সেশনজট কাটছেই না অধিভুক্ত ৭ কলেজের


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-08-13 01:18:11 BdST | Updated: 2018-09-21 00:35:54 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সেশনজট কাটছে না। প্রায় একবছর পিছিয়ে রয়েছেন এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে অনেকেই বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে আবেদনও করতে পারছেন না।

এনিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। সেশনজট নিরসনে ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। চলতি সপ্তাহে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে বলে একাধিক শিক্ষার্থী নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সেশনজটে রয়েছে স্নাতক ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ এবং ডিগ্রী ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। স্নাতক ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৪ মাসের মতো আর ডিগ্রী ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দুই বছরের মতো সেশনজটে রয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজধানীর ৭ সরকারি কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে দেড় বছরের রেশি সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি অপরিকল্পিতভাবে করায় এ সমস্যার সৃষ্টি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অধিভুক্ত হওয়ার পর অর্থ্যাৎ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতকে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের সেশনজটের সমস্যায় পড়তে হবে না বলে জানিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাবির অধিভুক্ত ৭ কলেজের অধীনে প্রথমবারের মতো স্নাতকে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। এর আগে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হত। বর্তমানে নিয়মিত তাদের ক্লাস চলছে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, নিয়মিত ক্লাস চলছে। কয়েকটি বিষয়য়ের ইনকোর্স পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নিউ সেকেন্ড ইয়ারে। এখনও তাদের প্রথম বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে একই বর্ষের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ করে সমাপনী পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করেছে। ৫-৬ মাসের সেশনজটের মধ্যে রয়েছে তারা। এ বর্ষের ঢাকা কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম আবির বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল দিয়ে সেকেন্ড ইয়ারের ফরম ফিলাপও করে ফেলেছে, অথচ আমাদের এখন কিছুই হয়নি। সামনে নির্বাচন, খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয় চলতি মাসের ৮ তারিখে। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। ৯ মাসের মতো সেশনজটের মধ্যে রয়েছে তারা। এ বর্ষের ইডেন কলেজের ছাত্রী আনিকা ইসলাম বলেন, আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। সেটা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গত দুইদিন আগে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সমাপনী পরীক্ষা আগামী অক্টোবরে ১ম সাপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ ফেব্রুয়ারিতে এটা শেষ হয়েছে। ১৪ মাসের মতো পিছিয়ে রয়েছে এ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। কবি নজরুল কলেজের এ বর্ষের শিক্ষার্থী আকিদ হাসান বলেন, সবচেয়ে বেশি সেশনজটে ¯œাতক ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। প্রায় ১৪ মাসের মতো সেশনজটে। চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি আমরা।

২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ফাইনাল ইয়ারে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফল সব বিভাগে প্রকাশ করেনি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফল পেয়ে ফাইনাল ইয়ারের ক্লাস করছে। তাদের এ বছর ফাইনাল পরীক্ষা হবে। ৯ মাসের মতো পিছিয়ে রয়েছে এ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের এ বর্ষের শিক্ষার্থী সজল বলেন, পরীক্ষার ৯ মাস পরেও সব বিভাগের ফল প্রকাশ করেনি। আমাদের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ২০১৮ সালে হবে কিনা তা নিয়েও আমরা চিন্তিত। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বাছর সমাপনী পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ফাইনালের ফল এখনও পায়নি। অথচ তাদের স্নাতকোত্তরে থাকার কথা ছিল। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল দিয়ে স্নাতকোত্তরের অর্ধেক ক্লাসও শেষ হয়ে গেছে। বাসার বলেন, স্নাতক ফাইনালের ফল না পাওয়াতে কোন চাকরিতে আবেদন করতে পারছি না। অথচ অন্যরা ঠিকই পারছে।

এদিকে, ২ বছর পরে স্নাতকোত্তরের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সমাপনী পরীক্ষা এখন চলছে। এসব শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ৬ মাসের মতো পিছিয়ে রয়েছে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও ৬ মাসের মতো পিছিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ডিগ্রী ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৮ মাস এবং ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা একবছল পিছিয়ে রয়েছে। তাছাড়া ডিগ্রী ২০১৪-১৫ (পুরাতন) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সেশনজটে রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা দুই বছরের মতো সেশনজটে রয়েছে।

এছাড়াও ডিগ্রী ২০১৫-১৬ (নতুন) শিক্ষাবর্ষের এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও এক বছরের মতো সেশনজটে রয়েছে। ডিগ্রী ২০১৪-১৫ (পুরাতন) শিক্ষাবর্ষের ছাত্র অমেলেন্দু পাল বলেন, ডিগ্রীতে আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সেশনজটে। ২ বছরেও আমাদের পরীক্ষা হচ্ছে না। এর দায়ভার কেউ নিচ্ছে না। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, ফল প্রকাশে দেরি হওয়াতে অনেকেই বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে আবেদনও করতে পারছেন না। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একই সেশনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছেন। ফলে তারা পিছিয়ে রয়েছে। তাছাড়া সেশনজট হওয়াতে দ্রারিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঢাকা শহরে একবছরের মতো বেশি সময় আর্থিক সহায়তা দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা সেশনজট দ্রুতই নিরসন চায়। সেশনজট দ্রুত নিরসনের দাবিতে এ সপ্তাহে মানববন্ধন করবে বলে তারা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মা. আখতারুজ্জামান বলেন, সাত কলেজের অধিভুক্তি ছিল একটি খুবই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এতে ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালার ঘাটতি ছিল। সাতকলেজের শিক্ষার্থীরা এক বছর পিছিয়ে আছে। তবে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের সমস্যা হবে না। এসব কলেজ দেখাশোনার জন্য কিছু স্বতন্ত্র লোক দেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে অধিভুক্ত করে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এরপর থেকে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।