বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রসনাবিলাসের স্মৃতি


Dhaka//Prothomalo
Published: 2020-07-04 21:31:02 BdST | Updated: 2020-08-09 06:18:00 BdST

২৩ বছর হলো দেশের বাইরে। দেশে ফেলে আসা কত স্মৃতি আজও মস্তিষ্কে আটকে আছে, ঘুরপাক খাচ্ছে কত রসনাবিলাসের ইতিকথা, যা এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে একটু আলোকপাত করলে মন্দ হয় না। করোনার মাঝে জীবন যেন একেবারে থমকে গেছে। মস্তিষ্কের সেলগুলোও যেন সচলতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই স্থবিরতার মধ্যে ভাবছি অতীতের রসনাবিলাসের স্মৃতি যদি পাঠকদের জন্য আলোকপাত করি, তা হয়তো মন্দ হবে না।

অতীতের কথা। তখন টগবগে তরুণ। থাকা ও খাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে। ক্যানটিনের খাবার নাজুক। হলে থেকে যাঁরা পড়ালেখা করেন, তাঁদের ঢাকার সরু গলির কত ছোটখাটো রেস্টুরেন্টের খাবার যে খেতে হয়, হলে না থাকলে তা বোঝা বড়ই দুষ্কর। আমি যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে এলাম, সেটাই ছিল তখন জীবনে প্রথম ঘর থেকে বাইরের কোনো শহরে মা-বাবা থেকে দূরে যাওয়া এবং মায়ের রান্নার স্বাদগুলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার বেদনা।

১৯৮৮-৮৯ সালের দিকের কথা। তখন সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে পড়ালেখা শুরু করেছি। শুরুতে বন্ধুহীন জীবন। সঙ্গে ১২৫ টাকা মূল্যের খয়েরি ব্যাগ। তাতে নীলক্ষেতের কম দামের লেখার খাতা। সেই ব্যাগ নিয়ে কার্জন হলের রসায়ন বিভাগের লাল ইটের বারান্দা ও ক্লাসরুমগুলোর সঙ্গে পরিচিতি একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের সাবসিডিয়ারি ছিল পদার্থ ও ম্যাথ। শহীদ মিনারের পাশের এনেক্স ভবনে তখন ম্যাথের সাবসিডিয়ারির জন্য হাঁটাহাঁটি করি। অবশ্য ইতিমধ্যে কার্জন হলের লাল রঙের অপরূপ সৌন্দর্যের ভবনগুলোর প্রতি মায়া জন্মাতে শুরু করেছে। হলে তখনো সিট পাইনি, পাওয়ার আশাও নেই। ডাবলিং থাকতে শুরু করেছি শহীদুল্লাহ হলের এক্সটেনশন টু-এ। সেখান থেকে পায়ে হাঁটা পথ হল কার্জন হলের ক্লাসরুমগুলো। সকাল আটটার ক্লাস ধরতে তাই তেমন কোনো বেগ পেতে হতো না। তবে সকালে শহীদুল্লাহ হলের ক্যানটিনের নাশতার জন্য অপেক্ষায় থাকলে প্রথম ক্লাসটি মিস হয়ে যেত অনায়াসে। পরোটা, ভাজি ও ডিম পোজের অর্ডার দিলে ক্যানটিনের বয়রা প্রথমে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। কার মুখ কত পরিচিত, তার ওপর ভিত্তি করে খাবারের টেবিলে নাশতা আসা প্রাধান্য পেত। যেহেতু নতুন ছাত্র, মুখ অপরিচিত, নাশতা পেতে হতো দেরিতে। কিছুই বলার নেই। কখনো কখনো না খেয়েই ক্লাসে দৌড়।

কিন্তু পেটের মধ্যের ক্ষুধা নামক দৈত্যটিকে থামাবেন কী করে? কিছু না খেয়ে ক্লাসে গেলে ক্ষুধা ‘দৈত্যটি’ চোঁ চোঁ করে শব্দ করতে থাকত। সেই অবিরাম শব্দটি নিয়ে ক্লাসে গেলে কি আর অরগানিক কেমিস্ট্রির জটিল রিয়অ্যাকশন মেকানিজম ভালোভাবে মগজে ঢুকবে? নিশ্চয় নয়। কথায় আছে না, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। তাই পেটের গহিনের চোঁ শব্দটিকে থামাতে হলের ক্যানটিনের বিকল্প খুঁজে পেয়েছিলাম ‘জহিরের’ ছোট্ট দোকানে। জহির অমায়িক ছেলে। তাঁর জীবিকা চলে দোকানেই। কার্জন হলের ‘অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি’ বিভাগের সামনেই ছিল জহিরের দোকানটি। শৃগালের ক্ষুধার মতো ক্ষুধার্ত উদরে সেখানকার আলু-শিঙাড়া ও সকালের চা (এককাপ শরবত) অনেক সময়ই আমার পাকস্থলী দিয়ে নেমে যেত। এরপর একটানা তিন-চারটা ক্লাস। এ সব আলুর সিঙাড়া খেয়ে অধ্যাপক মশিহুজ্জামান স্যারের জৈব রসায়নের বিক্রিয়া, কিংবা মহিবুবুর রহমান স্যারের এটকিন্সের বই থেকে পড়ানো ভৌত রসায়নের কেমিক্যাল ইকুইলিব্রায়া কি সহজে বোঝা যায়? না বুঝে পাস করার উপায়ই বা আর কি আছে, বলুন?

সকালের ক্লাসগুলো শেষে দুপুরে ভোজের সময় ঘনিয়ে আসত। আমরা জিওলজির (ভূতত্ত্ব) পাশের সায়েন্স ক্যাফেটারিয়াতে যেতাম। শুনে হয়তো অবাক লাগবে যে তখন মাত্র ৮ বা ৯ টাকায় তেহারি পাওয়া যেত সেখানে। পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। খাওয়া শেষে মনে হতো পাকস্থলীর অনেক বড় একটি আয়তন খালি আছে। খালি জায়গার এক কর্নার থেকে ক্ষুধা নামক দ্বৈতটি আবার চোঁ চোঁ চিৎকার করে জানান দিত যে তার আরও এক প্লেট লাগবে। কিন্তু উপায় নেই যে গোলাম হোসেন। লাঞ্চের জন্য বরাদ্দ আছে কেবল ওই ৮ থেকে ১০ টাকা।

অবশ্য মাঝেমধ্যে চানখাঁরপুলের ‘মিতালী’, ‘সোহাগ’ ও ‘নীরব’-এর (নাজিমউদ্দিন রোডে) দিকেও হাঁটা দিতাম আমরা। সেখানকার ফেটানো বা বাড়ি দেওয়া পরোটার সঙ্গে গরুর মাংসের লোভনীয় ভুনার প্রতি জিব নামক ইন্দ্রিয়টির একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করেছিল। জেলখানার পাশের অতিপরিচিত সেই ‘নীরব’-এ বসে যাদের একবার আহার করার সুযোগ হয়েছে, তাঁদের হয়তো নীরবের হরেক রকমের বাঙালি ভর্তা, ভাজি ও ভুনার মাংসের কথা কখনো ভোলার নয়। আমার জিব ইন্দ্রিয়টি যা আজও ভোলেনি। পাশাপাশি এটাও ঠিক, শহীদুল্লাহ হলের ডাইনিং ও ক্যানটিনের অতি স্বচ্ছ পাতলা ডালও ছিল অভুলনীয়। সেই স্বচ্ছ তরল ডালের উপরিপৃষ্ঠকে চেহারা দেখার জন্য ‘মসৃণ আয়না’ বললে খুব একটা অত্যুক্তি বলা হবে না। নিজেদের বুভুক্ষ চেহারাটার মধ্যে মাথার চুলের সিঁথি বা ভাঁজটা ঠিক আছে কি না, হালকা করে হলেও তা আমরা দেখার চেষ্টা চালাতাম ডালের মসৃণ আয়নাতে।

শহীদুল্লাহ হলের মসৃণ ডালের বর্ণনা অবশ্য অন্যভাবেও দেওয়া যেতে পারে। ধরুন, ডালের মধ্যে জীবন্ত একটি পুঁটি মাছ ছেড়ে দেওয়া গেল। মাছটি হয়তো মনের আনন্দভরে ডালের স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটতে পারবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, এমনকি সেই ডালের কিঞ্চিৎ প্রোটিনযুক্ত পানি খেয়ে পুঁটি মাছের মতো ক্ষুদ্র প্রাণী হয়তো বাড়তি কিছুদিন তার জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করলেও করতে পারে, কিন্তু একজন ছাত্রের বাড়ন্ত শরীরে প্রোটিনের যে চাহিদা থাকে, তা ওই স্বচ্ছ ডালের পানিতে নিবারণ করা ছিল বড়ই দুষ্কর। তবুও তা খেতে হতো।

সেদিক দিয়ে ফজলুল হক হলের ব্যাপারটা ছিল একটু আলাদা। সেখানে হলের ছাত্রদের জন্য একটি খাবার মেস চালু ছিল। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ছাত্ররা মেস চালাতেন। আমার বন্ধু আবদুস ছালাম (বর্তমানে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক), সৎ ছেলে। সে সময় মেসের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অল্প পয়সায় উন্নত মানের খাবার সরবরাহের এক নজির স্থাপন করে জনপ্রিয় হয়েছিল, খাবারের মানের মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সে প্রমাণ করেছিল যে সৎ থাকলে স্বল্প পয়সাতেও ভাল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যায়। খাদক বলে ছোটখাটো একটা উপাধি তখন আমার নামের পাশে ছিল। খাদক বিধায় সুযোগ হয়েছিল মাঝেমধ্যে ফজলুল হক হলের মেসে গিয়ে ভোজনের। আরেক বন্ধু ফর্সা ছালাম (সে–ও বর্তমানে রসায়নের অধ্যাপক) আমার জন্য সে–ই বন্দোবস্ত করেছিল।

ফজলুল হক হলের ঠিক দক্ষিণ-পূর্ব পার্শেই বঙ্গবাজার। কী ছিল না সেখানে? আহা হা হা! টি-শার্ট, প্যান্ট, আন্ডারপ্যান্ট, শরীরের আরেও ছোটখাটো অংশের যেসব ত্যানার মতো কাপড়ের প্রয়োজন পড়ত, স্বল্প মূল্যের সব কাপড়ের খনি বঙ্গবাজার। বাজারের উল্টো দিকে ফায়ার সার্ভিসের অফিস। অফিস-সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে পুরান ঢাকার দিকে একটু হাঁটা দিলেই পাওয়া যেত ‘হাজীর বিরিয়ানি’। যত দূর মনে পড়ে, সে সময় পঁচিশ টাকা পার প্লেট (প্রায় পঁচিশ বছর আগের দাম বলছি)। তা–ও লাইন দিয়ে পাওয়া যেত না। দু–একবার লাইনে দাঁড়িয়েও মিস করেছি, হতাশ হয়ে ফিরে এসেছি। মাত্র বড় দুই কাঁসার পাতিল ভরা বিরিয়ানি থাকত সেখানে। পাতিলের বিরিয়ানি শেষ হলে বেচাকেনা শেষ, খাওয়াও শেষ, আরেক প্লেট চাইলেও পাওয়া যেত না। বেশ সুস্বাদু ছিল সেই হাজীর বিরিয়ানি। পুরান ঢাকার আরও একটু ভেতরে গেলেই পাওয়া যেত স্টার রেস্টুরেন্ট। সেখানকার ‘কাচ্চি বিরিয়ানি’ ছিল প্রশংসনীয়, খুব মজাদার। ছোট্ট পেটে দুই প্লেট কাচ্চি কি ঢুকানো যায়? কিন্তু কেউ যদি কখনো ফ্রি অফার করে, তাহলে উদরের আয়তন ছোট হলেও সেখানে দুই প্লেট চালান না করার উপায় কি আর থাকে? নড়াচড়া করে হেঁটে হুটে চাপ দিয়ে হলেও ফিট করাতে হয়। বেশ মনে পড়ে সেসব, মিস করি যা এখনো।

কার্জন হলের ফার্মেসি বিভাগের ঠিক গা ঘেঁসে পূর্ব দিকে মামুর (কমন মামু) একটি দোকান (রেস্টুরেন্ট) ছিল। সেখানেও ক্লাসের ফাঁকে উঁকিঝুঁকি দিতাম আমরা চায়ে চুমুক দিতে, সঙ্গে একটু নিকোটিনের (সিগারেট) বাতাস। গোল্ডলিফ, অথবা বাংলা ফাইভ। এক স্টিকে একটান ঠিকমতো দেওয়া শেষ না হতেই দু-তিনজন পাশে থেকে তাতে বুকিং দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। মাত্র একটান, দে তো তাড়াতাড়ি। আহা কি সুখ তাতে সেই টানের! ছোট্ট এক শলাকা, কত ভাগাভাগি তাতে, খালি হাতবদল। একহাত থেকে আরেক হাতে। খানিক পড়ে পেটের মধ্যে বেশি মোচড় দিলে মধ্যাহ্নভোজটাও এলোমেলোভাবে কিছু না কিছু মুখে দিয়ে সেখানেই সেরে ফেলতাম আমরা।

আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল। দুটি দোয়েল পাখি তাদের চারটি ডানা নীল আকাশের দিকে উঁচিয়ে কি এক অপরূপ সৌন্দর্য নিয়েই না পাশাপাশি বসে আছে। যেন ভালোবাসার কথা বলছে তাঁরা, নিবিড় ভালোবাসা। যে ভালোবাসায় থাকে হার্ট টু হার্ট কানেকশন, অন্তরের কথা। স্থপতি আজিজুল জলিল পাশার সেই অপরূপ ভাস্কর্য ‘দোয়েল চত্বর’ কার্জন হলের ঠিক পশ্চিম গেটের সামনে। তার একটু পশ্চিমেই ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরি। পাশে গড়ে উঠেছে ‘খন্দকার মোকাররম হোসেন ভবন’। আমাদের সময়ে রসায়নের অনেক ক্লাস এ ভবনেই চালু হয়েছে। ক্লাস যখন জমজমাটভাবে চালু হলো সেখানে, মূলগেটে ঢোকার ঠিক ডানে এক কোনায় আরেক মামু একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে ফেললেন। বাঁশের ঘেরা দিয়ে তৈরি রেস্টুরেন্ট। আমরা মাত্র আট থেকে দশ টাকার মধ্যে এক পিস খাসির মাংসের সঙ্গে এক টুকরো আলু ও ঝোল দিয়ে (সঙ্গে ফ্রি পাতলা ডাল) পেট পুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে ফেলতাম। আহ! কি যে সেই সুধা সেই ঝোলের, ভোলা কি যায় যদি ভোলা মন তা ভুলতে না চায়? শুধু কি তা–ই? একটু প্রশান্তির ঢেঁকুরও যে অজান্তে বেরিয়ে আসত গলার ভেতরের সেই চিকন গলি দিয়ে। খেয়েদেয়ে একটু পরেই বিকেলে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস বা ল্যাব অভিমুখে আবার দৌড় দিতে হতো। তারপর রসায়নের বিক্রিয়া হাতের দুই আঙুলের মধ্যে নাড়াচাড়া।

টিএসসির জনতা ব্যাংকের সামনে ডাসের খাবারও একেবারে মন্দ ছিল না। বিশেষ করে জিলাপি। রাজনীতিবিদদের মতোই ছিল জিলাপির প্যাঁচ, তবে তা ছিল বেশ রসাল ও সুস্বাদু। টিএসসির ভেতরের ক্যাফেটারিয়ার খাবারও বেশ ভালো ছিল। তবে নতুন নতুন ‘আশিক-আশিকিদের’ ভিড়ের ঠ্যালায় সেখানেও খাবার পাওয়া ছিল দায়। আমার ক্লাসমেট ঘনিষ্ঠ বন্ধু স ম ফারুক বলত, ‘রওশন’, চল যাই, একবার জগন্নাথ হলের ডাইনিংয়ে ঢুঁ দিয়ে আসি, সেখানে যে খাবারের মান, তাতে পয়সা উসুল হয়। তার কথায় সেখানেও অল্প পয়সায় বেশ কয়েকবার মধ্যাহ্নভোজন সেরেছি। খাওয়া শেষে যখন ঢেঁকুর বের হয়ে এসেছে, মনে হয়েছে কথা সে মন্দ বলেনি।

শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ঢোকার গেটে পা দিয়ে একটু ভেতরে বাঁদিকে ছিল একটি পরিচ্ছন্ন সুস্বাদু খাবারের ক্যানটিন। মূলত ইন্টার্ন ডাক্তার, মেডিকেলের ছাত্র বা স্টাফরাই খেত সেখানে। তবে অন্যের যাওয়া বা খাওয়া বারণ ছিল বলে মনে হয়নি। সে সুযোগটি আমি নিয়েছিলাম। একেবারে জোশ, মজাদার রুই মাছের ঝোল, কাতলা মাছের পেটি, পুঁটি মাছের চচ্চরি, মসুরের ডাল—না খেলে আসলেই মিস। শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরের ভেতরেও একটি খাবার ছোট্ট দোকান ছিল। নলা মাছের তরকারি, অল্প দাম, মোটামুটি খাবার, চলে আর কি।

সে সময় মতিঝিল এলাকায় যাওয়ার বয়স হলেও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে সে এলাকার রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সামর্থ্য হয়নি। তার পরেও কেউ যদি আমাকে ফ্রি- ভোজনের অফার দিত, সেটা মিস করতাম না। ‘ঘরোয়া’ রেস্টুরেন্টের নরম গরম ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ আমার জন্য ছিল জুতসই, একেবারে পারফেক্ট। সঙ্গে ইলিশ মাছের ফ্রাই। আহ! ঘরোয়ার আশপাশেও দু–একটা রেস্টুরেন্টে মাঝেমধ্যে ঢুঁ মেরেছি। মতিঝিল এলাকার খাবার মান ভালো বলা যায়, উঁচুতলার অফিসে উঁচু উঁচু মানুষেরা বসে তো তাই বোধ হয়।কলাবাগানের মিরপুরগামী রাস্তার ওপরেই ছিল ‘মামা হালিম’। মামা হালিমের নাম শোনেনি এমন মানুষ ঢাকাতে আছে বলে মনে হয় না। খুব পপুলার হালিম সে সময়। আমি সেই হালিমের লোভ সামলাতে পারতাম না। মিরপুর ১ নম্বর আনসার ক্যাম্পে মামার বাসা। ইউনিভার্সিটি থেকে সেখানে যাওয়া–আসার পথে মাঝেমধ্যেই কলাবাগানে ‘বিকল্প পরিবহনের’ বাস থেকে নেমে পড়তাম। তারপর মামা হালিম ভোজন সেরেই হলে ফিরতাম। দামে সস্তা, যত দূর মনে পড়ে, মাত্র ৮ টাকা পার বাটি হালিম। ডালের সঙ্গে মাংস ও বাঙালি মসলার মোহনীয় মিশ্রণ ও সুগন্ধ। আহ! কি যে সুধা আর ঘ্রাণ তার! প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি যে, একবার বাংলা একাডেমির বইমেলাতে (১৯৯২) আমরা রসায়নের বন্ধুরা মিলে একটি খাবার স্টল দিয়েছিলাম। স্টলটির নাম ছিল চম্পক। বাংলা একাডেমির ঠিক মেইন গেট বরাবর বাইরের রাস্তার ওপরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে প্রায় ঘেঁষে ছিল স্টলটি। চটপটি, ফুচকা আর কলাবাগান থেকে আনা মামা হালিমের সমাহার। মাত্র ৮ টাকায় কিনে এনে তিরিশ টাকায় বেচতাম আমরা। আমাদের ক্রেতা ছিলেন মূলত বইমেলায় আগত ইনোসেন্ট আপা ও ভাবিরা। মনে হতো আপা–ভাবিদের পয়সার কোনো অভাব ছিল না, দিল ছিল তাঁদের দরিয়ার মতো বড়, মনটাও ছিল বড় উদার। যদিও পরিস্থিতির চাপে অনেক সময় এক হালিমকে লবণ/ টমেটো/ পিঁয়াজকুচি/ পানি মিশিয়ে জোড়াতালি দিয়ে দুই বা তিনটাও বানাতাম আমরা। আপা/ভাবিরা তাতে মাইন্ড করতেন না। দামও কম দিতেন না। বরং হালিমের পার ফ্রাকশনের বিল ৩০ টাকা পরিশোধ করতে আপা বা ভাবিরা মোটেই কুণ্ঠিতবোধ করতেন না। দয়াবান ও শ্রদ্ধেয় আপা/ভাবিরা অনেক সময় হাতে কিছু বকশিশও ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। আমতা আমতা করে অনুনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেওয়া চেষ্টা করতাম আমরা, আবার মনের ভেতরে টিপস রেখে দেওয়ার এক অভিপ্রায়ও লুকিয়ে ছিল। খাবারের ব্যবসায় যে ব্যাপক লাভ আছে, এ রকম একটা ধারণা ও বিশ্বাস আমার জন্মেছিল সে সময়। আমরা রসায়নের বন্ধুরা মিলে বইমেলার সেই সময়টা বেশ এনজয় করেছিলাম—চম্পক স্টলকে ঘিরে। আমাদের সেই খাবারের স্টলের ঠিক পার্শেই আরেকটি স্টলে বসে আড্ডা দিতেন শ্রদ্ধেয় কবি নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা এবং সে সময়ের আলোচিত ও বর্তমানের নির্বাসিত লেখিকা তাসলিমা নাসরিন। প্রায় বিকেলে তাঁরা সেখানে আসতেন, আড্ডা দিতেন।

 

আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির আগে কখনো চায়নিজ রেস্টুরেন্টের দিকে যেমন পা বাড়ায়নি, তেমনি খেয়েও দেখার সুযোগ হয়নি টেস্ট কেমন। চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলো তখন ছিল মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক, মফঃস্বল শহরে ‘চুং কিং’দের নাম অবশ্য তেমন একটা শোনা যায়নি। তা ছাড়া একবার খেলে নাকি প্রায় ২০০ বা ৩০০–এর ওপরে টাকা লেগে যেত। সে ভয়ে আর ওদিকে পা বাড়ানো হয়নি। একবার এক টাকাওয়ালা সিনিয়র ভাই সেই টেস্ট নেওয়ার সুযোগ করে দিলেন। বন্ধু মাহমুদুর রহমান কলির সুবাদে কয়েকজন বন্ধু তাঁর সঙ্গী হলাম। গেলাম ফার্মগেটের একটি চায়নিজে। যত দূর মনে পড়ছে, নাম ছিল ম্যানিন। থাইসুপ, চিকেন বিরানি, ভেজিটেবল বিরানি আরেও বেশ কিছু খাবার ছিল। প্রথম অভিজ্ঞতা। মন্দ তো নয়ই। বরং প্রথমে কাঁটা চামুচ ব্যবহারের এক সঙ্কুচিত জটিলতা অতিক্রম করতে হলো আমাকে। সঙ্গে ইস্ত্রি করা সাদা শার্টে হালকা কিছু রং লাগিয়ে (অভ্যাস না থাকলে যা হয় আর কি) একেবারে পেট পুরেই খেলাম সবাই। সেই বড় ভাই বিল দিয়ে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য জানতে পারি, আমার আরেক বন্ধুরও এটাই ছিল চায়নিজে ভোজনের প্রথম অভিজ্ঞতা। আসলে সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যারা মফঃস্বল শহর থেকে উঠে আসা হলগুলোতে থাকতাম, ভালো মানের খাবারের জন্য মনটা কেমন জানি ছটফট করত। কেন করত, জানেন? এর পেছনে দুটি কারণ ছিল বলেই আমার বিশ্বাস। ১. পড়তে আসা ছেলেমেয়েরা হঠাৎ মায়ের হাতের নিয়মিত খাবারগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার এক দুঃসহ বেদনা তাড়া করতো, ২. হলগুলোর ক্যানটিন/ডাইনিংয়ের খাবারের মান এতটাই নিম্নমানের যে পাকস্থলী হয়তো ভরে যেত কোনো রকমে ডালেভাতে কিন্তু আহার থেকে যেত অনেকটায় অতৃপ্ত। বেগতিক হয়ে তাই ‘ইলেকট্রিক হিটার’ বসিয়ে হাউস টিউটরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকে সে সময় রুমের বারান্দায় রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা করে ফেলত। অবশ্য পেট ও জিবের চাহিদা মেটাতে সে সুযোগটি যে আমি নেয়নি তা নয়। রসায়ন ও প্রাণরসায়নের ৭–৮ জন বন্ধু মিলে হলের এক্সটেনশন টু-এর ৬০২ ও ৬০৯ নম্বর রুমে দুটি ‘ইলেকট্রিক হিটার’ বসিয়ে রান্নার অন্যায় পদ্ধতির আশ্রয় আমরা নিয়েছিলাম।

আমাদের বাবুর্চি ছোট ভাইদের নাম ছিল মি. জাহাঙ্গীর ও মঞ্জু মিয়া। বেচারাদের হাতের রান্না ছিল অসাধারণ, প্রশংসার দাবি রাখে। ওরা এসেছিল পেটের তাগাদায় বরিশাল ও বরগুনা থেকে। আমরা যা খেতাম ওরা অন্তত তিনবেলা আমাদের সঙ্গে তাই খেত, মাস শেষে কিছু পয়সাও পেত। ওদের হাতের চাঁদপুরের ইলিশ ভাজি, কখনো রুই মাছের মাথা দিয়ে মুগ-ডালের মুড়িঘণ্ট, আবার সকালের নাশতা হিসাবে সাদা ভাতের সঙ্গে মসুরের ডাল, আলুভর্তা ও ডিম ভাজি, আহা! একেবারে রাজকীয় না হলেও কম কিসের? অনেক সময় খাওয়া যে গলা পর্যন্ত উঠে আসত না তা কিন্তু নয়। কি আর করার তখন! তৃপ্তির ঢেঁকুরখানি ওপর আকাশের দিকে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিয়ে চলতে হতো সকালের ক্লাস অভিমুখে।

আমাদের সময় ইউনিভার্সিটিতে মারামারি প্রায়ই লেগে থাকত, বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বা পলিটিক্যাল ছেলেদের মধ্যে হল দখলকে কেন্দ্র করে বা তাঁদের কারও কারও মধ্যে হলে অতি-আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার কারণে। সে সময় অভি-ইলিয়াস গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধের কথা কার না জানা? আমরা সাধারণ ছাত্রা ছিলাম এসবের ভিকটিম। দেখা যেত যে তাঁদের মধ্যে কোন্দলের কারণে কেউ গুলি খেয়ে মারা গেছে, কোনো এক অভাগী মায়ের বুক খালি হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ। রাতে নোটিশ, সকালে ব্যাগ গুছিয়ে হল ত্যাগ। দূরের শিক্ষার্থীদের জন্য যে কি দুরবস্থা দাঁড়াত সে দিনগুলোতে (বিশেষ করে ঢাকায় যাদের স্বল্পকালীন অবস্থানের বন্দোবস্ত ছিল না), তা বলে বা লিখে বোঝানো যাবে না। হলে থাকা মেয়েদের জন্য দুর্ভোগের শেষ হতো না। যাই হোক, আমার হিসাব ছিল সোজা। অধিকাংশ সময়ই ছোট ব্যাগটা ঘাড়ে ফেলে সোজা গাবতলীর দিকে যেতাম। এরপর আরিচা-নগরবাড়ির ঘাটে গিয়ে অপেক্ষার পালা। সেই ঘাটের জলের সঙ্গে বোয়াল বা পাঙাশের ঝোল, সঙ্গে নদীর খুব চিকন চিকন সাইজের ছোট ছোট মাছের চচ্চড়িটা কিন্তু দারুণ লাগত। এসব দিয়ে দুমুঠো পাকস্থলী দিয়ে নেমে যেত। তারপর গোবিন্দগঞ্জে গিয়ে পৌঁছাতাম প্রায় সন্ধ্যা নাগাদ। সে সময় ঢাকা থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পৌঁছাতে প্রায় সারা দিনই সময় লেগে যেত। ফেরি পারাপারেই দিনের অর্ধেক সময় যেত। তখন যমুনার বুকের ওপরে পৃথিবীর মধ্যে ১১তম দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু সেতুটি হয়নি।

 

ইউনিভার্সিটি বন্ধ হলে আমার মোটেই খারাপ লাগত না। আনন্দই লাগত। বাড়ি মানে মায়ের হোটেলে আগমন। মায়ের হাতের হরেক রকমের রান্নার সমাহার। একেক দিন একেকটা। উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকার মানুষ বেগুন দিয়ে তৈলাক্ত খাসির মাংস খায়, খুব টেস্টি। আমার খুব প্রিয় আইটেমের একটি ছিল এটি। মা যে কি সুস্বাদুভাবে তা রান্না করে। ভোলার মতো না। আবার বাঁধাকপি দিয়েও খাসির মাংস অতুলনীয়। তা ছাড়া দেশীয় ছোট মাছ, জিয়েল মাছ, সঙ্গে কত রকমের ভাজি-ভর্তা রান্না হতো, আহ! তা কি ভোলা যায়? গড়াই মাছ ও রসুন/পিঁয়াজ একসঙ্গে ভেজে ভর্তা যে কি মজা (মায়ের রেসিপি), তা না খেলে বলে বোঝানো যাবে না। করলা লম্বা করে কেটে সঙ্গে আলুর চক এবং তাতে একটু বেশি করে ঝাল ও দু–একটা টমেটো মিশিয়ে টাটকা-টেংরা মাছের ঝোল- আহ..হা..হা..হা! এভাবে একসময় ভার্সিটির বন্ধ শেষ হয়ে যেত, ঘর ও মায়ের হাতের রান্না ছেড়ে হলে ফেরার পালা শুরু হত। মনটা খুব খারাপ লাগত। মা বলত, বাবা আর দুটা দিন থেকে যা না। তোকে তো এখনো পেয়ারা, ফজলি আম, কাঁঠাল খাওয়াতে পারলাম না। তখন অবশ্য ফরমালিনের কোনো ভয় ছিল না, এখনকার এই স্লো পয়জনের নামও আমরা তখন শুনিনি। ঘরে পাকা ফলের সুগন্ধে ম–ম হয়ে থাকত।

সেই দিনগুলোর পড়ে দেখতে দেখতে প্রায় ২৩ বছর কেটে গেল বিদেশে, জাপান এবং আমেরিকায়। দেশ দুটিতে কত রেস্টুরেন্টে গিয়েছি, কত খাবারের স্বাদ নিয়েছি। যেমন, জাপানে থাকাকালীন সময়ে (১৯৯৭ থেকে) মিসো স্যুপ, সুসি, টেম্পুরা, টেম্পুরা দনবুরি, তফু, উদন, সাসিমি, রামেন, সোবা, ইয়াকিসাকানা (গ্রিলড ফিস), সমুদ্রের আগাছা (নড়ি, অনিগিরি), সামুদ্রিক খাবার (অক্টোপাস, স্কুইজ) ইত্যাদি আরো কতনা খাবারই তো পাকস্থলী দিয়ে নেমে গেছে।

আবার আমেরিকায় যখন (২০০৩ থেকে) পা দিলাম, মনে হলো এ যেন এক অন্য ভুবন। যেদিকে তাকাই দুই নয়নে, চোখের পাপড়িগুলো মেললে দেখতে পাই রাস্তার দুই ধারে এপাড়ে–ওপাড়ে ডাউনটাউনে শুধু খাবার আর খাবার। কোন দিকে যাই? আমেরিকান রেস্টুরেন্ট, মেক্সিকান, ইতালি, ইন্ডিয়ান, চায়নিজ, এ ছাড়া ব্র্যান্ড ও চেইন স্টোরের ফুডের ছড়াছড়ি। ব্র্যান্ডের পিৎজার দোকান (পিৎজাহাট, ডমিনোজ, পাপাজোনস, লা-রশা, সিসি, বারতুসি, ডোনাতস ইত্যাদি) তো আছেই। চিকন দেহ নিয়ে এদেশে ঢুকলে শরীরের তলপেটে ভালোবাসার একটু–আধটু মেদ জমতে বেশি দিন সময় লাগে না।

বিদেশের মাটিতে এতসব খাবারের পরেও কোথায় যেন কিসের একটা আধো আধো অতৃপ্তি কিন্তু থেকেই যায়। বিশেষ করে দেশের সেই টাটকা জিয়েল মাছের স্বাদ ও দেশীয় খাবারগুলোর সেই সুস্বাদ স্মৃতির মণিকোঠায় নাড়া দেয়। আজ ভুলতে পারি না। আমাদের দেশের বাটা মসলা দিয়ে কষানোর পরে খাবারের মধ্যে চিরচেনা মশলার যে ঝাঁজ, সুসাধ ও গন্ধ ছড়িয়ে পরে সেটি বিদেশের খাবারগুলোতে অনুপস্থিত। যেমন এখনো খুঁজে পাইনা আমি দেশের খাঁটি সরিষা বাটা দিয়ে পদ্মার সেই ইলিশের রান্নার ঘ্রাণ—সরিষা ইলিশ, যা জিহ্বায় তলদেশে এখনো লেগে আছে। দেশীয় জিয়েল মাছের ভুনার যে স্বাদ তাও বিদেশে পাই না। রুই–কাতলা বা মৃগেল মাছের কথা বলে আর কি লাভ? এখানে যাও বা পাই তা হচ্ছে মরা বা দীর্ঘদিনের ফ্রোজেন করা মাছ, যা পাকস্থলি দিয়ে একেবারেই নামতে চায় না।

ভোজনপ্রিয় একজন মানুষ আমি। খেতে ভালোবাসি। খাবার থাকে যেখানে, আমি থাকি সেখানে। ঘরে বাইরে রেস্টুরেন্টে। তবে সুস্বাদু খাবার। হালাল খাবার। পাঠকবৃন্দ, আপনারাও খাবেন ভালো খাবার সুষম খাবার। যা খাবেন কম কম করে খাবেন, একবারে না খেয়ে বারবার অল্প অল্প করে খাবেন। তাতে দেহ ও মন দুটিই ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে। কথায় আছে- Health is the source of all happiness। ভালো ও সুস্থ থাকবেন। করোনার দিনগুলোতে মাস্ক পরবেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন।

লেখক: বোস্টনের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে ড্রাগ ডিসকোভারি গবেষণার সঙ্গে জড়িত। [email protected]