রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই, প্রো-ভিসি পদও শূন্য ৪৬ মাস


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-07-21 20:48:50 BdST | Updated: 2018-08-16 22:13:11 BdST

প্রায় দুই মাস হতে চলল অভিভাবকহীন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদটি শূন্য থাকায় কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনুমোদন, নানা আবেদনপত্রে স্বাক্ষর, বিভাগের পরীক্ষার কমিটি গঠন, ফল প্রকাশ, সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তিসহ নানা কার্যক্রম ভিসি না থাকায় থমকে রয়েছে।

ভিসির অনুপস্থিতিতে প্রো-ভিসি কার্যক্রম চালিয়ে নেন। কিন্তু, রুয়েটের দুর্ভাগ্য প্রায় চার বছর হতে চলল প্রো-ভিসির পদও শূন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। মেয়াদ শেষে তিনি নিজ বিভাগে ফিরে গেছেন। এরপর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে।

আর ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মর্ত্তুজা আলীকে প্রো-ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর তিনি প্রো-ভিসির মেয়াদ শেষ করেন।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন প্রো-ভিসি নিয়োগের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগকে অনুরোধ করেছিলেন ড. মত্তুর্জা আলী। কিন্তু, ভিসি এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় দীর্ঘ তিন বছর ১০ মাস শূন্য রয়েছে প্রো-ভিসির পদ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসি ও প্রো-ভিসি না থাকায় রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং এক ধরনের চাপা ক্ষোভও বিরাজ করছে।

কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই তারা যোগ্য কাউকে পদ দুটিতে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক জানান, দীর্ঘদিন ভিসি ও প্রো-ভিসি না থাকায় তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব পদে দেরিতে নিয়োগ হলে লবিং-গ্রুপিং দিয়ে অযোগ্যরা ঢুকে পড়তে পারেন বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমুর রহমান বলেন, ‘ভিসি না থাকায় প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রম থমকে আছে। সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, বিভিন্ন টেন্ডার আটকে রয়েছে।’

তবে ভিসি নিয়োগ বিষয়ে একটি অনুমোদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে ভিসির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু, পদটি শূন্য থাকায় অনেক কাজ আংশিক করার পর অনুমোদনের জন্য আটকে আছে।’

তিনি বলেন, ‘দৈনন্দিন ও জরুরি কাজগুলো করতে পদাধিকার বলে আমাকে দায়িত্ব দেয়া আছে। ভিসি নিয়োগের বিষয়ে কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।