প্রাইভেট-পাবলিক বিভেদ নেই, সকলের সাথে জ্ঞানের আদান প্রদান


Dhaka
Published: 2020-05-17 22:01:29 BdST | Updated: 2020-05-31 12:47:24 BdST

প্রাইভেট ভার্সিটি বনাম পাবলিক ও একটি চিঠি

সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কতিপয় শিক্ষার্থীর সাথে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীর অনলাইন কেন্দ্রিক বাকবিতণ্ডা দেখছি। এটিই প্রথম নয়, এর পূর্বেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিজদের মাঝে এমন ঝগড়া বিবাদ করেছে। আমি অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে কিছু লিখালিখির নিয়ত করে রেখেছিলাম। সে নিয়ত থেকেই আজ লিখতে বসলাম।

প্রথমত নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু করি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রশংসা করব না কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে চেনানোর কিছু নেই। এ দেশের প্রতিটি মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোবাসে। এর থেকে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমার লজ্জা হয় যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বাজে কথা বলে কিংবা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়। যে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দেশের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তার শিক্ষার্থীদের নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অহংকার করার কোনো মানে হয় না। বরং নতুন করে আমরা দেশ ও জাতিকে কী দিতে পারলাম তা নিয়ে আলোচনা করাটাই বুদ্ধিমত্তা। আমরা ঢাবির ছাত্র হিসেবে ঢাবির জন্য, দেশের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি তার হিসাব কষাই হবে আদর্শ শিক্ষার্থীর আচরণ। একই সাথে মনে রাখতে হবে অন্যের মতামত কিংবা অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের শিক্ষাই ঢাবির শিক্ষা। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়েও এখানে এসে ঢাবির শিক্ষার্থীদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে রাজনীতি করেছেন। কেউ তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি। এটাই ঢাবির শিক্ষা।

'আমরা শিক্ষার্থী' এর থেকে বড় কোনো পরিচয় নেই। কে ঢাবির, কে নর্থ সাউথের এ নিয়ে সাম্প্রদায়িকতা শুধুই হিংসা প্রসব করে। হিংসা একটি জারজ সন্তান। ঢাবির কষ্ট হয় যখন তার শিক্ষার্থীরা জারজ সন্তান প্রসব করে।

অতঃপর প্রাইভেট ভার্সিটি সম্পর্কে আমি একটি খোলা চিঠি লিখতে চাই।

প্রিয় প্রাইভেট ভার্সিটির শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
ঢাবি থেকে সালাম ও ভালোবাসা নিবেন। প্রথমত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে ঢাবির কতিপয় শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় প্রাইভেট ভার্সিটি সম্পর্কে কটু মন্তব্য করে। কিন্তু এ কথা পরম সত্য যে অধিকাংশ ঢাবি শিক্ষার্থী দেশের সকল ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সম্মান করে এবং ভালোবাসে। আমার অনেক প্রাইভেট ভার্সিটি পড়া বন্ধু আছে যারা আমার হলে এসেছে। রাত থেকেছে। এখানে সত্যিই ছাড়পোকার উপদ্রব রয়েছে। কিন্তু প্রাইভেটের বন্ধুরা আসলে আমি বিছানা নতুন করে পরিষ্কার করে তার শোয়ার ব্যবস্থা করেছি যাতে ছারপোকা কম কামড়ায়। বন্ধুরা একসাথে হলের ক্যান্টিনে বসে খেয়েছি। জহু হলের পুকুর দেখে প্রাইভেটের বন্ধুরা মুগ্ধ হয়েছে। এস এম হলের গম্বুজের উপর বন্ধুদের নিয়ে গিয়েছিলাম। তারা ছাড়পোকার কামড় মেনে নিয়ে সেই গম্বুজে জীবন কাটিয়ে দিতে চেয়েছে। আমাদের মাঝে বন্ধন এমনই।

আমিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রাইভেট ভার্সিটিতে গিয়েছি। প্রাইভেট ভার্সিটিতে বাহিরের কেউ ঢুকতে পারে না কিন্তু বন্ধুরা আমাকে চুরি করেও ঢুকিয়েছে। এটা সে ভার্সিটির নিয়োম বহির্ভূত হলেও বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা। বিশেষ করে 'এ আই ইউ বি'র প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কেননা আমি প্রথম এই ভার্সিটিতে দেখেছি প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয়। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন পরিচিত কর্মকর্তাদের থেকে ডিজিটাল প্রক্রিয়ার আদ্যপ্রান্ত জেনেছি। তারা সময় নিয়ে আমাকে সব বর্ননা করেছে। তারপর থেকে আমার স্বপ্ন একদিন ঢাবিও এমন ডিজিটাল হবে। আমাদের "রেজিস্ট্রার বিল্ডিং" এনালগ হবার কারণে অনেক ভোগান্তিতে পরতে হয়। ডিজিটাল হলে এই সমস্যা দূর হবে।

আমাদের ভার্সিটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রাম ও মফস্বল শহর থেকে উঠে আসা। ঢাকার আধুনিক জীবন যাপনের সাথে আমাদের এডজাস্ট করে নিতে হয়। এজন্য মাঝে মাঝে আমাদের বিভিন্ন আচরণ একটু দৃষ্টিকটু দেখায় এটা সত্য। কিন্তু আমাদের মন সরল। যখন প্রাইভেট ভার্সিটি শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যবসা করে তখন আমরা কষ্ট পাই। কোনো একদিন প্রাইভেট ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা যদি এর বিরুদ্ধে কথা বলে তবে আমরা আপনাদের সাথে শাহবাগে আওয়াজ তুলব। একাত্মতা প্রকাশ করব। প্রয়োজনে পুলিশের লাঠিগুতা খাব। এটি আমাদের সরল মনের ভালোবাসা।

এই দেশে প্রাইভেট পাবলিক বলে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সকল ভার্সিটির শিক্ষার্থী। সকলের সাথে আমাদের জ্ঞানের আদান প্রদান।

পরিশেষে বলতে চাই, দু'একজন শিক্ষার্থী বন্ধু বান্ধবের বিদ্রুপ মন্তব্যের স্কিন শট নিয়ে আপলোড করে গালমন্দ করা বেহুদা সময় নষ্ট ছাড়া কিছু নয়। ঢাবিয়ানদের উচিৎ এ আই ইউ বি'র ডিজিটাল রেজিস্ট্রার বিল্ডিং দেখে এসে সিনেট ভবনের পাশের বিল্ডিংটিকে ডিজিটাল করার প্রেরণা নেয়া। প্রাইভেট ভার্সিটির উচিৎ ঢাবিয়ানদের থেকে আওয়াজ তুলার প্রেরণা নিয়ে প্রাইভেট ভার্সিটির বাণিজ্যে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। উভয় কাজে আমরা সবাই সবাইকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। ভার্সিটির ছাত্র হবার পূর্বে আমরা জ্ঞানের ছাত্র।

ভালোবাসা সবাইকে।

লেখক: মাহমুদ হাসান তাবিব