স্কুল-কলেজ দুই সপ্তাহ বন্ধ ঘোষণা করুন: ফখরুল


Dhaka
Published: 2020-03-10 13:36:41 BdST | Updated: 2020-03-31 11:46:18 BdST

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে অন্তত আগামী দুই সপ্তাহ দেশের সব স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং আগামীকাল বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, মুজিব বর্ষ পালনের ডামাডোলে জনস্বার্থ অবহেলা করে সরকার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। কারণ, বেশ কিছু দিন ধরে দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের আশঙ্কার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। যার প্রমাণ হলো—ইতালি থেকে ঢাকায় আসা দুই ভাইয়ের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিমানবন্দরে শনাক্ত হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে বলেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার মেশিন সঠিক রোগ নির্ণয়ে যথেষ্ট নয়। যে কারণে বিমানবন্দরে তাঁদের রোগ শনাক্ত হয়নি। দেশে ফেরার চার দিন পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁরা নিজেরাই চিকিৎসকের কাছে গেলে সরকার তাঁদের হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে তাঁদের একজনের স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে প্রাক্‌–প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি বা উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরশু সন্ধ্যার মধ্যেই কয়েক গুণ দাম বেড়ে গেছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত যে কয়টি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর মান ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে। ফলে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লে দেশবাসী গণহারে অকালমৃত্যুর শিকার হতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের ব্যর্থতা জনগণ কখনে ক্ষমা করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব সুচিকিৎসার জন্য দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবারও মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে তাঁর চেয়েও কম বয়সী, কম অসুস্থ ও বেশি সাজাপ্রাপ্ত সরকারি দলের নেতারা জামিনে মুক্তি পেয়ে সাংসদ-মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির মহাসচিব খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা জামিন আবেদনের কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত তাঁর জামিনে মুক্তি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।