জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন অব্যাহত


JU
Published: 2019-11-08 21:00:28 BdST | Updated: 2019-11-18 20:43:13 BdST

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে নিষেধাজ্ঞা না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুর থেকেই বন্ধ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা।

এরপর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পট চিত্রাংকন শুরু করা হয়। উপাচার্যবিরোধী নানা স্লোগানে সাজানো হয়েছে এই পটচিত্র। পরে এটি পুরো ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করা হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, চিত্রাংকনের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরছেন। উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলাসহ সব অনিয়ম এতে ফুটে উঠেছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী আর ইউজিসি’র কাছে পৌঁছানো হবে বলে জানিয়েছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন।

রায়হান রাইন বলেন, ‘ভিসির দুর্নীতির যেসব তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে আছে শুক্রবার ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তা জমা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে যে প্রমাণগুলো আছে তাতে করে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আর কোনোভাবেই তার পদে থাকতে পারেন না।’

উল্লেখ্য, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবি নিয়ে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।