবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ঢাবিতে সমাবেশ মিছিল করে। সেই মিছিল ঢাবি থেকে শিক্ষাভবন অভিমুখে হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছলেই স্বৈরশাসক এরশাদের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে গুলি চালিয়েছিল। গুলিতে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন ও দিপালীসহ অনেক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছিল এবং সামরিক জান্তা তাদের অধিকাংশের লাশ গুম করে ফেলেছিল। সেই রাতেই বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানে রুবানা হক সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ব্যাখ্যা করার আয়োজন করে। স্বৈরশাসক এরশাদের নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে কতিপয় তরুণকে ভাড়া করে এনে তাদের দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ানো হয় সে অনুষ্ঠানে।

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রুবানা হককে ঢাবি অবাঞ্চিত ঘোষণা করে এবং ছাত্রাবস্থায় সে আর কোনদিন ঢাবিতে আসতে পারেনি। এখনতো কেবল সুবিধাবাদীদের পক্ষ নেওয়াই না বরং নিজেই এখন সুবিধাবাদীদের একজন হয়ে গিয়েছেন। এবং তার চরিত্র একটুও বদলায়নি। তার প্রয়াত স্বামী আনিসুল হকও সুবিধাবাদীদের একজন ছিলেন কিন্তু তিনি একই সাথে মানবিকও ছিলেন। আজকের রুবানা হক আর সেদিনকার রুবানা হকের মাঝে আমি কোন পার্থক্য দেখিনা।

লেখক: কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়