যেসব কারণে ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চান ঢাবির শিক্ষার্থীরা


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-01-10 22:30:25 BdST | Updated: 2018-01-17 03:21:12 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাবি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ফেসবুক গ্রুপ 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের' পক্ষে একটি ইভেন্টের মাধ্যমে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

১১ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ১১ টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এ বিক্ষোভ করবে শিক্ষার্থীরা। এ বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে ঢাবির সকল মতাদর্শের শিক্ষার্থীরা। 

যেসব কারণে অধিভুক্তি বাতিল চান ঢাবির শিক্ষার্থীরা

১। ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সরাসরি ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয় দেন। এতে পরিচয় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের। নিজেদের প্রমাণ করতে হচ্ছে ৭ কলেজ নাকি মূল ঢাবি শিক্ষার্থী। 

২। ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতাও দেখেন ঢাবি শিক্ষকরা। এতে রেগুলার শিক্ষার্থীদের সেশন জটে পড়ার  আশঙ্কা রয়েছে 

৩। ৭ কলেজের ভর্তি ও পরীক্ষার  ফি জমা নেয়া হয় ঢাবিতে থাকা সোনালী ব্যাংকের শাখায়, এতে ভোগান্তিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা

৪। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং করার ক্ষেত্রে অধিভুক্ত কলেজগুলোর মানও হিসাব করা হয় বিভিন্ন সময়, ফলে র‍্যাংকিংয়ে  পিছিয়ে পড়বে ঢাবি

৫। ইতিমধ্যে ঢাবির ইংরেজী বিভাগের শিক্ষকরা বলছেন, তারা ৭ কলেজের এমন কোন খাতাই পাননি যেখানে পরপর ৩টি শব্দ সঠিক লেখা আছে। এতে খাতা দেখতে অপারাগতা জানিয়েছে কিছু কিছু শিক্ষক। 

৬। ৭ কলেজের অনেক শিক্ষার্থীরা ঢাবির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যেসব সুযোগসুবিধা দেয়া হয় তাও উপভোগ করার দাবি জানাচ্ছেন

৭। ঢাবির অধিভুক্ত আরও ১০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তারা কখনো নিজেদের সরাসরি ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়না, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করছে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা 

৮। ঢাবির রেজিস্ট্রার ভবনে আগের চেয়ে অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেকটাই ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতে সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের। 

৯। ৭ কলেজের ভাইভাও নেয়া হচ্ছে ঢাবির বিভিন্ন অনুষদে, যে ভবনগুলো নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ কিন্তু তার সুবিধাও দেয়া হচ্ছে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

১০। ঢাবি ক্যাম্পাস এমনিতেই উন্মুক্ত হওয়ায় জনজট ও জানজট লেগে থাকে, তারমধ্যে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসে আসায় তৈরি হয়েছে মহাজনজট। 

১১। অনেকসময়য় ঢাবির পরীক্ষার হলও অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগ পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ পান না। ফলে শ্রেণী কক্ষেই পরীক্ষা নিচ্ছে বিভাগগুলো। এতেও ঢাবির শিক্ষার আন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

১২। ইতিমধ্যেই ঢাবি ক্যাম্পাসে নিজেদের পোস্টার সাটানো শুরু করেছে ৭ কলেজের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। যা ঢাবির ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্যও মানহানিকর

১৩। নিজেদের ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনায় যেখানে ঢাবি প্রশাসন নড়বড় অবস্থা, সেখান ৭ কলেজ চালানো অনেকটাই বোঝা। শিক্ষকরাও এরকম ভাবছেন। 

১৪ । এদিকে ৭ কলেজের অনেক শিক্ষকও ক্ষোভ জানিয়েছেন যে, তারা পরীক্ষার খাতা দেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন 

১৫। এদিকে শুনা গেছে, ঢাবির বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নের তুলনায় মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না ৭ কলেজের প্রশ্নের ক্ষেত্রে। কারণ ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাবির সমপর্যায়ের প্রশ্ন করা হলে পাসের হার নীচে নেমে যাবে। 

১৬। প্রশ্ন উন্নত করার চেয়ে আগের সিস্টেমই অর্থাৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকার সময় প্রশ্ন করার যে প্রথা ছিল তাই অনুসরণ করতে হচ্ছে ঢাবি শিক্ষকদের। সাল ভিত্তিক প্রশ্ন ও তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন করতে হচ্ছে। তারপরেও ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সরাসরি ঢাবি শিক্ষার্থী বলে কিভাবে দাবি করেছেন?

লিখেছেন শাহীন আব্দুল্লাহ, ঢাবির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী 

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।