বিশ্বজুড়ে মাহে রমজানের সংস্কৃতি- শেষ পর্ব


Wali Khan Raju/ Islamic Commentator
Published: 2019-06-01 18:59:03 BdST | Updated: 2019-07-16 18:28:02 BdST

তুরস্ক -
পবিত্র হাদীসে উল্লেখিত কনস্টান্টিনোপল হল আজকের তুরস্ক। যা অটোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রভূমি। বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ভৌগলিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তুরস্কে প্রায় ৯ মিলিয়ন মানুষের বসবাস,যার ৯৮ ভাগই মুসলিম। সুন্নী মুসলিম অধ্যুষিত তুরস্কে রমজান মাস শুধু ইবাদতের মাসই নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতার মাস।
রমজানে তুরস্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রথা হল মেসাহারাতি তথা সেহরির সময় দফ, ড্রাম বাজানো। প্রাচীন আমল থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক তুরস্কে মেসাহারাতি খুবই জনপ্রিয়। সেহরির আগে তুরস্কের পাড়া মহল্লায় তরুণ যুবকেরা দফ, ড্রাম বাজিয়ে মানুষকে সেহরির বার্তা দেন। তাদেরকে ড্রামার বলা হয়, ড্রামাররা বিভিন্ন কাসিদা পাঠ করে দফ, ড্রাম বাজান।
তুরস্কে রমজানে আরেকটি প্রথা হল মসজিদের মিনারে সবুজ বাতি জ্বালানো। ইফতারের সময়ে মসজিদের মদিনার গুলো সবুজ আলোতে ঝলমল হয়ে উঠে, এতে বুঝা যায় ইফতারের সময় হয়েছে।
তারাবীহ সালাতে মসজিদগুলোতে উপচে পড়া ভীড় থাকে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও জামাতে অংশগ্রহণ করে থাকেন। তুরস্কের অধিকাংশ মুসল হানাফী মাজহাবের অনুসারী হওয়ায় প্রায় সব মসজিদেই বিশ রাকাত তারাবীহ সালাত জামায়াতে আদায় করা হয়। এছাড়া দিনভর মসজিদগুলোতে কুরআন তিলাওয়াতের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পর বিভিন্ন মসজিদে সুফী জিকির পাঠ করা হয়। তুরস্কে ইফতার খুবি জমজমাট ভাবে আয়োজন করা হয়। ইস্তাম্বুল, আংকারা, কোনিয়া সহ বড় বড় শহরে মসজিদ কেন্দ্রিক বিনামূল্যে হাজারো মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন করা হয়। ইফতার হিসেবে তুরস্কে পাইড নামক এক ধরণের রুটি, মেজেজ, স্যুপ, কাবাব, পিলাভ বা পোলাও এবং বোরেক নামক পেস্ট্রি খুবই জনপ্রিয়। রমজান উপলক্ষ্যে তুরস্কে দ্রব্যে মূল্যছাড় ,দান সাদকাহ, সহায়তা, অনুদান দারুণভাবে পরিলক্ষিত হয়।

* ফিলিস্তিন, সিরিয়া *
মুসলমানদের প্রথম কিবলার দেশ ফিলিস্তিন যা এখন ইহুদি দখলদারদের হাতে রুদ্ধ। প্রতিদিন ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার ফিলিস্তিনীরা নানা প্রতিকূলতা স্বত্তেও তারাবীহ সালাত প্রতিদিন জামাতে আদায় করেন।
তারাবীহতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ব্যপকহারে অংশগ্রহণ করে থাকে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতেও নানা প্রতিকূল পরিবেশ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, লোডশেডিংং এসব স্বত্তেও মুসলমানরা কষ্ট করে সিয়াম পালন করে থাকেন। রমজানে সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে মিশরের মত লন্ঠন এর প্রচলন রয়েছে, বাচ্চারা ফানুস উড়ায়, বাচ্চাদের গিফট দেয়া হয়, সড়ক, বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে আলোকসজ্জা করা হয়।
ইফতার হিসেবে ফিলিস্তিন সিরিয়ায় খেজুর, রুটি, ভেড়ার মাংস, দুধ, মিষ্টি, কেক জনপ্রিয়।

* লেবানন-
লেবাননের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ ভাগ মুসলিম হলেও ৪০ ভাগ খ্রিস্টান। অন্য আরব, মুসলিম দেশের মত লেবাননে রমজান উপলক্ষে হোটেল রেস্তেরা বন্ধ থাকেনা।রমজানে অন্যদিনের মত পরিবেশ থাকে স্বাভাবিক। বহু সংস্কৃতির দেশ লেবাননের মুসলমানরা ইফতারে খ্রিস্টানদের দাওয়াত করেন,
বৈরুতে ব্যবসায়ী,ধনী মুসলিমদের উদ্যোগে বিনামুল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
ইফতারে লেবাননে খেজুর, লেনটিল স্যুপ,চীজ মিশ্রিত সামবাউসেক, দই , দুধ জনপ্রিয়।

*মরক্কো -
উত্তর আফ্রিকার মরক্কোকে বলা হয় বাদশাহীর দেশ। আফ্রিকার মরুভূমিময় এদেশটিতে প্রচুর মুসলমানের বাস। ৯৯ শতাংশ মুসলিমের দেশ মরক্কোতে জনসংখ্যা প্রার সাড়ে তিন কোটি।
ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এ দেশটিতে রমজান বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করে।
মরক্কোতে ইফতারকে বলা হয় 'ফুতুর '
ইফতার হিসেবে মরক্কোতে হারিরা খুবই জনপ্রিয়৷ আমাদের দেশের চটপটির মত দেখতে এই হারিরার জন্য রাস্তা ঘাটের ভ্রাম্যমান দোকানপাটে মানুষের বেশ ভীড় থাকে। হারিরার পাশাপাশি "চেবাকিয়া " নামক মিষ্টি বিস্কুটও বেশ জনপ্রিয়. এছাড়া খেজুর, দুধ, ফলের জুস, বিভিন্ন কেক, টমেটো স্যুপ, সিদ্ধ ডিম, ফ্রাই ফিশ মরক্কোর ইফতারের অন্যতম খাবার।
সেহরীতে মরক্কোতে একধরনের সাইরেন দিয়ে আওয়াজ করা হয় যার নাম 'নাফার' উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে জাগ্রত করা।
আর ইফতারের সময় মরক্কোর আকাশে
কামান, বিমানের আওয়াজের মত একধরণের শব্দ সৃষ্টি করা হয় যার স্থানীয় নাম 'জোয়াকা'।
রমজানের শুরুতে মরক্কোর জনগন নতুন কাপড় ক্রয় করেন এবং নতুন পোশাকে নামাজ আদায় করেন। নারী, শিশু, যুবকদের মাঝে এই রেওয়াজ বেশ জনপ্রিয়।
রাবাত, ক্ল্যাসাব্ল্যাংকা, ফেজ, মারাকেশ সহ বিভিন্ন নগরীতে রমজানে মুসলিমদের দান সাদকাহ, জিকির, দারসে ব্যস্ত দেখা যায়।

* তিউনিসিয়া-
তিউনিসিয়া একটি মুসলিম দেশ৷ যা খলিফা উসমান বিন আফফানের আমলে মুসলিমদের দখলে আসে।
১১ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রায় ৯৯ ভাগই মুসলিম। পবিত্র মাস রমজান উপলক্ষে তিউনিসিয়াতে বিভিন্ন ইবাদতের পাশাপাশি নানা রেওয়াজ, প্রথা চালু রয়েছে।
তিউনিসিয়ার মানুষ রমজানকে অত্যন্ত পবিত্র ভাবেন যার ফলে এই মাসে তরুণ তরুণীরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, লাইলাতুল কদরে অনেক দম্পতি নিজেদের মধ্যে আকদ করেন।
রমজান উপলক্ষে বাড়ি ঘর, মসজিদ নতুন করে রঙ করা হয়, সুসজ্জিত করা হয়। মসজিদের মিনারে আলোকজ্জ্বল লাইট স্থাপন করা হয়।
রমজানকে তিউনিসিয়াতে বলা হয় পূর্ননমিলনীর মাস। বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবারের সদস্যরা এই মাসে একত্রিত হন, একত্রে ইফতার, সেহরী তারাবী সম্পন্ন করেন।
রমজানে ইফতার উপলক্ষে মানুষ রোজাদার মুসল্লিদের দুধ, খেজুর বিতরণ করেন। মসজিদে মসজিদে একত্রে মুসল্লিগন জামাতে নামাজ আদায় করেন। ইফতারের পর সব মসজিদে মসজিদে যিকির এর আয়োজন করা হয়। ইসলামী আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ইফতার হিসেবে খেজুর, দুধ, কেকের পাশাপাশি "ব্রিক" নামক মাংস,ডিম মিশ্রিত খাবার তিউনিসিয়া জুড়ে খুবই জনপ্রিয়।

*আলজেরিয়া -
উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়াতে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মানুষের বসবাস, যাদের ৯৭ ভাগই মুসলিম। বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই দেশে রমজান মাস অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।
রমজান মাসকে আলজেরিয়াতে বলা হয় "সিদনা রামাদ্বান" বা সর্বোচ্চ সম্মান সূচক মাস। এই মাসে দান সাদকা, সামাজিক সম্প্রীতি মুলক কাজ ছাড়াও রমজান উপলক্ষ্যে বেশি কিছু রেওয়াজ লক্ষ্য করা যায়। রমজান মাস আসার মাসখানিক আগ থেকেই সকলে চেষ্টা করে তাদের বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে। রমজানের আগে শিশু কিশোর যুবক, পুরুষরা মাথা মুন্ডিয়ে ফেলে, তারা রমজানের আগে এই মাথা মুন্ডানোকে নিজেদেরকে সংশোধনের আয়োজন হিসেবে দেখে। রমজানের শুরুতে মানুষ নতুন পোশাক ক্রয় করে বাড়ি ঘরে রঙ করে নতুন করে সাজিয়ে তোলে।
ইফতার হিসেবে আলজেরিয়াতে "তাজিনে এজিতুন " নামক খাবার বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও চিকেন তাজিনে, সবজির কেফতা, জুস, এদার বা রুটি ও প্রসিদ্ধ।
স্যুপ হিসেবে আল হারিরা, আল হিসসা ও ইফতার সামগ্রীর অন্যতম আইটেম।
সেহরীতে আলজেরিয়ার প্রধান খাবার
হল "আল বুরাক " নামক খাবার,
যা চীজ ও গোশতের কিমা মিশ্রিত। আলমন্ড, বাকলাভা, জালআবিয়া নামক খাবারো সেহরির প্রসিদ্ধ আইটেম।
আলজেরিয়াতে শিশুদের মধ্যে রোজা রাখার ব্যপকতা দেখা যায়। শিশুরা রোজা রাখলে বাড়ির অন্য সদস্যরা তাদের বিভিন্ন গিফট দিয়ে আনন্দিত করে তোলে। পুরো রমজান জুড়ে আলজেরিয়াতে ইসলামী সংস্কৃতির প্রসার ঘটে, আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা আয়োজন করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাফেজদের পুরস্কৃত করা হয়।

*মৌরিতানিয়া -
পশ্চিম আফ্রিকার মৌরিতানিয়া একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র। ইসলামী ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে মৌরিতানিয়া বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রমজান উপলক্ষে মৌরিতানিয়ায় সারা দেশ জুড়ে কুরআন তিলাওয়াতের আসর বসে। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এই দেশকে এগিয়ে রাখবে। পুরো রমজান জুড়ে মৌরিতানিয়ায় কুরআনের এবং হাদীসের ব্যপক চর্চা পরিলক্ষিত হয়। 

*সুদান-
আফ্রিকার বৃহৎ একটি দেশ সুদান মুসলিম অধ্যুষিত। ৪০ মিলিয়ন মানুষের দেশ সুদানে প্রায় ৯৭ শতাংশ মুসলিম। রমজান আসলে সুদানে অভাবনীয় দৃশ্য দেখা যায়। রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য রাস্তায় রাস্তায় মানুষ খাবার নিয়ে বসে থাকে। অপরিচিত পরিচিত রোজাদারদের নিয়ে তারা একত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ইফতার সম্পন্ন করে।
ইফতারে সুদানীরা খেজুর, দুধ, প্যানকেক, সবজিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

*নাইজেরিয়া -
নাইজেরিয়াতে জনসংখ্যার ৫০ ভাগ তথা ১০০ মিলিয়ন মুসলমানের বসবাস। নাইজিরেয়াতে মুসলমানরা দান সাদকাহ নফল ইবাদাতের মাধ্যমে রমজান পালন করেন। ইফতারে নাইজেরিয়ানরা ডিমভাজা,খেজুর, ফল, ফলের জুস, রুটিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

*পূর্ব আফ্রিকা-
আফ্রিকার পূর্বাঞ্চল তথা কেনিয়া, তানজানিয়া, সেনেগাল, সোমালিয়া,ইথিওপিয়াতে প্রচুর মুসলমান বসবাস করেন, এসব দেশে মুসলমানরা ইফতারে খেজুর, ফল ফলাদি, রুটিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এসব দেশে রমজান আসলে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে দেয়, যার ফলে মুসলমানরা মহা ভোগান্তির সম্মুখীন হন। রমজানের সময় প্রচন্ড গরমে আফ্রিকান মুসলমানরা প্রায় ১৬/১৭ ঘন্টা রোজা রাখেন।

*দক্ষিণ আফ্রিকা *-
দক্ষিণ আফ্রিকায় রমজানের শুরুতে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে চাঁদ দেখার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ভাষায় " ম্যান কাইকার" বা চাঁদ দেখার লোক তথা আলেম উলামারা কেপটাউনের উঁচু স্থান থেকে রমজানের চাঁদ দেখে রমজানের আগমনী বার্তার জানান দেন। ইফতারে খেজুর, চিকেন ফ্রাই, বিফ ফ্রাই ইত্যাদি খাবার দক্ষিণ আফ্রিকান মুসলমানরা। তারাবীহ নামাজ শেষে শরীরকে প্রাণবন্ত করার জন্য যুবক কিশোররা ফুটবল খেলায় মেতে উঠেন।

স্ক্যান্ডিনেভিয় দেশসমূহ -
স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চল বা নর্ডিক অঞ্চলের দেশসমূহ যেমন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ডে, সুইডেনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান বাস করে। গ্রীষ্মের সময় যেহুতু এই অঞ্চলে সূর্য্য অস্ত যায় না সেহুতু এই অঞ্চলের মুসলমানগন অনেক কষ্ট করেই রোজা রাখেন, গ্রীষ্মের সময় বলা যায় তারা ২২ ঘন্টাব্যাপী রোজা রাখেন। ইফতার এর কিছু পরেই তাদের সাহরী আহার করতে হয়। এছাড়া শীতকালেও তাদের প্রায় ১৯ ঘন্টা ব্যাপী রোজা রাখতে হয়। সারাবিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ রোজা রাখেন এই অঞ্চলের মুসলমানরা।


* ইউরোপ -
ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হল ইসলাম। বর্ণ বিদ্বেষ, ইসলামোফোবিয়া, দীর্ঘক্ষণ ব্যাপী রোজা এসবের মাঝেও ইউরোপের লাখো লাখো মুসলমান ভাবগাম্ভীর্যের সাথে রমজান পালন করেন। ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জার্মানী সহ পুরো ইউরোপ জুড়ে মুসলিমরা তারাবীহ, সাহরী,ইফতার, দান সাদকা, ইসলামিক কালচারাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে রমজান মাস পালন করেন।
মুসলিম অধ্যুষিত ইউরোপের দেশ আজারবাইজানে মুসলমান নারীরা রমজানের শুরুতে ব্যাগ সেলাই করে টাকা জমা করেন। পুরো রমজান জুড়ে তারা টাকা জমিয়ে ঈদুল ফিতরে তা ব্যয় করেন।
এছাড়া রাশিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়াতে মুসলমানগন বেশ আনন্দের সাথে রমজান পালন করেন৷
ইউরোপের মুসলমানদের রোজার সময়সীমা তুলনামূলক বেশি। প্রায় ১৬/১৭ ঘন্টা ব্যপী তারা রোজা রাখেন।
ইউরোপের মুসলমানগন সেহরিতে ফ্রাইড রাইস, ওটস, ইয়োগার্ট, চীজ মিশ্রিত ব্রেড
এবং ইফতারে খেজুর এর পাশাপাশি ফ্রুটস এবং জুস গ্রহণ করে থাকে।
রমজানে রাতের বেলায় ইউরোপের মসজিদগুলোতে তারাবীহ সালাতের পর ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বিদেশী স্কলারগন বিভিন্ন বিষয়ে লেকচার প্রদান করে থাকেন।
মুসলমানরা এ মাসে বিভিন্ন চ্যারিটি মুলক কাজে অংশ গ্রহণ করেন। ইউরোপের মুসলমানগন ফান্ড কালেক্ট করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, সিরিয়াতে তা প্রেরণ করেন।

* আমেরিকা -
পুরো আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে ইসলাম দ্রুত বর্ধনশীল একটি ধর্ম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্ম ইসলাম। রমজানে আমেরিকার ইসলামিক সেন্টারগুলোতে সেহরি ও ইফতারের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মুসলিমরা একসাথে সেহরি ও ইফতার করেন। রমজানকে ঘিরে নানা সংস্কৃতি চালু আছে আমেরিকায় যেমন কিডস ডে, দাওয়াহ প্রোগ্রাম,ফ্যামিলি ডে ইত্যাদি। রমজানে জুমার নামাজে মসজিদে মুসলিমরা নামাজ আদায়ের পর ইসলামিক সেন্টারে বিভিন্ন লেকচার শুনেন, ডকুমেন্টারি দেখে সময় পার করেন।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়াতে রোজার সময়সীমা সবচেয়ে কম। তারা ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা রোজা রাখেন।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মুসলিমরা ইফতারের পর সমবেত হয়ে মুসলিম কমিউনিটির সম্পর্ক জোরদার করেন।
ইফতারে আমেরিকার মুসলমানগন খেজুর, ফ্রুটস, ফ্রাইড চিকেন, দুধকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া -
প্রায় ৬ লক্ষ মুসলমানের বাস অস্ট্রেলিয়াতে। বিভিন্ন দেশ হতে আসা মুসলিমদের বিভিন্ন খাদ্যভ্যাসে অস্ট্রেলিয়াতে ইফতারে হরেক রকমের খাবার দেখা যায় ।
অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের মাঝে ইফতার হিসেবে চিকেন শর্মা সবচেয়ে জনপ্রিয়, এছাড়াও ক্যামেল বার্গার, কশারি, ব্রিসকেট, ব্রালিলা, আইসক্রীম, কফি অত্যাধিক প্রসিদ্ধ।

নিউজিল্যান্ড - নিউজিল্যান্ডের দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হল ইসলাম। প্রায় ৬০ হাজার মুসলমানের বাস নিউজিল্যান্ডে। রমজাকে স্বাগত জানিয়ে।Islamic Associations of New Zealand (FIANZ এর উদ্যোগে র‍্যালী বের করা হয়। মুসলিম কমিউনিটির উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করা হয়

লেখক -  ওয়ালি খান রাজু, শিক্ষার্থী , ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।