ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান লোগোটি যেভাবে আসলো


Dhaka/kalerkantha
Published: 2020-07-28 13:45:16 BdST | Updated: 2020-08-10 14:21:20 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এর লোগো বদলেছে। এখন যেটি দেখা যায় সেটি তৈরি করেছেন শিল্পী সমরজিৎ রায়চৌধুরী।

১৯২১ সাল। তখন দেশে ব্রিটিশের রাজত্ব ছিল। সে সময়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লোগোও (প্রতিষ্ঠানের প্রতীক) ছিল। পাকিস্তান হওয়ার পর লোগো বদলে যায়। তারপর দেশ স্বাধীন হলে নতুন লোগোর জন্য শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের খোঁজ পড়ল।

আবেদিন স্যার উপাচার্যকে বললেন, ‘আমি তো লোগো করি না, তবে করিয়ে দিতে পারি।’ তারপর স্যার আমাকে ডেকে বললেন, ‘একটা লোগো লাগবে, তুমি করে দাও। আর খসড়াটা কামরুলকে (পটুয়া কামরুল হাসান) একটু দেখিয়ে নিয়ো।’ বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোগো কামরুল হাসানই করেছেন। আমি খসড়া করে আবেদিন স্যারের কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি দেখে বললেন, ‘এটা আমার পছন্দ হলো না।’ তারপর পেনসিল দিয়ে একটা ড্রইং করে বললেন, ‘এইটা করে নিয়ে আসো।’ ওই দিনই আবার করে দিলাম। সেটা স্যারের পছন্দ হলো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তা পৌঁছে দিলেন। সেটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হলো। খাম, প্যাড সব ছাপা হয়ে গেল। তারপরই আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলো। বলা হচ্ছিল, ভালো হয় নাই, এটা হয় নাই, সেটা হয় নাই ইত্যাদি। পত্রপত্রিকায়ও এ নিয়ে লেখালেখি হলো। পরে সেটা বাতিলও করা হলো। আবার একটা খসড়া করেছিলাম। সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পছন্দ করে। আর ওইটিই এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

.

লোগোতে যা যা আছে

বেগুনি রঙের লোগোটির তিনটি অংশ। ওপরের দিকে প্রদীপের আলো। তারও ওপরে লেখা—শিক্ষাই আলো। নিচে দুই ভাগ করে ডান পাশে একটি চোখ আর বাঁ পাশে শাপলা ফুল। চোখ এনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতীক হিসেবে। চোখের মাঝখানে রেখেছি স্বরবর্ণের প্রথম অক্ষর। ফুল এসেছে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। শাপলা যেহেতু জাতীয় ফুল তাই অন্য ফুলের কথা ভাবিনি।

একজন সমরজিৎ রায়চৌধুরী

জন্ম ১৯৩৭ সালে বাঞ্ছারামপুরে (তখন ছিল কুমিল্লার অংশ)। তখনকার চারু ও কারুকলা কলেজ (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে কমার্শিয়াল আর্ট বা গ্রাফিক ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬০ সালে। ওই বছরই চারু ও কারুকলা কলেজে যোগ দেন শিক্ষক হিসেবে। ৪৩ বছর শিক্ষকতার পর ২০০৩ সালে অবসরগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অঙ্গসজ্জা যাঁরা করেছিলেন তাঁদের একজন সমরজিৎ রায়চৌধুরী। একুশে পদক পেয়েছেন ২০১৪ সালে।