ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজায় উৎসবের আমেজ


ঢাবি টাইমস
Published: 2020-01-30 22:59:45 BdST | Updated: 2020-03-31 18:43:24 BdST

রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা। বিদ্যা ও জ্ঞান লাভের জন্য দেবীকে আরাধনা করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে এ পূজা পালন করা হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সরস্বতী বিদ্যার দেবী বলে ঐতিহ্যগতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এ দিনটি ভক্তি ও উৎসবের অন্যরকম আমেজ এনে দিয়েছে।

শিক্ষার্থী ছাড়াও সব বয়সের নারী-পুরুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়েছে সার্বজনীন এ উৎসবে। ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল এ পূজার কেন্দ্র বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

শীতার্থদের ত্রাণ দিচ্ছেন ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি

বৃহস্পতিবার জগন্নাথ হলে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টায় মা সরস্বতীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পুর, চন্দন দিয়ে গোসল করানো হয়। মায়ের গোসলের চরণামৃত আশীর্বাদের প্রতীক হিসাবে রাখা হয় ভক্তদের জন্য।

সকাল ৯টায় শুরু হয় বাণী অর্চনা। মন্ত্র পড়ে ধর্মীয় এ আচারে নেতৃত্ব দেন হল উপাসনালয়ের পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী।

এরপর ভক্তদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলী। এ সময় ছোট ছোট শিশুদের ‘হাতে খড়ি’ দেন পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সন্ধ্যা ৬টায় আরতি এবং রাত ৮টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ সময় পুরোহিত সাম্যকে চক-শ্লেট হাতে ধরিয়ে ‘অ, আ, ই, ঈ’ বেশ কয়েকটি অক্ষর লিখান।

ভীড়ের কারণে যারা কেন্দ্রীয় এ মণ্ডপের পুরোহিতের হাতে সন্তানের ‘হাতে খড়ি’ দিতে পারেননি, তারা সন্তানকে ‘হাতে খড়ি’ দেন হল মাঠে স্থাপিত বিভিন্ন বিভাগের মণ্ডপে।

সকাল থেকেই জগ্নাথ হলে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ও বাইরে থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জগ্নাথ হলে আসা শুরু করে।বিকেলে এ রির্পোট লিখা সময়ে জগ্নাথ হলে উপচেপড়া দর্শনাথীদের ভিড়।এখানে শুধু হিন্দুধর্মী নয় মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের লোকের সমাগম হয়েছে।

সজল ও অদিতি বলেন, “এই পূজার মাধ্যমে জ্ঞান দেবীর কাছে আমরা জ্ঞানের জন্য প্রার্থনা করলাম। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক সঙ্গে পূজা উপভোগ করছি।”

পূজাতে আসা জাকির বলেন, “সরস্বতী পূজা হিন্দুদের জন্য থাকলেও এখানে নানা ধর্মের লোক আসায় একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। আর তাই এখানে এসে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা নেই, আসলেই আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি।”

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা বলেন, “এবারে জগন্নাথ হলে মোট ৭০ টি মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যাটি ছিল ৪৯ টি। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই মা সরস্বতীর পূজা পালন চলছে। গত বারের ন্যায় এবারো অনেক লোকের সমাগম হয়েছে।”

জগন্নাথ হলের পাশাপাশি শামসুন্নাহার হল, রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, কুয়েত মৈত্রী হলে আদালাভাবে পূজা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজসহ আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে এ পূজা।

তবে পূজারী ও দর্শনার্থীদের বিবেচনায় সবচেয়ে আকর্শণীয় হয়েছে চারুকলা অনুষদের মণ্ডপ।