পুলিশকে ছাত্রলীগের ধাওয়া


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-08-14 01:06:22 BdST | Updated: 2018-11-13 10:35:13 BdST

উল্টোপথে আসা মোটরসাইকেল আটকানোর পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে একদল যুবকের ধাওয়া দেওয়ার একটি ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত ছয় যুবকের ছবি দেখে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছয় যুবকের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ দিকে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ছয় ছাত্রলীগ কর্মীকে আসামি করে নগরীর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বাদী ট্রাফিক সার্জেন্ট মাজহারুল আলম সোহাগ। আসামিরা হলেন- শিবু ভট্টাচার্য্য, মো. মেহেরাজ, জয়, এনামুল হক, ফয়সাল ও আদর।


কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন সারাবাংলাকে বলেন, পুলিশের কাজে বাধাদান ও হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা আইনানুগভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২, ৩৫৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে মেহেরাজের সঙ্গে মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয়। নগরীর মাদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মেহেরাজ মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টোপথে নিউমার্কেট এলাকায় আসেন। তার মাথায় হেলমেটও ছিল না।

নিউমার্কেট মোড়ে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মেহেরাজের বিরুদ্ধে মামলা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেরাজ তার কথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের ফোন দিয়ে নিয়ে আসে। তারা এসে নিউমার্কেট মোড় পুলিশ বক্সে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা থেকে পুলিশের টিম গেলে তাদেরও ধাওয়া দেয় তারা।


ধাওয়ার ছবি প্রকাশের পর সিএমপিতে তোলপাড় শুরু হয়। তাৎক্ষণিক তদন্তে নেমে পুলিশ ছয় যুবকের পরিচয় পেলেও মামলা দায়ের করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা দেরি করেন। ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় পাবার পরই মামলা দায়েরে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, মেহেরাজ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মেহেরাজসহ হামলাকারী তার কথিত বড় ভাইরা সবাই সরকারি সিটি কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রীক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি রাজীব হাসান রাজনের অনুসারী।

জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন সারাবাংলাকে বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় আমরা দেখছি না। পুলিশকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, সুনিদির্ষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

রাজীব হাসান রাজন সারাবাংলাকে বলেন- সিটি কলেজে ছাত্রলীগ যারা করেন, তারা সবাই আমার রাজনৈতিক সহকর্মী। ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার উদ্দেশে একটি ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবিটি ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে-একজন যুবককে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। পেছনে পেছনে আরও কয়েকজন যুবক দৌড়াচ্ছেন। এখানে পুলিশকে ধাওয়ার কোন বিষয় নেই। এটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হয়েছে।

তবে ছবিতে যেসব যুবককে দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আছে বলে স্বীকার করেছেন রাজন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।