রাতের আকশে বিভিন্ন আলোর বিশাল ঘুড়ি ও গ্রামের ঐতিহ্য


Dhaka
Published: 2020-05-12 17:42:52 BdST | Updated: 2020-05-31 13:33:31 BdST

"ঘুড়িরা উড়িছে বন মাথায়।
হলদে সবুজে মন মাতায়।
গোধূলির ঝিকিমিকি আলোয়
লাল সাদা আর নীল কালোয়,
ঘুড়িরা উড়িছে হালকা বায়।"

কবি আবুল হোসেনের লেখা বিখ্যাত কবিতা যেন বাস্তব হয়ে রয়ে গেছে মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার কমলাপুর গ্রামে। এখানে প্রতিবছরের একটি এতিহ্য ঘুড়ি উড়ানো। এখানকার ছেলেরা বৈশাখ মাসে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে বিকেলেই বেরিয়ে যায় হাতে বাহারি রঙের ঘুড়ি নিয়ে। ধানক্ষেতের পাশে কিংবা খোলা মাঠে রীতিমত মত ঘুড়ির উৎসব চলে গভীর রাত পর্যন্ত। রাতের তারার সাথে উড়তে থাকে বিভিন্ন আলো সংযুক্ত ঘুড়ি যা জোছনার আলোর নির্মল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। প্রথম দেখায় বিস্ময় জাগে লাল,নীল,সবুজ রঙের তারা আকাশে দেখে, কিন্তু একটু কাছে গিয়ে দেখলে বুঝা যাবে এটা মুলত নান্দনিক ছেলেদের বানানো ডিজিটাল ঘুড়ি যা আকাশে উড়ানো হয়েছে । স্থানীয় লোকেরা জানান,"এই ঘুড়ি দুই ধরনের হয় ১.শুধু কাগজের ঘুড়ি,২. মোটা কাগজ বা পলিথিনের ডিজিটাল ঘুড়ি যাতে বিভিন্ন রঙের মরিচ বাতি বা ঝার বাতি সংযুক্ত থাকে এবং সাথে থাকে চার্জকৃত একটি ব্যাটারি। এমনকি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী "ডেপশ ঘুড়ি"র সাথে থাকে হারিকেন যাতে আলো জ্বালিয়ে মেঘের দেশে পাঠিয়ে দেয় অতি নিপুণ দক্ষতায়।"

এখন ডিজিটাল ঘুড়ি ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে গ্রামে গ্রামে। এখন মুলত ডিজিটাল ঘুড়ি ছেলেদের প্রদান আকর্ষণ। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য তারা এই ঘুড়ি নিজেরাই তৈরি করেন মনের আনন্দে।

কমলাপুর গ্রামে আরও যে বিরাট আকারের ঘুড়ি দেখা যা তা হলো পতেঙ্গা,চিল,ডেপশ, চিল্লা,বাক্স,তেলেনগা ঘুড়ি ইত্যাদি। গ্রামে দেখা যায় এই ঘুড়ি নিয়ে সবাই পড়ন্ত বিকেলেই মাঠে বেরিয়ে আসে। আর তা দেখার জন্য অনেকেই ছুটে যায়। দূরে দাড়িয়ে সবাই আনন্দের সাথে উপভোগ করে ঘুড়ি ওড়ানো যা গ্রামের একটি নির্মল বিনোদনও বটে। আবার পাশের গ্রাম আইসার,শশিকর থেকে উড়ে আসে বিভিন্ন আলোয় সজ্জিত ঘুড়ি, বিশাল ধানক্ষেত মাঠে যা একটি আলাদা মাত্রা যুক্ত করে।

গ্রামবাসী জানায়,"বর্তমানে সবাই করোনার কারণে অনেক সময় পাচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর জন্য। এমনকি যারা ঘুড়ি উড়ায় তারা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই ঘুড়ি নিয়ে মেতে উঠে। " বহুপুরোনো এই ঘুড়ি উড়ানোর ব্যাপারটি ব্যাপক সমাদৃত গ্রামে। কারন এর মাধ্যমে যেমন বিনোদন পাওয়া যায়,তেমনি নানা রকম অপকর্ম থেকে দূরে থাকে।
এলাকার মানুষ ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির এই আয়োজনে অনেক খুশি।তাই গ্রামবাসী আশাকরেন ঘুড়ির এই খেলা টিকে থাকবে বছরের পর বছর। এমন কালোত্তীর্ণ নানা আয়োজন টিকে থাক সোনার বাংলার গ্রামে গ্রামে।

লেখক,
আহমেদ রেজা,
উপ-পরিদর্শক,
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
[email protected]