পাবিপ্রবির ভিসি লাঞ্ছিত, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-11-05 19:14:01 BdST | Updated: 2018-12-13 05:49:41 BdST

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. রোস্তম আলী ফরাজি লাঞ্ছিতের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর গোটা ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে সকল ছাত্রছাত্রীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৩/৪ মাস অতিবাহিত হলেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবার তাদের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের খেয়াল খুশিমতো ক্যাম্পাস পরিচালনা করছেন। ভিসি স্যার এবার জেলহত্যা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজশাহীতে ৩/৪টি গাড়িতে কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজনকে নিয়ে দায়সারাভাবে দিবস পালন করেছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে ব্যর্থ হলেও তার কোন খেয়াল নেই বিষয়টি নিয়ে। তিনি একজন অযোগ্য ভিসি, প্রশাসন চালানোর মতো দক্ষতা নেই, তাই তারা ভিসি স্যারসহ সকল প্রশাসনিক পদধারীদের পদত্যাগ দাবি করছেন।

শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো- ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সকল ব্যাচ সমূহের অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি প্রদান, ক্লাস রুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।

এ সব দাবিতে সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ভিসি প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে বাস ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া এবং লাঞ্ছিত করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে দৌড়ে তিনি তার বাসভবনে আশ্রয় নেন। তারা ভিসির বাসভবনও অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ও জুতা স্যান্ডেল নিক্ষেপ করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, বিষয়টি উদ্বেগের তবে এটি প্রত্যাশিত নয়, আশা করি ভিসি স্যার দ্রুত এই অবস্থা নিরসনের জন্যে উদ্যোগ নেবেন।

এ বিষয় নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রোস্তম আলী ফরাজির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে তার জনসংযোগ বিভাগ থেকে জেনে নিতে বলেন।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ ছাত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তবে আগামী ১৬নভেম্বর ভর্তি প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং অফিস খোলা থাকবে। এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের ও সকাল ১১ টার মধ্যে শেখ হাসিনা হলের সকল আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইবনে মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন তাদের অবহিত করলে তারা সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে বলে তিনি দাবি করেন। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।