প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চায় ইউজিসি


Dhaka
Published: 2020-12-29 16:23:59 BdST | Updated: 2021-01-27 22:09:16 BdST

বেশিরভাগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রাজি হওয়ার পর এখন সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের হয়রানি ও খরচ কমবে।

ইউজিসির ‘বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৯’ এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চালু করাসহ একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে।

গত রোববার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে এই প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা না নিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি করে। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে এই সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর গতকাল সোমবার বলেন, ‘আমরা অনেক বিষয় মাথায় রেখেই এই সুপারিশ করেছি।’

তিনি জানান, বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে তারা ভর্তি প্রার্থীদের ঝামেলা কমাতে ‘কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা’ পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার জন্য বলতে পারি। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো প্রথম এই পদ্ধতি চালু করে। পরবর্তীতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোও এই পদ্ধতি অনুসরণ করে। এই পদ্ধতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলে আমরা জানতে পারব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন বিষয়গুলোর চাহিদা বেশি রয়েছে।’

ইউজিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সরকার গাইডলাইন তৈরি করতে পারে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন জানান, তারা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে মিটিং করে আমাদের মতামত জানাব। আমি মনে করি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা একটি ভালো ব্যবস্থা হবে। শিক্ষার্থীরা এতে লাভবান হবে।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম জানান, তারা এখনো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ভাবেননি।

তিনি বলেন, ইউজিসি যেহেতু সুপারিশ করেছে, আমরা এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করব।

১৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে রাজি হওয়ার প্রায় এক মাস পরে ইউজিসি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই সুপারিশ করেছে।

সারাদেশে মোট ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পৃথক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে।

এপিইউবির চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে এক লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয় এবং মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ।’

স্প্রিং (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল), সামার (মে থেকে আগস্ট) এবং ফল (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর) সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী স্প্রিং সেমিস্টারে ভর্তি হন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা— এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ২ দশমিক ৫ করে পেতে হবে কিংবা দুটোতে মোট জিপিএ পেতে হবে ৬।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘তবে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেয় না। মাঝে মাঝে ইউজিসি নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা না মেনেও শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনার করে নতুন পদ্ধতির বিভিন্ন বিষয় সাজানো হবে।’

ইউজিসির অন্যান্য প্রস্তাবনা

ইউজিসি সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বাজেট বাড়াতে।

সরকারি অর্থায়নে একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি স্থাপনেরও সুপারিশ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।