জবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তিতে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-02-20 18:30:36 BdST | Updated: 2019-06-19 18:40:29 BdST

বেপোরোয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরার জন্য গতকাল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক প্রেস বিঙপ্তিতে জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। জবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে পদ প্রত্যাশি একাধিক নেতা কর্মী।

বিলুপ্ত কমিটির পদধারী অনেক নেতাকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাছাড়াও কমিটি বিলুপ্তের পর পরই পুরান ঢাকায় আনন্দ মিছিল করে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন সাধারণ কর্মী। এসময় তারা 'হই হই রই রই তরিকুল-রাসেল গেলি কেই' বলে মিছিল দিতে থাকে। 

কমিটি বিলুপ্ত করার পর থেকেই ফেসবুকে চলে গত কমিটির সভপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য। কেও কেও আবার তাদের গালাগালিও করেন। আশেকুল ইসলাম নামের এক ছত্রলীগ কর্মী তার ফেসবুকে লিখেছেন, জয়নুল আবেদিন রাসেল ভাই এখন আমাদের কি হবে? পদ পদবি না দিয়েই তো চলে গেলেন।

আনিসুর রহমান লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত। আমার রক্ত বৃথা যেতে পারে না। রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই। ধন্যবাদ বাংলাদেশের ছাত্রলীগের সভাপতি /সম্পাদক কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

তরিকুল ও রাসেল 

মেহেদি হাসান শুভর উক্তিটি এমন, দেখ কেমন লাগে। কর্মী রেখে চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করছিস। একটা কথা আছে না? লম্বাদের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে। শালা তোর বুদ্ধি আরও নিচে।

শেইখ তাহের লিখেন, যখন তখন ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলাম নেতা হওয়ার পর ভাবের দোচনে আমায় খেয়ে দিছিল।

শাহ জাকির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাদক সম্রাট টাওয়ারের পতন।

আশেকুল ইসলাম বলেন হতাশ হবার কারণ নেই জগসুর ভিপি হবে রাসেল ভাই! অবিলম্বে জকসু চাই স্ট্যান্ড ফর রাসেল ভাই।

মৃত্যুঞ্জয় দাস জয় নামের এক ব্যক্তি লিখেন জবি ছাত্রলীগের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ পরিষদ তরিকুল রাসেল পরিষদ।

জুবাইর হোসেন রিখেছেন লাভ ইউ ভাই স্ট্যাটাস ডিলিটের হিরিক পড়ছে। ডিলিট করার আগে স্কিনশট দিয়ে রাইখেন অনেক পুরাতন স্মৃতিতো।

আশিকুর রহমান আশিক বলেন, অবশেষে বিজয় সত্যের ই হয়। শত অত্যাচারিত হলেও আজ আমরা সফল। জেল বহিষ্কারের পর আজ আমরাই সফল । আমরা বেইমান না বেইমান ছিলো নেতা। তার বেইমানির ফল আজ পেয়ে গেছে।

সাজিদুল নাইম লিখেছেন, আমার জীবনের ২৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট কেড়ে নিয়েছিলেন, ভালো থাকবেন।

উল্লেখ্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল,যা সোমবার বিশাল আকার ধারন করে। স্থগিত কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি গ্রুপের কর্মীরা ওইদিন একত্রিত হয়ে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে লাঠি সোটা, চাপাতি, হাতুড়ি নিয়ে অবস্থান নেয়। দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে হামলার স্বীকার হয় ৭ জন সাংবাদিক সহ মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টার সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের বহিষ্কার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক জোট মানববন্ধন করে। মানববন্ধন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির সহায়তায় ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র সহ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে মানব বন্ধন শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক জোট উপাচার্য বরাবর সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং আরও বলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে তারা আরও কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।