দাওরায়ে হাদিস মাস্টার্স সমমান দেওয়ায় শোকরানা মিছিল


Bangladesh
Published: 2018-09-20 16:24:49 BdST | Updated: 2018-10-15 18:38:06 BdST

দাওরায়ে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর সমমান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত হলে রাজপথে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)।

বেফাক নেতারা বলেছেন, ‘ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যত সরকার এসেছে, সবার কাছেই দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে যদি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে লাখ লাখ তৌহিদি জনতা শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের পক্ষে রাজপথে লড়াই করবে।’

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্ববর) বাদ আছর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত শোকরানা মিছিলপূর্ব সমাবেশে বেফাক নেতারা এসব কথা বলেন। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে সংসদে বিল পাস হওয়ায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ‘কওমী মাদরাসা কোনো সন্ত্রাসী তৈরি করে না, দুর্নীতিবাজ তৈরি করে না। কওমী মাদরাসা তৈরি করে আদর্শ সুনাগরিক, মোহাদ্দেস, মোফাস্সের, ইসলামী চিন্তাবিদ।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি করে চরিত্রহীনরা। আর ধর্মহীন শিক্ষাই চরিত্রহীন নাগরিক তৈরি করে। দাওরায়ে হাদিস পাস করে মানুষ খতিব হন, ইমাম হন। জাতিকে সঠিক পথের নির্দেশনা দেন। সুতরাং দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য— সবার প্রতি শোকরিয়া জানাই।’

বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার আন্দোলন অনেক দিনের পুরোনো। পেছনে অনেক সরকার গেছে দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবসহ যারা এ কাজে চেষ্টা করেছেন তাদের সবার প্রতি শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি।’


মাওলানা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বহু সরকার এ দেশে এসেছে। কিন্তু তারা অবহেলা করেছে, আমাদের এই দাবির গুরুত্ব দেয়নি। কওমী মাদরাসার ছাত্ররা টানা ১৭ বছর শিক্ষানীতি, বাণিজ্যনীতি, আদালতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, কৃষিনীতির ওপর জ্ঞান লাভ করে। কিন্তু তারা মান পায়। তাদের যে প্রতিভা আছে, সেই প্রতিভার মূল্যায়ন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় কওমী মাদরাসার ছাত্ররা মাস্টার্সের মান পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ, সচিবগণ—যারাই এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যারা আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করেছেন, তাদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই।’

বেফাকের শীর্ষ নেতা ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি প্রধানমন্ত্রী সামরিক সচিব জেনারেল তারেক সিদ্দিকীর প্রতি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি কওমী মাদরাসার স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সমস্ত পৃথিবীর ইসলামবিরোধী অপশক্তি। আমরা পরিষ্কাভাবে বলতে চাই, কওমী মাদরাসার স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে যদি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে বাংলাদেশের তৌহিদি জনতা রক্তের ফোঁটা বিলিয়ে দেশের পক্ষে, সরকারের পক্ষে লড়াই করবে।’

ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, এই জন্য কেবল কওমী শিক্ষার্থীরা উপকৃত হননি—গোটা দেশ উপকৃত হয়েছে। কওমী শিক্ষায় শিক্ষিত লাখ লাখ আলেম ওলামাকে নিরক্ষর হিসেবে গণ্য করা হতো। সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় শিক্ষিত লোকের হার এখন বহুগুণ বেড়ে গেল। এতে করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।’

বেফাক নেতা আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, ‘ওলামাদের স্বার্থ যেখনা থেকে হাসিল করতে পারব, আমরা অকপটে তাদেরকে সাপোর্ট দিয়ে যাব। অন্যায়কে অন্যায় বলব, ন্যায়কে ন্যায় বলব। আমাদেরকে কে কী বলল, সেটা দেখার বিষয় নয়।’

‘আমি একটি মাধ্যম থেকে শুনতে পেরেছি কওমী সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। এ জন্য যদি তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, আমার বিশ্বাস বাংলার সকল ওলামা তার পক্ষে দাঁড়াবে’— বলেন আমিনী।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বেফাকের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নুরুল আমীন, মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন গাজী, মাওলানা আবুল কাসেম ও মাওলানা আলতাফ হোসেন।

শোকরানা সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শোকরানা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে যান বেফাক নেতারা। মিছিলে কওমি মাদরাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি প্রেস ক্লাবে গিয়ে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।