ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার


ঢাবি টাইমস
Published: 2019-10-23 19:27:56 BdST | Updated: 2019-12-15 19:10:40 BdST

অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না—জানতে চেয়ে ওই চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।

সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র হাসিবুর রহমান ওরফে তুষার, দর্শন বিভাগের আবু বকর ওরফে আলিফ, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমরান হোসেন এবং পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ইফতেখার ইসলাম ওরফে তুষার। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হল থেকেও তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এসব শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী। আজ বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আবাসিক হল ও হোস্টেল প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা হয়। এতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রক্টর।

গত ৮ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে (হাসিবুর রহমান ও আবু বকরকে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কক্ষের বাসিন্দা ইমরান হোসেন সেদিন পালিয়ে যান। পরে এই তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে বলে জানান প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী। এ ছাড়া হল প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতে ইফতেখার ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না— সাময়িক বহিষ্কৃত চার শিক্ষার্থীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এটি না করলে সাত কার্যদিবসের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’

‘অছাত্রদের হলে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না’

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আজকের মতবিনিময় সভায় অছাত্রদের হলে অবস্থান করতে না দেওয়ার বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ও হোস্টেলের ওয়ার্ডেনদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে।

প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে শূন্য আসন বরাদ্দ দেওয়ার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে হল প্রশাসনগুলোকে কাজ করতে হবে। হল প্রশাসনের সব উদ্যোগে হল সংসদকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আবাসিক হলগুলোয় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত ফ্লোর পরিদর্শনের জন্য আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী আবাসিক শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমাদ, সহউপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দীন, প্রক্টর, আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী আবাসিক শিক্ষকেরা বক্তব্য দেন।