শুধু নেতা বা ব্যক্তির নয়, যে কোন ভাস্কর্য বসালে তা টেনে হেঁচড়ে ফেলে দেব: বাবুনগরী


Dhaka
Published: 2020-11-27 22:08:46 BdST | Updated: 2021-01-28 10:46:16 BdST

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, মদীনা সনদে দেশ চললে এদেশে কোন ভাস্কর্য থাকতে পারেনা। মদীনায় কোন ভাস্কর্য নেই। এদেশেও কোন ভাস্কর্য থাকতে পারেনা। আমি কোন নেতার বা দলের নাম বলবনা। আমি শরীয়তের কথা বলব। শরীয়তে কোন ভার্স্কযের অনুমতি নাই। আমাদের নবীর কোন ভাষ্কর্য কোথাও নাই। নবীর চাইতে তো বেশি আমরা কাউকে ভালবাসিনা। তাহলে অন্য কারও ভাস্কর্য থাকবে কেন? যে দলের নেতা বা ব্যক্তির ভাস্কর্য বসাক না কেন, এমনকি আমার বাবার ভাস্কর্য বসালেও সেটা টেনে হেঁচড়ে ফেলে দেব।

তিনি আজ শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আল আমিন সংস্থা আয়োজিত তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

হেফাজত আমির বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশ চলবে মদীনা সনদ অনুযায়ী। আমরাও চাই এ দেশ মদীনার সনদ অনুযায়ী চলুক। এদেশ রাশিয়ার সনদে চলবেনা, চীনের সনদে চলবেনা, ভারতের সনদে চলবেনা, আমেরিকার সনদে চলবেনা। মদীনার সনদ অনুযায়ী চলবে। মদীনার সনদ শান্তির সনদ। এই সনদে দেশ চলার কথা কেবল ঘোষণার মাধ্যমে নয় বাস্তবায়ন ও করতে হবে। মদীনার সনদে দেশ চললে এদেশে কোন ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ চলার কথা নয়। তবুও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ চলছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, এদেশে ইসলামের কথা বলার কারনে, সত্য কথা বলার কারণে অনেককেই গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। রাসুল সাঃ এর আমলেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে এরকম গ্রেফতার ও নির্যাতন করত মক্কার কাফেররা। যতই গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হোক আমরা সত্য কথা বলা বন্ধ করবনা। ইসলামের কথা বলা বন্ধ করবনা।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে ভালবাসি। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবাসি। আমরা আপনার দুশমন নই। আমাদের দুশমন মনে করবেননা। আপনার পিছনে যে নাস্তিক মুরতাদ ঘাপটি মেরে বসে আছে তারাই আপনার দুশমন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন আলেম ওলামারা মারেন নাই, মেরেছে বঙ্গবন্ধুর সাথে থাকা লোকজন। আমি আশংকা করতেছি আপনার পিছনে থাকা নাস্তিক মুরতাদেরা আপনার ক্ষতি করবে।

কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণার দাবী জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, কাদিয়ানীরা নবীর শত্রু, নবীর দুশমন। কাদিয়ানীদের রাস্ট্রীয়ভাবে অমুসলমান ঘোষণা করতে হবে। কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়। তাদের সাথে মুসলমানদের বিয়ে হতে পারেনা। তাদেরকে মুসলমানদের কবরে দাফন করা যাবেনা। তাদেরকে মুসলমানদের মত ভিসা দিয়ে মক্কা মদীনায় যেতে দেয়া যাবেনা। আমি ৮১ জন আলেমকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি। আমি বলেছি কাদিয়ানীরা কেবল ইসলামের শত্রু নয়, এদেশের স্বাধীনতারও শত্রু।

ইসকনের কার্যকলাপ বন্ধের দাবী জানিয়ে বাবুনগরী বলেন, বর্তমান মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসকন। সরকারের কাছে দাবী ইসকনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তারা এদেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেছে। বিশৃংখলা সৃষ্টি করতেছে। এদেশের শান্তির পরিবেশ নষ্ট করতেছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, যদি প্রিয় নবীর শানে কোন বেয়াদবি করা হয়, কোন রকম অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় এদেশের মুসলমানরা তাদের জিহ্বা কেটে ফেলবে। তিনি বলেন, যতক্ষন ফ্রান্সের ম্যাক্রো সকল মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইবেনা ততক্ষন পর্যন্ত এদেশে ফ্রান্সের দুতাবাস থাকতে পারবেনা। দুতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদুতকে বহিস্কার করতে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদে ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে।